উয়েফা ইউরোপা লিগ

শিরোপা লড়াইয়ে বেনিফিকা-সেভিয়া

জুভেন্তাসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গত ৫২ বছরে প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখলো বেনিফিকা। নিজেদের মাঠে সেমিফাইনালের প্রথম লেগের জয়ের সুবাদে ইউরোপা কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে পর্তুগীজ চ্যাম্পিয়নরা। এদিকে শ্বাসরুদ্ধকর অন্য ম্যাচে শেষ মিনিটের অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে অল স্প্যানিশ সেমিফাইনালে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেও ফাইনালে পা রেখেছে সেভিয়া। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ২-১ গোলের জয়ের সুবাদে দ্বিতীয় লেগে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানেই ছিল বেনিফিকা। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে গোল দেয়ার সুবাদে ভাল সুযোগ ছিল জুভেন্তাসের সামনেও। জুভেন্তাস স্টেডিয়ামে গত বৃহস্পতিবার ১-০ ব্যবধানে জিতলেই চলতো তাদের। আরতুরো ভিদালকে আপাত নিরীহ এক ফাউল করে ৬৭ মিনিটে বেনিফিকার এঞ্জো পেরেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে সেই কাজটা আরো সহজ হয়ে যায় স্বাগতিকদের জন্য। একের পর এক আক্রমণে বেশ কয়েকবারই সেই সুযোগের কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল কার্লোস তেভেজের দল। কিন্তু সিরি এ শিরোপার কাছাকাছি থাকা দলটিকে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় হতাশা নিয়েই। প্রথম লেগে জয়ের পর দ্বিতীয় লেগে প্রতিপক্ষকে জয় বঞ্চিত রাখতে পেরে ম্যাচ শেষে স্বভাবতই দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন বেনিফিকা কোচ জর্জ জেসাস। তিনি বলেন, ‘বেনিফিকা শ্রেয়তর দল হিসাবেই ফাইনাল খেলছে। কারণ জুভ’র চেয়ে লিসবন এবং তুরিন, দুই জায়গাতেই আমরা ভাল খেলেছি। জুভেন্তাস ভাল দল সন্দেহ নেই। কিন্তু রক্ষণাত্মক কৌশলে এগিয়ে ছিল বেনিফিকাই। প্রথম লেগের জন্য আমরা এগিয়ে ছিলাম আর দ্বিতীয় লেগে বল পায়ে তাদের প্রতিটি নড়াচড়া আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।’ সেই ১৯৬২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জেতার পর সাতবার ইউরোপিয়ান কোন প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলেও প্রতিবারই শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে মাত্র ক’দিন আগে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করা বেনিফিকাকে। এদিকে, মেস্তালায় রাতের অন্য সেমিফাইনালে আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক দারুণ প্রদর্শনীই দেখেছেন দর্শকরা। সেভিলার মাঠে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারের ব্যবধান ঘোচাতে ম্যাচের শূরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ছিল ভ্যালেন্সিয়া। ফেগৌলির গোলে ম্যাচের ১৪ মিনিটেই এগিয়েও যায় তারা। আট মিনিট পরেই বেনিফিকা গোলরক্ষক বেতোর আত্মঘাতি গোলে দ্বিগুণ হয় ব্যবধান। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ২৫ মিনিটে ম্যাথিউ যখন দলকে তিন গোলের অগ্রগামিতা এনে দেন তখন মনে হচ্ছিল ফাইনাল খেলছে ভ্যালেন্সিয়াই। কিন্তু ম্যাচের ৯৪তম মিনিটে ফেদেরিকো ফ্যাজিওর লম্বা থ্রোকে দারুণ এক হেডে জালে জড়িয়ে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন মোবিয়া। একই সঙ্গে জুভেন্তাস স্টেডিয়ামে আগামী ১৮ মের ফাইনালেও দলকে পৌঁছে দেন তিনি।