ওয়ানডে ছাড়ার ইঙ্গিত সাঙ্গাকারার

তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাধ্যমে ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটটিকে বিদায় জানিয়েছিলেন শ্রীলংকান তারকা কুমার সাঙ্গাকারা। এবার আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাওয়া গেল একই রকম ইঙ্গিত। সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়েই ৫০ ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন সাবেক এই লঙ্কান অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলংকার সিরিজের আগে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বর্তমান কাউন্টি চ্যাম্পিয়ন দল ডারহামে খেলতে গেছেন ৩৬ বছর বয়সী সাঙ্গাকারা। সেখানে প্রস্তুতির সময় বার্তা সংস্থা এএফপিকে সাঙ্গাকারা জানিয়েছেন নিজের অবসর ভাবনার কথা,‘ওয়ানডে ফরম্যাটে ২০১৫ বিশ্বকাপই হয়ত আমার শেষ অ্যাসাইনমেন্ট হতে পারে। আর টেস্ট ক্রিকেটে এখনো আমার সামনে কয়েকটি সিরিজ রয়েছে। মূলত দেশে ফিরে নির্বাচক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। চলতি বছরের শেষে আমার বয়স ৩৭ হবে। একটি বিষয় আমি পুরোপুরি অবগত যে সময় হয়ে গেলে হয় নিজেকেই সরে আসতে হয় অথবা অন্য কেউ বলে দেয় তোমার যাবার সময় হয়েছে’। ৩৬ বছর বয়সী সাঙ্গাকারার কল্যাণে ভারতকে হারিয়ে শ্রীলংকা সদ্যসমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল। ফাইনালে দলের হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে সাঙ্গা অপরাজিত হাফ-সেঞ্চুরি করেন। অবসরে যাওয়া সাবেক তারকা সনাথ জয়াসুরিয়ার পরে ওয়ানডেতে শ্রীলংকার হয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী সাঙ্গাকারা ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন। ৩৬২ ম্যাচে ওয়ানডেতে ৪০.৩৯ গড়ে তার সংগ্রহ ১২,২৪১ রান। আর টেস্টে ৫৮ গড়ে তার সংগ্রহ ১১,১৫১ রান। এছাড়া তিনি খেলেছেন ২০০৭ ও ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। ওয়ানডের ইতিহাসে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীদের তালিকাতেও সাঙ্গাকারা আছেন চতুর্থ অবস্থানে। তার সামনে জয়াসুরিয়া ছাড়া বাকি দু’জন হলেন শচিন টেডুলকার ও রিকি পন্টিং। অবসরের পরে কোচিং ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ইঙ্গিত এর আগেই দিয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। কিন্তু এখনই মূলত এসব বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। অভিষেকের পর থেকে দিন গড়ানোর সাথে সাথে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে সাথে নিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের প্রতীক। সাঙ্গা বলেন,‘আমি এখনো খেলাটাকে উপভোগ করছি এবং শ্রীলংকার জার্সি গায়ে মাঠে নামছি। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সত্যিই দারুণ ভাগ্যবান। এখানে বেতনও অনেক বেশি এবং বিশ্বের অনেক দেশে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। আমি বিষয়টাকে দারুণ উপভোগ করছি। আমার কারও প্রতি কোন অভিযোগ নেই।’ এছাড়া সামপ্রতিক সময়ে শ্রীলংকার ক্রিকেট দলের কোচ পল ফারব্রেসের বিদায়কে দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় একটা ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন সাঙ্গাকারা, ‘আসলে পলের বিদায় আমাদের জন্য বড় একটা ধাক্কা। গত কয়েক বছর তার সাথে আমরা ছিলাম। এর আগে ট্রেভর বেইলিসের অধীনেও সে কাজ করেছে। এই সময়টা আমাদের জন্য বেশ উপভোগ্য ছিল। শ্রীলংকার ক্রিকেটের ধরনটাও বেশ ভালভাবেই বুঝে ফেলেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটাতো আমরা তার কারণেই জিতেছি বলা যায়।’