ফ্যাশনের রানি
প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৪, ২০:২১
চলতি বাজারে ফ্যাশন ম্যাগাজিন ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় ব্যবসা বলা চলে। এর মাঝে হঠাত্ করে আসা ‘মিস ও অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামের ম্যাগাজিনটা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে সেটা কেউ কল্পনাই করতে পারেনি। এই ম্যাগাজিনের প্রথম সংস্করণ বুকস্টোর সেলভ নিয়ে আসে আমেরিকান বাজারে। ফ্যাশন জগতটাকে ঘিরে তীব্র একটা আগ্রহ এই তরুণীকে নিয়ে এসেছে ফ্যাশন জগতে। এই ম্যাগাজিন বিষয়ক সাইটটির জন্ম দিয়েছেন প্রতিভাবান জুলিয়েট। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
জুলিয়েট মাত্র ২০ বছর বয়সে ব্যবসার জগতে পথচলা শুরু করেন ‘মিস ও অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামের একটি সাইটের হাত ধরে। তিনি সেই সময় ওয়াশিংটনের সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন। তিনি তার বান্ধবীদের সাথে ঘোরাঘুরি করতে অনেক পছন্দ করতেন। একবার এক বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে তারা গিফট কিনতে গিয়েছিলেন। পছন্দ করেন বারবি পুতুলগুলো। সেখান থেকেই মূলত এই সাইটের আইডিয়া আসে তার মাথায়। বারবি পুতুলের জগতটা তাকে বেশ নাড়া দেয়। দোকানে মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের পছন্দ অনুযায়ী বারবি পুতুলগুলোকে সাজানো হয়েছে। সেগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি একটি অনলাইন ম্যাগাজিন সাইট প্রকাশ করার কথা ভাবেন। সেই সাইটে সব বয়সী মেয়েরাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। সেখানে তারা তাদের ফ্যাশন, পছন্দ, স্টাইল সম্পর্কে অন্যদের জানাতে পারবে অর্থাত্, তাদের সবকিছু শেয়ার করতে পারবে। জুলিয়েট এরপর তার বন্ধুদের সাথে ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারাও উত্সাহিত হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তারা এমন একটি সাইট দাঁড় করানোর মতো তথ্য ও আয়োজন করে ফেলেন। এরপর শুধু একটি কাজই বাকি থাকে। সেটা হলো, গ্রাফিক ডিজাইন। সেই কাজটি তার ডিজাইনার মা করে দেন। তিনি একটি কোম্পানিতে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতেন। এরপর জুলিয়েট কিছু চেনা ক্যারেকটার তৈরি করেন তাদের সাইটের জন্য। এরমধ্যে হার্লি, ইসাবেলা, জাস্টিন প্রভৃতি স্থান পেয়েছে। নিজেকে এই জগতের সাথে আরও সম্পৃক্ত করার জন্য জুলিয়েট আর তার বন্ধুরা নিয়মিত ফ্যাশন শোগুলোতে যান, এমনকি ফ্যাশন কমিউনিটির সাথেও যুক্ত হন। এ বিষয়ক কোনো অনুষ্ঠান হলে তিনি বাদ দেন না, সবগুলোতেই থাকার চেষ্টা করেন আরও বেশি অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য। এ নিয়ে তিনি বলে, ‘অন্যরা এই সময়গুলোতে, মানে স্কুলের পরে, টিভি দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর আমি ব্যস্ত থাকি বিভিন্ন সেমিনার নিয়ে।’ তিনি তার ম্যাগাজিন নিয়ে আরও বলেন, ‘এখন আমি বিক্রির মুডে আছি। আমার ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা ভাড়া দিচ্ছি।’ তিনি নিজেও তার ম্যাগাজিনের সাফল্য নিয়ে এতটা আশা করেননি কখনও। জুলিয়েটের জন্ম নিউ জার্সির ভোর্সি শহরে। তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হলো, তিনি কলেজে যাবেন এবং পাবলিক রিলেশনের উপর পড়াশোনা করবেন। সেই সাথে তার এই অনলাইন ম্যাগাজিনের কাজ পড়াশোনার পাশাপাশি চলতেই থাকবে। ২০১০ সালে এই অনলাইন ম্যাগাজিনের ঝুলিতে এসেছে আরও সাফল্য। এই ম্যাগাজিনের কথা ইউটিউবেও প্রচার পেয়েছে। বিশ্বের বড় বড় সেলিব্রেটিদের ইন্টারভিউসহ ফ্যাশন সম্পর্কিত আরও অনেক খবরই এতে রাখা হয়, ফলে জনপ্রিয়তাও বেশি পেয়েছে তার সাইটটি। তার ক্যারিয়ারের এখানেই শেষ নয়। তিনি বেশকিছু টেলিভিশন প্রোগ্রামে হোস্টিংয়ের কাজ করেছেন। সেগুলোতে তিনি কো-হোস্ট আর্টিস্ট হিসেবে ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই লিখতে পছন্দ করতেন তিনি। সেসময় থেকেই মোটামুটি এই বিষয় সম্পর্কে তার আগ্রহ জন্মে। সেই সম্পর্কে নিজেই মন্তব্য করেন, ‘আমি এ ফ্যাশন জগতটা নিয়ে ভাবি, কারণ আমি ক্রিয়েটিভ এই জগতের প্রেমে পড়ে গিয়েছি।’