তরুণ সমাজ কি হতাশ

জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণেতরুণ সমাজ আজ হতাশ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হল, জনগণের জান-মালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা হরণ করাই হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কর্তব্য। আজকে খেটে খাওয়া মজুর থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মচারী পর্যন্ত কেউই নির্বিঘ্নে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে পারে না। সবাই গুম-খুনের আতঙ্কে ভুগতে থাকে। আর এই সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোন আশু বিচার না হওয়ায় অপরাধকারীরা নির্বিঘ্নে তাদের এই অপকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে। আবার এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে একদল অন্য দলের উপর দোষ চাপায়। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় না। যার ফলে প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটে থাকে গুম, অপহরণ ও খুনের মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যা দেখে তরুণ সমাজ হতাশার অতল সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে। তাই যতদিন পর্যন্ত এইসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হবে ততদিন পর্যন্ত তরুণ সমাজ তথা গোটা জাতিকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়েই দিন কাটাতে হবে। আর এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। মো. রুবেল আশওয়ান বিবিএ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এক তৃতীয়াংশ তরুণ আজ হতাশাগ্রস্ত কোন এক টিভি চ্যানেলে বিশিষ্ট একজনের সাক্ষাত্কারে বলতে শুনেছিলাম পঞ্চাশ থেকে আশির দশকের সময়কালে কোন চায়ের স্টল কিংবা হোটেল অথবা কোন পাড়ার মোড়ে যখন কয়েকজন তরুণ একত্রে দাঁড়িয়ে কথা বলত তখন তাদের সেই কথা অধীর আগ্রহ নিয়ে শোনার জন্য পথচারীরা থমকে দাঁড়িয়ে যেতেন। এমন কি সেই গুটিকয়েক তরুণের চলমান কথা পরিবারের অন্যান্যদের সাথে নির্দ্বিধায় আলোচনা পর্যন্ত করা হতো। অথচ, বর্তমান সময়ে এক সাথে গুটিকয়েক তরুণ-তরুণী কোথাও জটলা করে দাঁড়ালেই অনেকের কাছেই আজ আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন এই আতঙ্ক ? সেই আতঙ্কের জন্য কি আমাদের তরুণ সমাজ দায়ী? মোটেও না। বেশ কিছু বছর ধরে রাজনৈতিক যে অরাজকতা চলছে তাতে করে রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু তরুণদের ব্যবহারের ফলেই আজ সর্বসাধারণের মনে সেই ভয়ভীতি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে একজন তরুণ-তরুণী তাদের সর্বোচ্চ শিক্ষা সমাপন ঘটিয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এর জন্য দায়ী আমাদের চাকরি প্রদানের সঠিক ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে মেধা, যোগ্যতা, সম্ভাবনা সব কিছু চলে যাচ্ছে গুটিকয়েক এলিট শ্রেণির উত্তরাধিকাদের হাতে। এর ফলে এরকমই সামগ্রিকভাবে বর্তমানে এক-তৃতীয়াংশ তরুণ সমাজ আজ হতাশাগ্রস্ত। মজিবুল ইসলাম মানবিক শাখা (দ্বিতীয় বর্ষ) রংপুর কারমাইকেল কলেজ, রংপুর। তারুণ্যের উদ্যম ফিরে আসবেই তারুণ্য, অমিত শক্তির উত্স। তাদের হাতেই সভ্যতার সূচনা। তরুণদের কাঁধে ভর করেই এগিয়ে চলছে পৃথিবী। যত ক্লান্তি, দুঃখ, গ্লানি রয়েছে তা দূরীকরণে অগ্রপথিক বরাবরই তরুণেরা। যদিও আগের সেই গতি তেমনভাবে পরিলক্ষিত হয় না তরুণদের মাঝে। তারা আজ যেন ছন্দহীন হয়ে পড়েছে। আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য তাদের মাঝে অনুপস্থিত। সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তরুণদের একতা যেন আজ স্তিমিত হয়ে পড়েছে। আজ তরুণেরা নিজেদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। যদিও এটা তাদের আসল রুপ নয়। তাদের এই ঝিমিয়ে পড়া উদ্যমকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। নতুন উত্সাহে জাতির কান্ডারীদের এগিয়ে আসতে হবে সমাজ সংস্কারের জন্য। তাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারাকে অব্যাহত রাখতে এখনই কাজে নেমে পড়তে হবে। আবিদা সুলতানা, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। নেশামুক্ত তরুণ সমাজ চাই তরুণ সমাজের উপর দেশের ভবিষ্যত্ অনেকটাই নির্ভর করে। তরুণ সমাজ হতাশ হলে একটি জাতি কখনই উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে পারে না। দেশের জন্য তরুণরা সবসময় ত্রাণকর্তারূপে আবির্ভূত হয়। কিন্তু দিন দিন এ যান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তরুণরা অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছে। তরুণ সমাজ এখন একা একা থাকতে পছন্দ করে। তাদের জীবন আজ ফেসবুক টুইটারের মাঝে সীমাবদ্ধ। একাকীত্ব জীবন ব্যবস্থায় তারা পরিবারের সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, প্রেম-ভালবাসায় জড়িয়ে পড়ছে, বন্ধু-বান্ধব থেকে সম্পর্ক শিথিল হয়ে পড়ছে। এভাবেই তারা বাস্তব জীবন ব্যবস্থা থেকে নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, বিচ্ছেদের কষ্টে নেশাই তাদের পরম বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংস হচ্ছে তরুণ সমাজ। তাই তরুণ সমাজকে হতাশার বেড়াজাল থেকে সরে এসে নেশামুক্ত সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে হবে। ফিরোজা আখতার কৃষি অনুষদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।