কোচের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত আজ
প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৪, ২১:৫০
শেন জার্গুনসেন, নাকি অন্য কেউ? দেশি কেউ, নাকি বিদেশি কোনো কোচ? আগে বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন এমন কেউ, নাকি একেবারে নতুন মুখ? উপমহাদেশের কোনো তারকা, নাকি বাইরের কোনো অ্যাকাডেমিক কোচ?
চাইলে এই প্রশ্নমালাকে আপনি টেনে টেনে পরমাণু শৃঙ্খলের মতো বড় থেকে বড়, আরও বড় করে ফেলতে পারেন। তবে তাতে প্রধান প্রশ্নটা বদলাবে না—২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ থাকবেন কে?
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে আসলে অনেকগুলো ধাপের ভেতর দিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে। প্রথমত নিশ্চিত হতে হবে যে, পদত্যাগী কোচ শেন জার্গুনসেন আসলেই জুন মাসের পর আর দায়িত্বে থাকছেন না। তারপর বোর্ডকে নীতিগত সিদ্বান্ত নিতে হবে, তারা কোন ধরনের, কোন এলাকার কোচ চান। এরপরই ঠিক হবে নতুন কোচের নাম। আর এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বড় কয়েকটি ধাপ আজই শেষ করে ফেলতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আজ বিসিবির নির্ধারিত সভা আছে। স্বভাবতই সেখানে কোচ বিষয়ে আলোচনাই মূল গুরুত্ব পাবে। বোর্ডের কাজ যাতে সহজ হয়, সে জন্য নির্ধারিত সভার আগে আরেকটা কাজ সকালেই এগিয়ে রাখার কথা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের। সকালে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন জার্গুনসেনের সঙ্গে। সেখানে জার্গুনসেনের মনোভাবটা নিশ্চিত হলে তবে বোর্ডে নতুন কোচের ব্যাপারে আলোচনাটা জমবে।
জার্গুনসেনের সঙ্গে আলোচনাটা আসলে এখন কাগুজে ব্যাপারের চেয়ে বেশী কিছু মনে হচ্ছে না। বোর্ডের মধ্যে যদিও তাকে পীড়াপীড়ি করে রেখে দেয়ার একটা মত আছে; তবে সেটা সংখ্যালঘিষ্ঠের মত। সভাপতিসহ বেশীরভাগ পরিচালকই এই পদত্যাগী কোচকে জুনের পর আর রাখতে চান না। এদিকে জার্গুনসেনের তরফেও থাকার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। গতকালই একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানা গেল, অভিমান-টান কিছু নয়; জার্গুনসেন আসলে নিজের দেশে একটি ভালো চাকরির প্রস্তাব পেয়ে গেছেন। ফলে তিনি পীড়াপীড়ি করলেও থাকছেন না।
সে ক্ষেত্রে আলোচনাটা অনেক সহজ হয়ে এলো—কে হবেন নতুন কোচ?
যদিও বোর্ড সভাপতি দেশি কোচ নিয়োগের সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেননি; তবে তার পরিচালকরা ২০১৫ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশি কোচ নিয়োগের ঝুঁকি নেয়ার পক্ষে বেশীরভাগই নন বলে জানা যাচ্ছে। দেশি কোচ নিয়োগ হলে আলোচনাটা মূলত সাবেক অধিনায়ক, দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরেই হবে। বুলবুলকে নিয়ে বোর্ডের অনেকের আগ্রহও আছে। এদিকে বোর্ডেরই পরিচালক, জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ ও অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন নিজেও কোচ হতে আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে। তার মানে, দেশি কোচ নিয়োগ হলে সে পদে ইতিমধ্যে দু’জন সাবেক অধিনায়ককে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এক বোর্ড পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, ‘দেশি কোচ নিয়োগের সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিচালকরা পাস করবেন বলে মনে হয় না। তবে হ্যাঁ, আলোচনায় থাকা এদের কাউকে কাউকে দলের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা হিসেবে বা বিশেষজ্ঞ কোচ হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হতে পারে। এটা বলতে পারেন যে, আপনি একাধিক বিশেষজ্ঞ কোচ খোঁজ করছেন, সেখানে স্থানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।’
জার্গুনসেন ও দেশি কোচ বিবেচনা থেকে বাদ গেলে বিসিবিকে বেশ বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে। তখন তাদের কোচ পাওয়াটা কঠিন হবে। ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ, জিম্বাবুয়ের তারকা অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে নিয়ে কারও কারও আগ্রহ থাকলেও তিনি পাকিস্তান দলের সঙ্গে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন। আবার ডেভ হোয়াটমোর ও জেমি সিডন্স তাদের পুরোনো অভিজ্ঞতার কারণে প্রস্তাব নেবেন কি না, সন্দেহ আছে।