[ আ ন্ত র্জা তি ক ]
মোদিই কি হতে যাচ্ছেন ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?
প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৪, ২১:১৮
ভারতের লোকসভা নির্বাচন প্রায় শেষের দিকে। আমরা জানি ৭ এপ্রিল ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়েছে, নয় ধাপে এ নির্বাচন শেষ হবে ১২ মে এবং ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৬ মে। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গোটা দুনিয়ার দৃষ্টি এখন নিবদ্ধ ভারতের এই ষোড়শতম লোকসভা নির্বাচনের দিকে। বিভিন্ন জনমত জরিপ, মিডিয়ার খবর এবং এ পর্যন্ত নির্বাচন ও নির্বাচনী দলগুলোর প্রচারণ থেকে জানা যাচ্ছে যে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ দামোদরদাস মোদিই ভোটযুদ্ধে এগিয়ে আছেন। বিজেপি ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তাদের দলের প্রচারের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তা দশ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে বলে কংগ্রেস দাবি করছে। একমাত্র দিল্লিতেই বিজেপি নির্বাচনী অফিস খুলেছে ৩০০। এ থেকেই অনুমান করা যায় কোনদিকে যাচ্ছে ভারতের নির্বাচনী ফলাফল।
গত ৮ মার্চ হাওড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা ও ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন তৃণমূল নেতা মুকুল রায় এবং ফিরহাদ হাকিম। মুকুল জানান- ফুরফুরা শরিফের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময় হাওড়া-ফুরফুরা শরীফ পর্যন্ত রেললাইন তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে মমতার হয়ে মুসলিমদের কাছে ভোট চেয়েছেন কলকাতার টিপু সুলতান, মসজিদের ইমাম বরকতি। এদিন কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী ও কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরীও ফুরফুরা শরিফে গিয়ে দোয়া চেয়েছেন। তিনি ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। অবশ্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের রেল প্রতিমন্ত্রী জানান, কোন রাজনীতি করতে তিনি সেখানে যাননি। ফুরফুরা শরিফের উন্নয়নের জন্যই সেখানে গেছেন তিনি। তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি এবং বশিরহাট এলাকায় দলের মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী দাবি করেন রাজ্যের ৩০ শতাংশ মুসলিমই এখন মমতার পক্ষে কথা বলছে। তাদের দল ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের ঢালাও সুবিধা দিয়েছে। সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা বীমা এবং কর্মসংস্থানের জন্য লোন পাচ্ছে। মমতা সরকারি চাকরিতেও সংখ্যালঘুদের জন্য কোটা রেখেছেন। বামফ্রন্টের শীর্ষনেতা এবং সাবেক মন্ত্রী মোর্তজা হোসেন জানান, এবারের লোকসভায় বামফ্রন্ট ১০ জন মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। আইনসভায় তারাই সংখ্যালঘুদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলমান বাস করে উত্তর প্রদেশে। কেন্দ্র সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এই রাজ্যের ভূমিকা বরাবরই ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই সেখানে মুসলমানদের ভোটের প্রতি নজর প্রায় সব দলেরই। এককালে কংগ্রেসের সমর্থক মুসলমানদের ভোট আনুগত্য এখন নানা দলে বিভক্ত। এরপরও নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতায় তারা কিন্তু এবার অনেকটাই একাট্টা, আবার মুজাফফরনগরে দাঙ্গার জন্য অনেকে ক্ষুব্ধ শাসক দল সমাজবাদী দলের প্রতি। নরেন্দ্র মোদির গায়ে ২০০২ সালের দাঙ্গার সিল লেগে আছে বলে মুসলমানরা এবার ট্যাকটিক্যাল ভোটিংয়ের দিকে যাচ্ছে। যেখানে যে প্রার্থী বিজেপিকে হারানোর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী, তাঁরা তাঁর দিকেই ঝুঁকছে। দাঙ্গার কারণে কংগ্রেস আশা করছে রাজ্যে তাদের পুরনো বন্ধু মুসলমানরা আবারও তাদের পাশে দাঁড়াবে। একই অং্ক কষছে মায়াবতীর দল বহুজন সমাজবাদী পার্টিও। ফলে সমাজবাদী পার্টি গত কয়েক বছরে রাজ্যের মুসলিম ভোটের সিংহভাগ পেয়ে এসেছে তা সম্ভবত এবার পাচ্ছে না । উত্তর প্রদেশের অ্যাডভোকেট জেনারেল ও ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য জাফরাইয়ার জিলানি বলেন- যে দলই তাদের ভোট পাক, রাজ্যে মুসলমানদের প্রধান লক্ষ্য একটিই। আর তা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রার্থীকে তারা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেতে চাচ্ছেন না। গোটা ভারতে এবং বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান সমাজকে আজও দেখা হয় একটি ভোটব্যাংক হিসেবে। শুরু থেকেই তাই হয়ে এসেছে। এই ভোটব্যাংক সরাসরি মুসলিমদের কোন কাজে আসেনি। কারণ রাজনীতি এক জিনিস আর গণতন্ত্র অন্য জিনিস। গণতন্ত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীন মত, ভাবনা এবং ইচ্ছে অনুযায়ী ভোট দেয়ার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু রাজনীতির কারণে মুসলমানরা ভারতে তা কখনো পায়নি। কাজেই মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশের শিরোনাম নেয়া তারা আর সেভাবে পছন্দ করছেন না।
রাহুল গান্ধী বেশ জোরে-শোরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নির্বাচনী আলোচনা শুরু করেছেন। অন্যদিকে কেজরিওয়ালে দলের দুর্নীতিবিরোধী লড়াই সফল হলে তাতে অর্থনীতির গতি ফিরে আসবে, এমনটা আশা করেছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। তবে বিবিসি বলছে- গত ৫ বছরে মোদির জনপ্রিয়তা যেহারে বেড়েছে সেটি বিস্ময়কর। এ সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ১৮.৮ থেকে বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। টাটা কোম্পানী যখন পশ্চিমব্ঙ্গে শিল্প স্থাপন করতে পারলো না, তখন মোদি তাদের জায়গা ও সুযোগ করে দিয়েছিলেন, সেই অবধি ব্যবসায়ীরা মোদিকে দারুণ পছন্দ করছে। আর এটি বিজেপির জন্য অত্যন্ত পজিটিভ একটি বিষয়। নির্বাচন শুরুর আগে স্যাটেলাইট চ্যানেলে সিএনএন আইবিএনের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নরেন্দ্র মোদির জনসমর্থন কিছুটা কমলেও এখনো তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। ভারতের ৬টি রাজ্যের চালানো এ জরিপে দেখা যায় ৩১ শতাংশ মানুষ এখনো মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। আর রাহুল গান্ধীকে দেখতে চায় মাত্র ১৩ শতাংশ, সোনিয়া গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মায়াবতী ও মোলায়েম সিং-এর পক্ষে দেখা যায় মাত্র ৪ শতাংশ সমর্থন, মনোমোহনের পক্ষে ৩ শতাংশ। এই অংক অবশ্য এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। তারপরেও মোদিই সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে চরমভাবে হিন্দুত্ববাদী এবং অন্য ধর্মবিদ্বেষী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি কিভাবে বা কেন এগিয়ে আছেন? এ প্রশ্নের কিছু উত্তর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বের করেছেন। প্রথমত. চরম সাম্প্রদায়িক ও গোঁড়া হিন্দু হিসেবে প্রচার পাওয়া মোদির মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে গুজরাটের বাণিজ্যিক বিকাশ। তাঁর গত ১৩ বছরের শাসনামলে গুজরাট ভারতের সবচেয়ে বিকাশমান রাজ্যে পরিণত হয়েছে। গত আধা দশকে ভারতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা কোটিপতি শ্রেণী ছাড়াও প্রচুর বিদেশি প্রতিষ্ঠান গুজরাটে বিনিয়োগ করার জন্য অপেক্ষায় আছে।
দ্বিতীয়ত. গত দশ বছরে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের শাসনামলে আন্তর্জাতিকভাবে ভারত নিজেকে বিশেষ গুরুত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জনে অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও এর সংগে জড়িত শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস খুব একটা আশাবাদী হতে পারছে না। আর এই খালি জায়গাটিই দখল করছে মোদি তথা বিজেপি। তৃতীয়ত. দীর্ঘকাল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শাসনব্যবস্থার ফলে সবক্ষেত্রে যে ধরনের স্থবিরতা এসেছে তার পরিবর্তন প্রয়োজন। মানুষ সবসময়ই পরিবর্তন চায়। জনগণ হয়তো ভাবছে কংগ্রেসকে কিছুদিন একটু বিশ্রামে থাকা দরকার। জনগণের এই পরিবর্তনের ভাবনায় হয়ত ঢুকে পড়েছে বিজেপি। তাছাড়াও ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে কিছু পরিসংখ্যানও হয়ত জনগণকে বোঝাতে পেরেছে যে কংগ্রেসকে কিছুদিন ক্ষমতা থেকে দূরে থাকতে হবে। ২০০৪ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ভারতে যেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার মোট জনগোষ্ঠীর ২৭.৫ শতাংশ অর্থাত্ ৪০ কোটি ছিল, ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭.০২ শতাংশ। ২০১৩ সালের বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বলছে যে, বিশ্বের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর তিন ভাগের দুই ভাগ বাস করে ভারতে। ভারতে প্রতিদিনি ৫ হাজার শিশু ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে মারা যায়। ১৮ লাখ শিশু ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যায় (ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ৮ সেপ্টেম্বর ২০১০) । অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই পিছিয়ে পড়ার কারণের পেছনে কংগ্রেসের রাষ্ট্রপরিচালনায় দুর্বলতার কথা একেবারে অস্বীকার করা যায় না। তবে একথাও সত্য যে দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কংগ্রেসের প্রতি জনগণের যে অগাধ আস্থা এখনও রয়েছে, বর্তমান অবস্থা অর্থাত্ ‘মোদি জোয়ার’ সাময়িক ব্যাপার মাত্র। মোদি সম্পর্কে বিভিন্ন দিক, সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছাপা হচ্ছে ভারতীয় ও বিদেশি পত্র-পত্রিকায়। মোদি ক্ষমতায় ভাবতেই আমরা আতংক বোধ করছি। তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল বড় ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠ, সম্পদশালী করবে ও ক্ষমতাবানদের হাতে চলে যাবে জনগণের সম্পদ। গরিবদের অবস্থা হবে শোচনীয়।’ একটি খোলা চিঠিতে মোদির সমালোচনা করেন যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড ও লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সের মতো নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৭৫ জন অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ। যুক্তরাজ্যের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় এটি প্রকাশিত হয়েছে। আরএমএস ও সংঘ পরিবারের মতো হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি জড়িত এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গভীরভাবে যুক্ত। চিঠিতে আরও বলা হয় মোদির দলের সরকার ক্ষমতায় এলে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হবে। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গে বলা হয় ওই সহিংসতায় অন্ততপক্ষে একহাজার মুসলিম নিহত হয়। মোদির শাসনকালে ওই সহিংসতা ঘটে । তাঁর অনুমোদন ও উস্কানিমূলক ভূমিকার বিষয়ে সরকারি ও পুলিশ কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ধর্মীয় হিন্দুত্ববাদকে তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। হিটলারের ইহুদী বিদ্বেষ প্রচারের মতো তিনি বাংলাদেশি বিদ্বেষের আবরণে মুসলিম বিদ্বেষ প্রচার করেছেন। হিটলার ডুমন জার্মান ইহুদীদের জার্মানী ত্যাগে বাধ্য করেছিলেন, মোদি তেমনি ঘোষণা করেছেন তিনি ক্ষমতায় এলে ভারতে আগত বাংলাদেশিদের তার দেশ থেকে বিতাড়ণ করবেন। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও একই ভাষায় কথা বলছেন যে, মোদি ক্ষমতায় এলে উগ্রবাদী হিন্দুরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর আঘাত হানতে পারে এবং মুসলিমদের আশংকার যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। ভারতের ১৮ কোটি মুসলমান আতংকে আছেন। কারণ মোদি পুনরায় সেই রাম মন্দির ইস্যুটি তুলেছেন। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। নিহত হয়েছিলেন সহস্রাধিক লোক। নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বহু নারী, পুরুষকে। গুজরাটে এমনকি গর্ভবতী মহিলাদের পেট কেটে বাচ্চা বের করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিলো। বিশ্বের বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ কি আবার একই চিত্র দেখতে চায়? এ প্রশ্ন গণতন্ত্রমনা সব মানুষের। বাংলাদেশে যেখানে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য জোর চেষ্টা চলছে, ভারতে সেখানে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের দিল্লির মসনদ দখল করা কিভাবে মেনে নেবে ভারতের জনগণ?
লেখক :আন্তর্জতিক বিশ্লেষক
ইমেইল: masumbillah65@gmail.com