গতকাল বুধবার জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় চমক দেখালেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। যাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে, আওয়ামী লীগের এমন কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গতকাল তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৬১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এতে ওসমান পরিবারের সাথে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা দেয় দীর্ঘদিন ধরে ওসমান পরিবারের হয়ে রাজনীতি করা আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার সাথে। তিনজন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে তাদের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। শামীম ওসমানের কোনো প্রোগ্রামে দীর্ঘদিন এই তিনজনকে দেখা যায়নি। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সাথে জেলা পরিষদের নির্বাচনের আগে শামীম ওসমানের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবারও তাদের ‘বিচ্ছেদ’ ঘটে; কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সবাইকে এক কাতারে দেখা গেলো গতকাল। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটা ছিল রীতিমত চমক। সবাইকে একমঞ্চে দেখে এইসময় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। সবাই বলাবলি করে ‘এটাই শামীম ওসমানের কারিশমা’। এ সময় শামীম ওসমানের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। গতকাল বুধবার সকালে জেলা রিটার্নিং অফিসার রাব্বী মিয়ার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন শামীম ওসমান।
এদিকে গতকাল সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য ও মহাজোট থেকে মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমান গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ আসনের সংসদ সদস্য ও মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চন্দনশীল, চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খবির উদ্দিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রফেসর শিরিন বেগম, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের প্রমুখ।