অঘটনের সপ্তাহ শেষে উন্মুক্ত লা লিগা
প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৪, ২২:২২
বার্সেলোনার গেটাফের বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারিয়ে শুরু। আর শেষটা হলো ঘরের মাঠে ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ২-২ গোলে ড্রতে। মাঝে লেভান্তের মাঠে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ০-২ ব্যবধানে হার। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে শীর্ষ তিন দলই পয়েন্ট হারানোয় লা লিগা শিরোপা এখন উন্মুক্ত এই তিন দলের জন্যই।
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-২ গোলে ড্র করে লা লিগা শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বাঁধা পড়ে রিয়াল মাদ্রিদের। অথচ দিনের শুরুতে লীগ টেবিলের শীর্ষে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ লেভান্তের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় রিয়ালের সামনে দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। কালকের ম্যাচে জয়ী হতে পারলে রিয়ালের সামনে ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের সুযোগ অনেকটাই প্রসারিত হয়ে যেত।
প্রায় একমাস পরে লীগে রোনালদো এবং গ্যারেথ বেল একসাথে মূল একাদশে খেলতে নেমেছিলেন। এই দুজন মিলে ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই রিয়ালকে এগিয়ে দেবার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বেলের দারুণ পাস থেকে রোনালদো শট নিলেও তা ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক দিয়েগো আলভেসের হাতে সরাসরি ধরা পড়ে। করিম বেনজেমার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ১৬ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া প্রথম রিয়ালের দুর্গে আঘাত হানার সুযোগ পায়। ডানি পারেজোর শক্তিশালী হেড দিয়েগো লোপেজ দারুণভাবে রক্ষা না করলে সফরকারীরা হয়ত তখনই এগিয়ে যেতে পারতো। তবে ৪৪ মিনিটে আর ভুল করেননি জেরেমি ম্যাথিউ। কর্নার থেকে ভ্যালেন্সিয়াকে এগিয়ে দেন এই ডিফেন্ডার।
বিরতির পরে পাকো আলকাসার ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণই করে ফেলেছিলেন। কিন্তু এবারো গোলবারে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান লোপেজ। এরপরপরই রোনালদোর আরেকটি জোড়ালো শট কোনরকমে রক্ষা করেন আলভেস। কিন্তু ৫৯ মিনিটে সার্জিও রামোসের হেড গোলের ঠিকানা খুঁজে পেলে ম্যাচে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। কিন্তু রিয়ালের এই সমতা মাত্র পাঁচ মিনিট স্থায়ী ছিল। ফেগোলির ক্রস থেকে পারেজো আবারো ভ্যালেন্সিয়াকে এগিয়ে দেন। গোল পরিশোধের চেষ্টায় মরিয়া রিয়াল একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে প্রতিপক্ষের গোলমুখে। তবে সফলতা আসছিল না। ম্যাচের একবারে শেষ মুহূর্তে রিয়ালের জন্য ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন সেই রোনালদোই। স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার থু্রকে অবিশ্বাস্য এক ব্যাকহিলে জালে জড়িয়ে স্বাগতিক দর্শকদের সামনে দলকে হার খেকে বাঁচান এই পর্তুগীজ। চলতি মৌসুমে এটি ছিল ক্লাবের হয়ে এই পর্তুগীজ তারকার ৫০তম গোল।
ম্যাচ শেষে রিয়াল বস কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘এই ড্র আমাদের পথ আরো কঠিন করে দিল। কিন্তু আমি সবসময়ই বলে এসেছি এবারের লীগ শিরোপা নির্ধারণে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সপ্তাহের শেষটা বড় তিন দলের জন্যই খারাপ কেটেছে। আর তাই শিরোপার দ্বার এখন আরো বেশি উন্মুক্ত হয়ে গেল।’
এদিকে রাতের শুরুতে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে টানা ১৫টি ম্যাচ অপরাজিত থাকার পরে অবশেষে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পায় অ্যাটলেটিকো। ফিলিপে লুইসের আত্মঘাতি গোলে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে সফরকারিরা। আর ৬৯ মিনেটে ডেভিড ব্যারালের গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের পরাজয়। তবে ম্যাচটিকে ঘিড়ে আবারো বর্ণবাদের কালো ছায়া দেখা দেয়ায় তা স্প্যানিশ লীগকে কলঙ্কিত করেছে। গত সপ্তাহে বার্সেলোনার ফুলব্যাক ডানি আলভেসের দিকে কলা ছুঁড়ে মারায় তা নিয়ে সমালোচনা শেষ না হতেই এবার লেভান্তের মিডফিল্ডার পেপে ডিওপের বিপক্ষে বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। ডিওপ অভিযোগ করে বলেছেন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরে অ্যাটলেটিকোর কয়েকজন খেলোয়াড় সফরকারী ভক্তদের সামনে বাজে অঙ্গভঙ্গি করেছেন। এছাড়া স্টপেজ টাইমে যখন তিনি কর্নার নিতে গেছেন তখন তার দিকে অশোভন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
এই হারের পরও ৩৬ ম্যাচে ৮৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকলো অ্যাটলেটিকো। সমসংখ্যক ম্যাচ থেকে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্সেলোনা। এখন শেষ ম্যাচে নিজেদের মাঠে যদি বার্সেলোনা অ্যাটলেটিকোকে হারাতে পারে সেক্ষেত্রে দু’দলের পয়েন্ট হবে ৯১। এর আগে অবশ্য আগামী ম্যাচে এলচের মাঠে বার্সেলোনাকে জিততে হবে। সেক্ষেত্রে, পরস্পর মুখোমুখিতার ফল বিচারে দিয়েগো সিমিওনের দলকে পেছনে ফেলবে বার্সেলোনা। আর বার্সেলোনা-অ্যাটলেটিকোর আগামী দুই ম্যাচের সমীকরণ যদি এমনই হয়, সেক্ষেত্রে শিরোপা জেতার সবচেয়ে ভাল সুযোগ রিয়ালের সামনে। শীর্ষ দুই দলের চাইতে এক ম্যাচ কম খেলে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ব্লাঙ্কোসরা। এখন তারা যদি তাদের শেষ তিনটি ম্যাচ জিতে যায় সেক্ষেত্রে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৯২। অর্থাত্ এক পয়েন্টে তারা পিছনে ফেলবে বাকি দুই দলকে। কিন্তু তার আগে বার্সা-অ্যাটলেটিকোর পরবর্তী ম্যাচগুলোর সমীকরণ কিন্তু ভুললে চলবে না। অর্থাত্ সব মিলে বলা চলে লা লিগা শিরোপা জিততে পারে তিন দলের যে কেউই।
ইনজুরি টাইমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর গোলে সমতা ফিরিয়ে কোনরকমে ম্যাচটি রক্ষা করে রিয়াল। আর তাই ১৮ বছরের মধ্যে প্রথম লা লিগার শিরোপা জয়ে এ্যাথলেটিকোর এখন শেষ দুই ম্যাচে মাত্র চার পয়েন্ট হলেই চলবে। এর আগে শনিবার ন্যু ক্যাম্পে গেতাফের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার শিরোপা স্বপ্নও কার্যত শেষ হয়ে গেছে।