চাকরি প্রার্থীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৪, ২১:৫৮
মা আজ অসুস্থ। চিকিত্সা করানোর টাকা নেই। বাবার সামান্য পেনশনের টাকা দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন বাবা মা দুজন। কী হবে ভবিষ্যতে? কত আশা নিয়ে একমাত্র ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছেন। ছেলে লেখাপড়া করে বড় একটা চাকরি পাবে। সারা জীবনের কষ্ট সার্থক হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কী হয়েছে? ছেলেটা কি লেখাপড়া শেষ করে চাকরি পেয়েছে? এরকম ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। বেশিরভাগ পরিবারের এ রকম অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশে প্রতিদিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। যার মধ্যে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যাই বেশি।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটা ছেলে বা মেয়ের পড়ালেখা শেষ করতে সময় লাগে ২৩-২৪ বছর। আর যদি সেশনজট থাকে তাহলে সেটা গড়ায় ২৬-২৭ বছর পর্যন্ত। পড়ালেখা শেষ করেই চাকরির যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। অথচ এদেশে চাকরি মানে সোনার হরিণ। উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করতে যে সময়ের প্রয়োজন বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী সে সময়টাও পাচ্ছে না । কারণ বাংলাদেশে চাকরির আবেদন করার বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ বছর। যেটা ছিল ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত নিয়ম। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫-৪০ বছর পর্যন্ত। চাকরির অবসর সীমা কয়েক ধাপে বাড়লেও প্রবেশের সীমা কোনোভাবে বাড়ছে না।
দেশের প্রতিটি সেক্টর আজ দূর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আর চাকরির ক্ষেত্রে তা কয়েকগুণ বেশি। কোনো একটা চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে থেকেই শুরু হয় এ নিয়ে তদবির, স্বজনপ্রীতি, টাকা-পয়সা লেনদেন ইত্যাদি। এতে জড়িত থাকে খোদ চাকরিদাতা থেকে শুরু করে দালাল পর্যন্ত। যার ফলে মেধাবীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যাদের টাকা-পয়সা, মামা খালু আছে তারাই শুধু চাকরি নামের সোনার হরিণ ধরতে পারছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের প্রশাসন মেধাশূন্য হয়ে যাবে। পাশাপাশি মেধাবীরা বয়সের বেড়াজালে আটকে থেকে বঞ্চিত হবে চাকরিপ্রাপ্তি থেকে। এখনই সময় এ সমস্যা থেকে উত্তরণের। দেশের মেধাগুলোকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত বেকার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বর্তমানে প্রচলিত ১৮-৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে দেশের উচ্চমহল অবগত না হলে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ সমস্যা একদিন প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। যা হবে দেশের জন্য অমঙ্গলজনক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়