জাতীয় হকি খেলোয়াড়দের জন্য বীমা হচ্ছে
প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৪, ২২:১৪
অবশেষে জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়দের জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রথা চালু হচ্ছে। এখন থেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য বীমা প্রথা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেশন সভাপতি বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী। খুব শিঘ্রই বীমা প্রথার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে। ফেডারেশনের সাথে সাধারণ বীমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে গত মঙ্গলবার কথা হয়েছে। সাধারণ বীমার ওই কর্মকর্তা জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়দের বীমা সুবিধা দিতে একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আর বীমার বিপরীতে প্রিমিয়াম যেটা দিতে হবে সেটাও খুব একটা বেশি না। ফেডারেশন সূত্র জানিয়েছে নাম মাত্র প্রিমিয়াম দিতে হবে। আর স্বাস্থ্য সুবিধা হিসাবে পাওয়া যাবে ৫ লাখ টাকা। এমনটাই জানিয়েছেন ফেডারেশনের একটি সূত্র। জাতীয় দলের ৩০ খেলোয়াড়কে বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ হকি ফেডারেশনের।
জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়রা চোট পেলে তাকে দেখার কেউ থাকে না। ক্লাব থেকে যে সহযোগিতা দেয়া হয় তা দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত না। একজন খেলোয়াড় চোট পেলে তাকে চিকিত্সার অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন স্থানে দৌড়াতে হয়। ক্যারিয়ার থাকে ঝুঁকির মধ্যে। একজন খেলোয়াড় যদি চোটের আগেই আতংকিত থাকেন। কিংবা চোট পেলে হতাশায় ডোবেন। তাহলে সেই খেলোয়াড়কে পূর্ণদ্যোমে মাঠে পাওয়া যাবে না। চোখের সামনে উদাহরণ টেনে হকি ফেডারেশনের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, মশিউর রহমান বিপ্লব চোট পাওয়ায় আমরা তার কাছ থেকে এশিয়ান গেমস বাছাই হকিতে খেলাতে পারিনি। তার অভাবটা আমাদের খেলোয়াড়রা অনুভব করেছে। খেলোয়াড়দের বীমা সুবিধা থাকলে চোট নিয়ে তারা দুশ্চিন্তা করবে না।
হকি ফেডারেশনের সদস্য সাবেক তারকা খেলোয়াড় মামুনুর রশিদ বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য বীমা সুবিধাটা দেয়া হলে ওরা আরো বেশি মনযোগী হবে। পারফরম্যান্স ভালো হবে। এটা একটা পজিটিভ সাইড। আমাদের ক্যারিয়ারে এটা ছিল না। এখন যদি মিনিমাম প্রিমিয়াম দিয়ে বছরে একটা বীমা সুবিধা পাওয়া যায় তাহলে হকির জন্য এটা হবে মঙ্গলজনক।’ জাতীয় দলের কৃষ্ণা কুমারের কাছে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য বীমাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলছেন এটা আরো আগে করা উচিত ছিল। ইনজুরির কারণে রাজন ভাই, বিপ্লব ভাইয়ের মতো খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে খেলতে পারলেন না।’ কৃষ্ণা বলেন, বীমা করা হলে আমাদের জন্য একশ ভাগ ভালো হবে। কারণ হকি খেলায় প্রচুর ইনজুরি হয়।’ এশিয়ান গেমস বাছাই হকির চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় খোরশেদুর রহমান খেলোয়াড়দের বীমা প্রসঙ্গে বলেন টাকা-পয়সার অভাবে অনেক সময় ইনজুরি সারাতে সময় চলে যায়। আমরা মাঠে নামতে পারি না। ইনজুরি হলে যদি বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় আমরা উপকৃত হবো।’ ফুটবলে একবার খেলোয়াড়দের জন্য বীমা সুবিধা প্রচলন হলেও সেটা মাঝ পথে গিয়ে বন্ধ হয়।