প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল
স্পোর্টস রিপোর্টার
দেশের ফুটবলে একসময় পুলিশ ফুটবল দল দাপিয়ে বেড়াতো। কিন্তু গত বিশ পঁচিশ বছরে পুলিশ ফুটবল আলোচনায় ছিল না। অনেকদিন পর আবার দেশের ফুটবলে পুলিশ যেন আরো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনছে। আবার পুলিশ ফুটবল দল দেশের ফুটবল অঙ্গনে রং ছড়াতে যাচ্ছে। এরই মাঝে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফুটবলে নতুন করে সুবাশ ছড়িয়েছে। ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অনেক বড় ব্যাপার। পুলিশ সেটাই করে দেখিয়েছে। শুধু লিগ চ্যাম্পিয়নই নয় ফেয়ার প্লে ট্রফিও পেয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে দলের আমিরুল ইসলাম ২টি হ্যাটট্রিকসহ ১৭টি গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন।
প্রিমিয়ার ফুটবলে এখন কোনো দেশি স্ট্রাইকার ১৭ গোল পায় না। আমিরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘যদি আমি টপ স্কোরার হতাম আর দল চ্যাম্পিয়ন না হতো তাহলে খারাপ লাগতো। দুটোই পেয়েছি ভালো লাগছে।’ জাতীয় নিয়ে আমিরুল বলেন,‘সবার স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলা। সুযোগ পেলে কাজে লাগাবো।’
এবারের মতো পুলিশের ফুটবলে এতো সাফল্য আগে দেখা যায়নি। খুবই শৃঙ্খল এবং পরিশ্রমি একটা দল। দেশের জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কাজের নির্দেশ পালন করে ফুটবল মাঠেও ছিলেন বেশ তত্পর। পুলিশের জন্য এটা কঠিন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করেও ফুটবল মাঠে অনুশীলন করাটা। তারপরও ক্লান্তিহীন অনুশীলন করতে হয়েছে। এই ফুটবলারদের একটা সুতোয় বেঁধে রেখে দিন-রাত যারা কাজ করেছেন, তাদের অন্যতম দলের সহকারী ম্যানেজার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কাজী নুসরাত এদীব লুনা। সাংগঠনিক কাজে খুবই সাহসী।
শুক্রবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে লিগের শেষ খেলার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। ফুটবল মাঠে পুলিশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ফুটবলের আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের বড় আসরে খেলবে পুলিশ। সেখানে খেলতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে তার প্রায় সবই রয়েছে পুলিশ দলের। নুসরাত লুনা জানিয়েছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে খেলতে গেলে ভালো দল গড়তে হয়। বড় অংকের টাকারও প্রয়োজন হয়। আমি জানি না কিভাবে অর্থের ব্যবস্থা হবে। তবে আমরা একটা ব্যালান্সড দল গড়ব। পুলিশের পতাকা ফুটবল মাঠে পবিত্রতার সঙ্গেই উড়বে আশাকরি।’