ভয়কে করি জয়
প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৪, ১৯:৩৬
রোগের ভয়, লোকের ভয়, প্রিয়জন বিচ্ছেদের ভয়, নিরাপত্তার ভয়, ব্যর্থতার ভয়, দারিদ্র্যের ভয়, পোকা-মাকড়ের ভয়, ভূতের ভয়, মৃত্যুভয়—ভয় যে কত ধরনের হতে পারে তার ইয়ত্তা নেই। তরুণদের অনেকের মাঝে এমন অনেক রকমের ভয় কাজ করে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করে। আর এই ভয় কাটাতে এবার কিছু আলোচনা নিয়ে আমাদের এবারের মূল আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার
ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক
নানা সময় তরুণদের মধ্যে নানা কারণে ভয় বা আতঙ্ক জেগে উঠে এবং তার মধ্যে ভয়ের বিভিন্ন উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়। এমতাবস্থায় নিজের বাস্তবজ্ঞান হারিয়ে ফেলে বা ভয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তারা। প্রতিটি তরুণেরই চাওয়া থাকে জীবনে সফল একজন মানুষরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখতে চাই সফলতা। কিন্তু সবাই কি জীবনে সফল হতে পারেন? এমন অনেক কিছু আছে যা আমাদের সফলতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারমধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর যে বাধা তার নাম ‘ভয়’। ভয় সবসময় বাধা হয়ে সফলতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। মূলত নেতিবাচক চিন্তারই মূল উত্স হলো ভয়। ভয় এক অদৃশ্য ভূত। অনেকের জীবনেই ভয় তাড়া করে বেড়ায় ছায়ার মতো। মূলত এই ভয়ের অবস্থান হচ্ছে আমাদের সচেতন মনে। আবার অনেককেই বিফলতার ভয়ে সফলতার পথ থেকে সরে আসতে দেখা যায়। তাই সবার প্রথমে করণীয় কাজটি হলো ভয়ের মূল কারণটি খুঁজে বের করা। অনেকে মনে করেন কাজে বিফল হলে আশপাশের মানুষজন তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে কিংবা পরিবারের লোকজন তাকে গুরুত্ব দেবেন না অথবা সকলের সামনে ছোট হয়ে যেতে হবে। এই সকল কারণে অনেকে কোনো কাজ শুরু করার আগেই হার মেনে নেন। তাই প্রথমে ভয়ের মূল কারণ খুঁজে নিয়ে তার বিরুদ্ধে মনকে শক্ত করে তুলতে হবে। তবেই দূর হবে ভয়।
আমরা যদি আমাদের মনের গভীরে এই ভয়গুলোকে বিচরণ করতে দিই তাহলে আমাদের অজান্তেই এগুলো লালিতপালিত হয়ে নাদুস-নুদুস হয়ে উঠবে। এগুলোর হাত থেকে আমরা কখনও রেহাই পাব না। ভয় হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্ন। আলোয় এলেই তাই ভয় মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। আমাদের জীবনের সবচেয়ে বেশি সমস্যার কারণ হচ্ছে অনির্দিষ্ট ভয়। এর মাঝে আতঙ্কই আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। তাই আপনার আশঙ্কাকে কাগজে স্পষ্ট করে লিখে ফেলুন। লেখার পর জিজ্ঞেস করুন, এরপর কী হবে? সবচেয়ে খারাপটাই লিখুন। কাগজে বড় করে লিখুন। যাতে করে আপনি দেখতে পারেন। ভয়ের হাত থেকে বাঁচতে ভয়ের কথা কাগজে লিখে তা পুড়িয়ে ফেলুন। এভাবে আপনি পর্বতপ্রমাণ ভয়কেও নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেন। কারণ অজানা বিষয় যখনই জানা হয়ে যায়, তখনই ভয় তার রহস্য ও শক্তি দুই-ই হারিয়ে ফেলে। ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া বা ভয়কে কাবু করার আরেকটা পথ হচ্ছে ভয়কে নিয়ে ঠাট্টা করা। ভয়কে জয় করার জন্য অবজ্ঞা ও অবহেলার চেয়ে সফল অস্ত্র আর কী হতে পারে! আপনি ক্ষমতা না দিলে আপনার ওপর ভয়ের কোনো ক্ষমতা থাকতে পারে না। যে কাজকে ভয় পান সাহস করে তা করে ফেলুন। ভয় সম্পর্কে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, কেউই ভয় থেকে মুক্ত নন। ভয় পাননি পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই। আপনার জীবনেও অনেক পরিস্থিতি আসবে, যার মুখোমুখি হতে আপনি ভয় পান। হয়তো আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডকে ভয় পান, নতুন লোকের সাথে আলাপ করতে ভয় পান, দাঁতের ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পান, ইনজেকশন নিতে ভয় পান, বিমানে চড়তে ভয় পান। ঠিক আছে। আপনার এ ভয় নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আপনি শুধু একে মোকাবেলা করুন। ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। যে কাজকে ভয় পাচ্ছেন, সাহস করে কাজটা করে ফেলুন। বিশ্বাস করুন! আপনি সরাসরি ভয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ভয় পালাবার পথ পাবে না। আবার এমনও হতে পারে—আপনি যে কাজকে ভয় পাচ্ছেন সাহস করে করার পর সে কাজেই অপার আনন্দ লাভ করতে পারেন। কাজ শুরু করুন। লক্ষ্য উঁচু রাখুন। কথায় বলে, সূর্যের দিকে তীর মারলে তা অন্তত বড় গাছের মগডালে গিয়ে লাগবে। তাছাড়া ব্যর্থতার চিন্তাকেও আপনি ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, একটি উদ্যোগে যদি আশাব্যঞ্জক ফল না পাওয়া যায় তাহলে এর বিকল্প কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় আগে থেকেই তা ঠিক করে রাখুন। তখন ভয় আপনার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। জীবনে যেমন হাসি-কান্না উভয়ই রয়েছে তেমনই রয়েছে হার-জিত। একটি ছাড়া অপরটির স্বাদ গ্রহণ করা অসম্ভব। আমরা কান্না করি বিধায় বুঝতে পারি হাসির মূল্য। তেমনই আমরা কোনো কাজে বিফল হয়েই সফলতার মর্ম উপলব্ধি করতে পারি। তাই জীবনে হার এবং জিত আছে—এই বাস্তব সত্যিটিকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন, দেখবেন মন থেকে ভয় চলে গিয়েছে। সেই মাকড়সা এবং রাজার কাহিনী মনে আছে? যুদ্ধে হেরে রাজা যখন হতাশায় ছিলেন তখন একটি মাকড়সার প্রাণপণে ছাদে উঠার চেষ্টা দেখে রাজা অনুপ্রাণিত হন। একবার চেষ্টা করে ভেঙে পড়লে মনের ভেতর ভয় আরও গভীর হয়ে বসবে। চেষ্টা চালিয়ে যান। সফলতা আনার চেষ্টায় টেরই পাবেন না কখন ভয় দূর হয়ে গিয়েছে। কাজে বিফল হওয়া স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। তাই একে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। বিফলতা একটি অস্থায়ী জিনিস। শুধুমাত্র আপনার প্রচেষ্টাই পারে এই অস্থায়ী জিনিসটিকে আপনার জীবন থেকে দূরে সরাতে। তাই ভয় দূর করুন এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখুন জীবনের হার-জিত।
মডেল মিয়াম