জানার আছে

মাকড়সা সমাচার

পৃথিবীতে প্রায় চল্লিশ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাকড়সা আছে। ক্ষুদে মাকড়সা থেকে শুরু করে দক্ষিণ আমেরিকার ওয়েস্টার্ন সামোয়া নামের পাখি ধরে খাওয়া মাকড়সা আছে। ওয়েস্টার্ন সামোয়া পা ছড়িয়ে দাঁড়ালে বড়সড় একটা ডিনার প্লেটের সমান হতে পারে। এটা সত্যিই যে দিনের বেলাতেও মাকড়সা দেখা যায়, কিন্তু বেশিরভাগ মাকড়সাই অন্ধকার হলে বেড়িয়ে পড়তে ভালোবাসে। সাধারণত রাতের বেলাতেই তারা জাল তৈরি করে এবং এর ঠিক মধ্যিখানে গিয়ে বসে থাকে চুপটি করে। কোনো পোকা-মাকড় সেখান দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যদি আঁঠালো জালে আটকা পড়ে অমনি গপ্। দিনের বেলা ওরা জালের এক প্রান্তে গিয়ে সামনের পাগুলো গুটিয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে। কোনো পোকা ওই সময় জালে আটকা পড়লে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ফলে সিল্কির জালে ঝাঁকুনি ওঠে। আর তাতেই মাকড়সা বুঝে ফেলে শিকার আটকে গেছে। ওদের পাগুলোয় বিশেষ এক তেলের আস্তর থাকে তাই নিজেদের ফাঁদে মাকড়সা কখনও আটকে যায় না। সব মাকড়সা যে জাল বুনতে পারে তা কিন্তু নয়। উলফ স্পাইডারের মতো কিছু মাকড়সা আছে যারা একবারে চুপটি করে বসে থাকে। একদম নড়াচড়া করে না। শিকার কাছে আসামাত্রই অতর্কিত আক্রমণে ঘায়েল করে ফেলে। মাকড়সারা খাবারের স্বাদ পা দিয়ে নেয় এবং পুরাতন বাসি খাবারের চেয়ে টাটকা খাবারেই ওদের রুচি বেশি। আমাদের বাসাবাড়ির দেয়ালে সরু পায়ের যেসব মাকড়সা দেখা যায় ওরা তেমন একটা ভয়ঙ্কর না। কারণ ওদের বিষ নেই। ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে যত মাকড়সা আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিষধর হলো ব্রাজিলিয়ান হান্টসম্যান। কিন্তু এখন এর কামড়ে খুব কম মানুষই মারা যায়। কারণটা খুব সোজা, এর ওষুধ আবিষ্কার করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা।