সাম্প্রতিক

ইন্টার্ন চিকিত্সক, আপনারা আসলেই মহান!

ও ডাক্তার ... ও ডাক্তার তুমি কত শত পাস করে এসেছ বিলেত ঘুরে... মানুষের যন্ত্রণা ভোলাতে...!! সত্যিই মানুষের যন্ত্রণা ভোলানো তো দূরে থাক, আজকাল এক শ্রেণির ডাক্তার যেন মানুষের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আর সংবাদকর্মীদের জন্য তো রীতিমত ভয়ংকর হয়ে ওঠেছেন!! কিন্তু কেন? সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সব মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিডফোর্ট, বারডেম, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও সর্বশেষ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিজেদের কুিসত রূপ দেখিয়ে চলেছেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের উপর তাদের ক্ষোভ যেন নিশ্চিতভাবে বেড়েই চলেছে। সাংবাদিক পেটানোয় তারা যেন অতিমানবীয় আনন্দ উদযাপন করছেন। আর কেনইবা এই সহিংস রূপ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে? মুক্ত গণমাধ্যমের দেশে এ কেমন আচরণ সংবাদকর্মীদের সাথে! হাসপাতালগুলোর কি এমন সংবাদ প্রকাশ করছেন সাংবাদিকরা, যে যারপরনাই নব্য/হবু ডাক্তারদের এত আক্রোশ? ছোটবেলায় কিছু বুঝে না বুঝেই ভবিষ্যতে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাইতাম ডাক্তারী পেশাকেই। কিন্তু আজকের ডাক্তারগণ সেই পেশার মর্যাদা কতটুকুই বা ধরে রাখতে পারছেন? যদিও অন্যান্য অনেক পেশারও মর্যাদার সংকট বিদ্যমান। তথাপি এক আল্লাহর পরে, মৃতপ্রায় কিংবা মুমূর্ষু রোগীর শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে হাসপাতাল আর ডাক্তারের ভূমিকা কম কিসে? কিন্তু এক শ্রেণির ডাক্তারের ভুল চিকিত্সাতেই রোগীকে প্রাণ দিতে হচ্ছে এহেন ঘটনাও কম নেই। ভুল চিকিত্সায় রোগী মারা গেলে কিংবা রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ করতে গেলে শুরু হয় নতুন ধূম্রজাল। পাল্টা কর্মসূচিতে চিকিত্সা সেবা বন্ধ রাখেন চিকিত্সকরা। আর বিপাকে পড়েন সাধারণ চিকিত্সা প্রত্যাশীরা। যার স্পষ্ট উদাহরণ মানুষ দেখেছে বারডেম হাসপাতালে। এর আগে রাজশাহী মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা দেখিয়েছেন সংবাদকর্মীদের গায়ে হাত তোলার পৈশাচিক দৃশ্য। নিজেরা অন্যায়ভাবে সংবাদকর্মীদের পেটাবেন আবার নিজেরাই জুজুর ভয় দেখিয়ে চিকিত্সা কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন। এই শ্রেণির ডাক্তার কিভাবে মানুষের ভরসা হয়ে উঠতে পারেন তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ আছে। সর্বশেষ ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা লিফটে উঠাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ান। যে হাতে চিকিত্সার জন্য ব্যবহারিত ছুরি, কাঁচি থাকার কথা সে হাতে তারা লাঠিসোঁটা, রড নিয়ে ছুটছেন সাংবাদিকদের মারতে! সেবার ব্রত নিয়ে যে ডাক্তার মুমূর্ষু রোগীর দিকে হাত বাড়ানোর কথা সেই হাত আজ সাংবাদিকদের রক্তে রঞ্জিত। এই মহান পেশাকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তারা নিজেরাই। হবু ডাক্তার! সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে একটু ভাবুন। নোংরা দলাদলি ছাড়ুন। সরকারি হাসপাতালগুলো এ দেশের আপামর গরীব জনসাধারণের চিকিত্সার জন্য এক প্রকার স্বর্গীয় স্থান। সাংবাদিক নির্যাতনের হাতকে লম্বা না করে রোগীর সেবার হাত লম্বা করুন। “ডাক্তার মানে সেতো মানুষ নয়, আমাদের কাছে সেতো ভগবান। কসাই আর ডাক্তার একইতো নয় কিন্তু দুটোই আজ প্রফেশন ...। তাই কসাই নয়, মানুষই হবেন হবু ডাক্তাররা। সেই কামনাই রইল। লেখকবৃন্দ :সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী