তাইজুলের দিনে ব্যাটসম্যানদের আত্মহত্যা

দূর দূর আকাশে এক টুকরো মেঘের দেখা নেই, নেই কোথাও এক চিলতে ছায়া। আবারও প্রবল দাবদাহে পুড়তে থাকা নগরীর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই করছে। রোদে ঝলসাতে থাকা মিরপুর স্টেডিয়ামে চেয়ে ক্রিকেটারদের দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, শরীরগুলো আর চলতে চাইছে না। দিন শেষে এই দাবদাহ ছাড়া আর কাউকে তেমন দোষ দিতে পারবেন না প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। উইকেটে মোটেও কোনো জুজু ছিল না, বল পড়ে দিব্যি নিয়মিত উচ্চতায় নড়াচড়া না করেই ব্যাটে চলে আসছিল। বোলাররাও এই মরা উইকেটে এমন কোনো ত্রাস তৈরি করতে পারলেন না। তাইজুল ইসলাম আট-আটটি উইকেট নিলেও নিজের সেরা বল করেছেন, এমন দাবি করতে পারবেন না। তারপরও দক্ষিণাঞ্চল ধসে পড়লো। তারা ধসে পড়লো বলেই বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগিয়েও গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ফাইনালের প্রথম দিনে ৮৩ ওভারে মাত্র ২৭১ রান তুলতে অলআউট হয়ে গেল দক্ষিণাঞ্চল। প্রবল তাপে খেলা খুব একটা প্রলম্বিত করলেন না ম্যাচ রেফারি। তারপরও যে ৮ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেল উত্তরাঞ্চল, তাতেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৫ রান তুলেছে তারা। পাঁচ দিনের ফাইনালের প্রথম দিনে আসলে গতকাল আলোচ্য বিষয় দিন শেষে একটাই—তাইজুল ইসলামের আরও একটি অবিশ্বাস্য বোলিং পারফরম্যান্স। তবে তাইজুলের প্রতি প্রবল সম্মান রেখেই বলা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানদের আত্মহননই আসলে এরকম উইকেটের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। তাইজুল নিজেও ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘এমনিতে ব্যাটসম্যানদের বেশি বল খেলাতে পারলে উইকেট পেতে সহায়তা হয়। তবে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল, তাই আজ (গতকাল) আমাদের পরিকল্পনা ছিল যত সম্ভব রান কম দেয়া আর ডট বল নেয়া। এখানে অনেক রান হওয়ার কথা ছিল। ওরা বেশি তাড়াহুড়ো করার কারণে অলআউট হয়ে গেছে।’ এরপর তো আসলে আর ব্যাখ্যার দরকার হয় না। তবে স্কোরবোর্ডে চোখ বুলালে ব্যাখ্যাটা আপনিও বুঝতে পারবেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে একমাত্র এনামুল হক বিজয় আউট হয়েছেন ৯ রান করে; এ ছাড়া প্রত্যেকে সেট হয়েছেন, বড় ইনিংস খেলার পথে গিয়ে আত্মহত্যা করে ফিরেছেন। সৌম্য সরকার ও শুভাগত হোম রীতিমতো ফিফটি পার করে, দীর্ঘ সময় উইকেটে কাটিয়েও দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়েছেন। সৌম্য ৫১ রান করে আহত হয়ে একবার মাঠ ছেড়েছিলেন। আবার ব্যাট করতে নেমে ৭০ রানে আউট হয়ে ফিরেছেন। তবে পুরো ব্যাপারটাকে ব্যাটসম্যানদের দোষ বলে চালিয়ে দিলে তাইজুলের কৃতিত্ব একটু ছোটই হয়ে যায়। পরিস্থিতি যেমনই হোক, প্রথম ৯ ব্যাটসম্যানের ৮ জনকেই আউট করে ফেরানোটা নিতান্ত ছেলেখেলা নয়। তাইজুল বরং রাগ করতে পারেন সতীর্থ স্পিনার সানজামুলের ওপরে। তিনি বাকি দুটি উইকেট না পেলে কে জানে জিম লেকার, অনিল কুম্বলের পাশে নাম লিখিয়ে ফেলতেন তাইজুল! স্কোর কার্ড প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল: ১ম ইনিংস রান বল ৪ ৬ ইমরুল ক ফরহাদ ব তাইজুল ৩৮ ৫২ ৫ ০ এনামুল ক ফরহাদ হো. ব তাইজুল ৯ ৩৯ ২ ০ সৌম্য ক ফরহাদ ব তাইজুল ৭০ ১৩১ ৯ ১ মিথুন ক সানজামুল ব তাইজুল ২৫ ৩৫ ৪ ০ শুভাগত ক নাইম ব তাইজুল ৬০ ৭২ ৬ ২ তাইয়াবুর ক মাইশিকুর ব তাইজুল ৩৯ ৬৬ ৫ ০ জিয়াউর নটআউট ২১ ৭৪ ৪ ০ সোহাগ ব সানজামুল ০ ৭ ০ ০ রাজ্জাক ব তাইজুল ৫ ১১ ১ ০ আল আমিন ব তাইজুল ০ ৮ ০ ০ মোস্তাফিজুর ক নাঈম ব সানজামুল ০ ৬ ০ ০ অতিরিক্ত (লেবা-১, নো-৩) ৪ মোট: ৮৩ ওভারে ২৭১/১০ বোলিং: শুভাশিষ: ১০-২-৪২-০, ফরহাদ রেজা: ৬-১-১৮-০, নাসির ৭-০-৩০-০, তাইজুল ৩১-৮-৮৬-৮, ফরহাদ হোসেন ৪-০-১৯-০, সানজামুল ২০-৫-৪৬-২, তানভীর ৫-২-২৯-২। বিসিবি উত্তরাঞ্চল: ১ম ইনিংস মাইশিকুর ব্যাটিং ৩ ২৮ ০ ০ জুনায়েদ ব্যাটিং ১১ ২০ ২ ০ অতিরিক্ত (ও-১) ১ মোট: ৮ ওভারে ১৫/০ বোলিং: আল আমিন ২-১-৩-০, মোস্তাফিজুর ১-০-৯-০, সোহাগ ৩-২-২-০, রাজ্জাক ২-১-১-০ (প্রথম দিন শেষে)