সময়কে এগিয়ে নিতে ভিন্ন উদ্যোগ

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাকে জয় করে প্রজন্ম এগিয়ে যায় তার আপন গতিতে। কিন্তু অনেক সময়ই পড়াশোনা শেষে সুনির্দিষ্ট কাজের অভাবে থমকে যায় তাদের ধুমকেতুর গতি। এবং গতির এই অলসতায় হয়ে পড়ে পথভ্রষ্ট। আর এই পথহারাদেরই সঠিক পথের সন্ধান দিতে নিজে উদ্যোগ গ্রহণ করেন এই প্রজন্মের মেধাবী জন আবু হাসানাত মো. ইয়াহিয়া। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কারিগরি বিশেষায়িত বহুমুখি প্রতিষ্ঠান, সাইক গ্রুপ অব মেডিকেল ইনস্টিটিউশনস। তাকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন আহসান রনি নিত্য নতুন কর্মকাণ্ডে বরাবরই এই প্রজন্ম বেশ এগিয়ে থাকলেও অনেক সময়ই গতানুগতিক পড়াশোনা নিয়ে অনেকেই মুখ থুবরে পড়েন। ফলে নতুন প্রজন্মের মাঝে বৃদ্ধি পাচ্ছে একধরনের অনিশ্চয়তা, হতাশা এবং তারা হচ্ছে বিপথগামী। এই প্রেক্ষাপটে আবু হাসানাত মো. ইয়াহিয়া নতুন প্রজন্মের জন্য কর্ম ক্ষেত্রে প্রবল চাহিদা আছে এমন যুগোপযোগী বিষয়ে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা থেকে উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছেন মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা ও বিএসসি কোর্স, সিভিল, টেক্সটাইল ও অ্যারোনটিক্যালসহ বিভিন্ন ডিপ্লোমা ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসমূহ। কারিগরি পড়াশোনায় বিভিন্ন ডিপ্লোমা ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত প্রসারিত মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা ও বিএসসি পর্যায়ের উচ্চতর কোর্স পরিচালনা করেন তিনি। দেশে বর্তমানে প্রায় ৯০টি মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়। কোর্সগুলো যথাক্রমে ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপি ও ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি ইত্যাদি। ন্যূনতম সায়েন্স ব্যাক গ্রাউন্ড এসএসসি-এইচএসসি পাস বা সমমানের শিক্ষার্থীরা এসব কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। এই তরুণ উদ্যোক্তার কাছে জানতে চেয়েছি এমন সব উদ্যোগের পেছনের কথা, বিশেষ করে জেনারেল লাইনকে পাশ কাটিয়ে কেন শুধু কারিগরি সেক্টরে গড়ে তুলছেন একের পর এক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেসব বৃত্তান্ত ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব ও সাফল্যের কথা। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা ২০০৩ সাল থেকে প্রথমে মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স এবং পরবর্তীতে উচ্চতর পর্যায়ে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি, বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি ডেন্টাল, বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি ল্যাবরেটরি, বিএসসি ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন (প্যাথলজি) কোর্স এবং স্নাতক পর্যায়ে এমএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্স ও নার্সিং কোর্স পরিচালনা করছি। উল্লেখ্য যে, ২০০৯-এ ল্যাব মেডিসিন ও ২০১০-এ ডেন্টাল-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ১ম স্থান অর্জন করে আমাদের শিক্ষার্থীগণ। ‘সাইক’ থেকে পাস করা প্রায় সকল ছাত্র-ছাত্রীই দেশের সরকারি-বেসরকারি হসপিটাল, ক্লিনিকে এবং বিদেশেও সম্মানজনক বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন।’ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চিকিত্সা খাতকে সচল রাখতে এর সঙ্গে ডাক্তার ব্যতীত আরও কাজ করেন যেমনি সেবিকাগণ তেমনি ল্যাবে বসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টগণ। সঠিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম।’ উন্নত স্বাস্থ্য সেবার বিষয়টি চিকিত্সকদের পাশাপাশি দক্ষ সেবিকা ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। তাই আজকাল প্রায় সব হসপিটাল-ক্লিনিকই গুরুত্ব দিচ্ছে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের বিষয়টিতে। ফলে এই সেক্টরটি আজ এমনই একটি জনকল্যাণমুখি সেক্টর যেখান থেকে আলোকিত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবে বা পাচ্ছে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং উন্নত চিকিত্সাসেবা পাচ্ছে লক্ষ লক্ষ অসুস্থ মানুষ, বিশেষ করে উপকৃত হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত। এই সেক্টরে পড়াশোনা করে তরুণ প্রজন্ম নিঃসন্দেহে পেতে পারে ভবিষ্যত্ কর্মময় জীবনের দিক-নির্দেশনা।