সাগরের রান-বন্যা

গতকাল ছিল মা দিবস। এমন দিনটায় আর সবার মতো ‘সাগর’ও চেয়েছিল মায়ের কাছে থাকতে, মাকে উপহার দিতে। সেটা হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাছে না থেকেও মা ও বাবা দু’জনের জন্যই এমন এক উপহার সাগর পাঠালো, যেটা তার নিজেরও সারা জীবনের অর্জন। হ্যাঁ, ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেই সেটাকে বাবা-মাকে উত্সর্গ করে দিলো বাবা-মায়ের আদরের সাগর; আমাদের ইমরুল কায়েস। ইমরুল গত দুই মৌসুম ধরেই ক্যারিয়ারের শীর্ষ ফর্মে আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। তার পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। সুযোগ পেয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও করে ফেলেছেন বছরের শুরুর দিকে। কিন্তু একটা আফসোস কিছুতেই যাচ্ছিল না। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ ও জাতীয় ক্রিকেট লিগে যেভাবে সতীর্থরা একটার পর একটা ডাবল সেঞ্চুরি করছিলেন, ইমরুল কিছুতেই সেটা ‘সহ্য করতে’ পারছিলেন না। মাইলস্টোনের প্রতি সবসময় আলাদা টান থাকা ইমরুলের তাই জেদই চেপে গিয়েছিল, তার একটা ডাবল সেঞ্চুরি চাই-ই চাই। গতকাল ব্যাটিং উইকেটে অসামান্য ব্যাটিং প্রদর্শনী করে সেই জেদটা পূরণ করে ফেললেন। মনের কথা কখনোই চেপে রাখেন না। ২৬৬ বলে ২০৪ রানের ইনিংস খেলে ফেলার পর তাই অকপটে বলে দিলেন, ‘সামসুর ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। এ ছাড়া ফরহাদ রেজাও ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। গত কিছুদিনে তো অনেকেই ডাবল সেঞ্চুরি করলো। অন্য ব্যাটসম্যানরা ডাবল সেঞ্চুরি করলে নিজের মধ্যেও একটি জেদ কাজ করে। নিজের কাছে মনে হয়—অন্যেরা পারছে, আমি কেনো পারবো না? আমাকে পারতে হবে। ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারা প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ এবং অর্জন।’ শুধু এই বাকিদের নিয়ে জেদ, ব্যাপারটা তা নয়। ইমরুল নিজের মতো করে কতোগুলো ব্যাপার বোঝেন। ক্যারিয়ারের সেই শুরুর দিকে বলেছিলেন, অনেক সেঞ্চুরি করতে না পারলে জাতীয় দলে আসা যায় না। আবার ইদানীং তার মনে হচ্ছিল, ডাবল সেঞ্চুরি এবং এরকম বড় বড় ইনিংস খেলতে না পারলে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে শক্ত জায়গা করা যায় না। গতকাল সেই পায়ের নিচে মাটিটা শক্ত করার পালা শুরু হলো বলেই বললেন জাতীয় দলের এই ওপেনার, ‘এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় একাডেমির হয়ে ১৫০ রান করেছিলাম। তখন থেকেই চেষ্টা ছিল আগের সর্বোচ্চ রানটা পেরিয়ে যাওয়ার। আসলে ডাবল সেঞ্চুরির মতো বড় বড় ইনিংস খেলতে না পারলে একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়ে এটি আমার জন্য খুবই দরকার ছিল।’ এমন জেনেশুনে, লক্ষস্থির করে খুব কম ব্যাটসম্যানই ব্যাটিং করতে পারেন। ইমরুলের ব্যাপারটা এরকমই। শুধু ম্যাচের আগে লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেন, তা নয়। ইনিংসের ঠিক কোন পর্যায়ে ডাবল সেঞ্চুরির কথা বা বড় ইনিংসের কথা ভেবে ফেলেন, সেটাও পরিষ্কার বলে দিলেন, ‘প্রথম প্লান ছিল, বাজেভাবে আউট না হওয়া। আগের ইনিংসে বাজেভাবে আউট হয়েছি। এবার তাই ওরকম না করার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি মাটিতে বল রেখে খেলতে। উঁচু করে না মারার চেষ্টা করেছি সব সময়। এরপর ১৪০ রানের হয়ে যাওয়ার পরই প্রথম মনে হয়েছে ডাবল সেঞ্চুরি হতে পারে। তখন আরও মাথা ঠাণ্ডা রেখেছি। এরপর ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে গেছে।’