স্কলারির সামনে কিংবদন্তি হওয়ার সুযোগ

বিশ্বকাপে স্বাগতিক কোচ হিসেবে এবার লুইস ফিলিপ স্কলারির সামনে ব্রাজিলের কিংবদন্তিদের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির দারুণ এক সুযোগ এসেছে। স্কলারির অধীনেই ২০০২ সালের বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল ব্রাজিল। এর মধ্য সবচেয়ে বেশি পাঁচবার ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপাটি দখলেরও কৃতিত্ব দেখায় সেলেচাওরা। জুন-জুলাইয়ে নিজেদের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে আবারো এই কৃতিত্ব দেখাতে আত্মবিশ্বাসী ‘বিগ ফিল’ হিসেবে খ্যাত এই কোচ। আর তিনি যদি সেটা করতে না পারেন তবে স্কলারি নিজেকে জাতীয়ভাবেই ব্যর্থদের তালিকায় স্থান দিবেন। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে। প্রথমবারের মত নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ঐ আসরে উরুগুয়ের কাছে ফাইনালে শিরোপা হারানোর ব্যথা এত বছরেও ভুলতে পারেনি ফুটবল পাগল এই জাতি। সেই দু:সহ স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করে বেড়ায়। যদিও দু’বার একই দলের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের যে চ্যালেঞ্জ এখন স্কলারির সামনে তাতে তিনি মোটেই ভীত নন বলে জানিয়েছেন। ১৯৩৪ এবং ১৯৩৮ সালে ইতালির ভিট্টোরিও পোজ্জো একমাত্র কোচ হিসেবে দু’বার বিশ্বকাপের শিরোপা স্পর্শের রেকর্ড গড়েছিলেন যা এখন পর্যন্ত কেউ ভাঙ্গতে পারেনি। বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে গত নভেম্বরে এক সাক্ষাত্কারে ৬৫ বছর বয়সী স্কলারি বলেছিলেন, ‘আমি যদি চ্যালেঞ্জকে ভয় পাই তবে ক্যারিয়ারে কোনকিছুই অর্জন করতে পারবো না। খেলোয়াড়রা জানে যেকোন মূল্যেই তাদেরকে বিশ্বকাপ জিততে হবে। ব্রাজিলে আমাদের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হয়নি, মাত্র দ্বিতীয়বারের মত এবার আমরা এই সুযোগ পেয়েছি।’ গত মাসে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চেয়ারম্যান হোসে মারিয়া মারিন বলেছিলেন আমরা যদি পরাজিত হই তবে সবাই একসাথে নরকে চলে যাব। ২০১২ সালের নভেম্বরে তত্কালীন কোচ মানো মেনেজেসের বরখাস্তের পরে দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রাজিল দলে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি বেশ ভালভাবেই অবহিত আছেন স্কলারি। ওই সময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় কোচ পেপ গার্দিওলাও মুক্ত থাকায় তাকে নিয়েও বেশ গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। পুরো ব্রাজিলে গার্দিওলাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও সিবিএফ নজর দিয়েছিলো স্কলারির দিকেই। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস ছিল বিগ ফিলের ফুটবল দর্শন বায়ার্ন মিউনিখের কোচের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে এবং সেটা ব্রাজিলিয়ানদের বেশি কাজে লাগবে। মারিন জানিয়েছেন বিশ্বকাপ জিততে পারলে স্কলারি অসাধারণ বিশেষজ্ঞে পরিণত হবেন। দলের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নিজেদের মাঠে কনফেডারেশন কাপ জয়ের পর স্কলারির ওপর আস্থা আরো বেড়ে গেছে। ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রিও গ্র্যান্ডে ডো সুলে জন্মগ্রহণকারী স্করারি খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে ততটা মেলে ধরতে না পারলেও কোচ হিসেবে তার প্রজ্ঞা ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী আলো ছড়িয়েছে। গত তিন দশক ধরে তিনি কোচ হিসেবে সারা পৃথিবীর ফুটবল পাগল দেশগুলোতে ভ্রমণ করেছেন। কুয়েত, জাপান এবং উজবেকিসস্তানের কোচ হিসেবে কাজ করলেও খুব একটা সাফল্য পাননি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র সাত মাসের মাথায় তাকে চাকরিচ্যুত করেছিলেন চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচ। যদিও পোর্তোর আলেগ্রের গ্রেমিও এবং সাও পাওলোর পালমরেইরাসের কোচ হিসেবে তিনি জিতেছেন দক্ষিণ আমেরিকান ক্লাবগুলোর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কোপা লিবারটেডোরস। এছাড়া ২০০৪ সালে তার অধীনে পর্তুগাল ইউরো ফাইনাল এবং ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল। এখন তার লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। এ কারণেই দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরেই তিনি বলেছিলেন, আমি জাতীয় দলকে শিরোপা এনে দিতে চাই। আর তা যদি তিনি করতে পারেন তবে সম্ভবত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য তার হাতে ধরা পড়বে।