মনের মতো চাকরি

অধিকাংশ মানুষের কাছেই চাকরি সোনার হরিণের নাম। কিন্তু এই অদ্ভুত জীবনক্ষেত্রে কি সবসময় এই সোনার হরিণের সঙ্গ ভালো লাগে? অন্তত অর্ধেক মানুষ নেতিবাচক উত্তর দেবেন তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। সবসময় চাকরি মনমতো হয় না। কখনও মানিয়ে নিতে হয়, অথবা কখনও ছেড়ে দেওয়া শিখতে হয়। কীভাবে পছন্দের চাকরি খুঁজে বের করবেন আর কীভাবে মানিয়ে চলবেন তা নিয়ে লিখেছেন ইশরাত বিনতে আফতাব চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রেও নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখা উচিত। কারণ দিনের শেষে আপনার কাজ আপনাকেই করতে হবে এবং যদি আপনি আপনার চাকরিতে আনন্দ না পান তাহলে এই কাজ শেষ করতে আপনাকে মোটামুটি হিমশিম খেতে হবে। অন্যদের কথা শুনে নিজেকে পরিচালিত করবেন না। অনেকেই বলতে পারে অনেক ভালো চাকরি অথবা ভালো বেতন কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এসব অত্যন্ত লোভনীয় হলেও প্রকৃতদৃষ্টিতে মনের মতো চাকরি না পেলে এসবই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। চাকরির ক্ষেত্রে চাকরির সুবিধা না দেখে নিজের যোগ্যতা আর চাহিদা দেখুন। আর কোম্পানিকে আপনি কতটুকু দিতে পারবেন সেটাও বিবেচনা করে দেখা দরকার। আর তাছাড়া, মনমতো কাজ করলে একসময় সেই ক্ষেত্রে আপনি উঁচু কোনো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। কিন্তু যদি মনের বিরুদ্ধে শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে দৌড়ান তাহলে হয়তো সাফল্যের সাথে সাথে স্বপ্নও একদিন আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। তাই বুঝে শুনে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী চাকরি খুঁজে বের করুন। আপনি যদি কিছুটা অলস হয়ে থাকেন তাহলে খুব বেশি দায়িত্বের কাজ না নেওয়াই ভালো। আর যদি অফিসে বসে কাজ করতে পছন্দ করেন তাহলে একধরনের কাজ আপনার জন্য, আবার যদি ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন তাহলে অন্য ধরনের কাজ। কাজ করার সময় যদি তাতে কোনো মজা না পান তাহলে সেই কাজের অগ্রগতি ক’দিন পরেই মন্থর হয়ে যাবে। আর কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আধুনিক তথ্য দ্বারা আপডেটেড থাকার চেষ্টা করুন। আর সিনিয়র হোক অথবা জুনিয়র হোক সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখুন। জুনিয়রদের ওপর কাজ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। কলিগরা বন্ধু হলে কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয়, কারণ যদি কোনো কারণে অফিসের কাজে মন না বসে তাহলে চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন কলিগদের নিয়ে কোথাও। কারণ এই ব্যস্ত জীবনে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সব বন্ধুদের সাথে সময় মেলানটা শুধু দুষ্কর নয়, অনেকটা অসম্ভবও বটে। আর খেয়াল রাখবেন যাতে ব্যক্তিগত জীবনের সকল ঘটনা আপনার প্রফেশনাল কাজে ব্যাঘাত না ঘটায়। দুটোকে আলাদা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নিজেকে বুঝে নিয়ে চাকরি নির্বাচন করুন দেখবেন চাকরিও আপনার জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।