অপ্রতিরোধ্য শেখ জামাল

মোহামেডানের মতো করেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব কাল বিজেএমসিকে উড়িয়ে দিল। পার্থক্যটা স্কোর লাইন। মোহামেডানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল শেখ জামাল। আর কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেখ জামাল ৬-২ গোলে হারালো অফিস দলটিকে। বিজেএমসির দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেখ জামাল বড় জয় পায়। এরই ফাঁকে দুই গোলও দিয়েছে বিজেএমসি। কিন্তু তাদের খেলায় ছন্দ ছিল না। প্রথমার্ধেই শেখ জামাল পাঁচ গোল করে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে শেখ জামাল গোল করে একটি। আর এই এক গোলের আগে পরে বিজেএমসির দেয় দুটি। দ্বিতীয়ার্ধে বিজেএমসি ভালো খেলেছে। তাই বিরতির পরের খেলাকে বলা যায় না এক তরফা হয়েছে। শেখ জামালের লক্ষ্য ছিল গোল করতে পারি না পারি। গোল আর খাবো না। বিজেএমসির খেলোয়াড়দের শুরু থেকে মনোসংযোগ দেখা যায়নি। অপ্রতিরোধ্য শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব যেন বিজেএমসির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলের গোল আদায় করে নিলো। শেখ জামালের ওয়েডসন, সনি, ডার্লিংটন, মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, লিংকনরা বিজেএমসির উপর সাঁড়াশি আক্রমণ করে তাদের ভঙ্গুর ডিফেন্সকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়। সনি, ওয়েডসনরা দুর্দান্ত সব গোল করলেন। শেখ জামালের হাইতির এবং নাইজেরিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে ভালোই মিল। তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে নিয়ে গোল করছেন। দলকে জেতাচ্ছেন। অনুশীলনের জন্য ভালো মাঠ না পাওয়ায় এই সব খেলোয়াড়দের মধ্যে নাকি একটা জেদ তৈরি হয়েছে। ভালো খেলা উপহার দিয়ে আবার নতুন করে জানিয়ে দিতে চান, শুধু খেলা অন্য কিছু নয়। খেলোয়াড়রাই অনুশীলন মাঠে বলছিলেন এমন কথা। সেই ফোকাসটা সামনে রেখে মোহামেডানকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ৩-০ ব্যবধানে। কাল আরো বড় ব্যবধানে জিতলো। নবম মিনিটে হাইতির ওয়েডসন (১-০), ২৮ মিনিটে ওয়েডসনের বাড়ানো বলে গোল করেন নাইজেরিয়ান এমেকা ডার্লিংটন (২-০)। তৃতীয় গোলটি করান ওয়েডসন। এবারেরটি শেখ জামালর প্লেসমেকার হাইতির সনি নর্দে (৩-০)। চতুর্থ গোলটি এমেকা ডার্লিংটনের, এটি তার নিজের দ্বিতীয় গোল (৪-০)। বিরতির আগের মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ ছিল ডার্লিংটনের। কারণ সনিকে মাটিতে ফেলে দেন ডিফেন্ডার সাইফুল। কিন্তু সনি বা ডার্লিংটন গোল না করে বিজেএমসির পেনাল্টি বক্সে দাঁড়িয়ে শেখ জামালের রক্ষণভাগ থেকে ডেকে আনা হলো নাইজেরিয়ান আলী আঙ্গুল্লাহকে। বল তুলে দিয়ে বলা হলো গোল করো। আলী আঙ্গুল্লাহ করলেন ম্যাচের পঞ্চম গোল (৫-০)। কিন্তু কেন এমনটি করলেন দলের নাইজেরিয়ান কোচ যোসেফ আফুসি? খেলা শেষে তার জবাব ছিল, ‘সনি নর্দে, ওয়েডসন কিংবা ডার্লিংটনরা তো গোল করেই। একটা গোল না হয় আলী আঙ্গুল্লাহ করলো।’ তা না হয় ঠিক আছে। কিন্তু ম্যাচের পর শেখ জামাল একটি গোল পেলো। আর বিজেএমসি দুবার জামালের জালে বল রেখেছে। আফুসির জবাব, ‘এমেকা ডার্লিংটন, ব্যথা পেয়েছিল। ওয়েডসন হলুদ কার্ড পেয়েছে বলে মাঠ তুলে নিয়েছি। কারণ আগামী ম্যাচ আবাহনীর বিরুদ্ধে।’ অপরদিকে এতগুলো গোল প্রসঙ্গে যোসেফ আফুসির বক্তব্য হচ্ছে, ‘এটা টিম ইউনিটি আর কমিটমেন্ট।’ বড় ব্যবধানে ম্যাচ হেরে ক্লান্ত বিজেএমসির কোচ আলী আজগর নাসির। এই কোচ চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের উপরমহল থেকে সমর্থন পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। কাল খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, ‘ভাই আমার কথা কিছুই লিখবেন না প্লিজ। আমাকে মাফ করে দিন। পরিশ্রমিক পাই না। বাসার বাজারের খরচের টাকা বাঁচিয়ে আমি অনুশীলনে আসি। এভাবে দল চলে না। আমাকে এখন বিদায় করে দিলে আমি আলহামদুল্লাহ বলতাম।’ ফুটবলার স্যামসন ইলিয়াসু বললেন, আমরা বেতন পাই না। নিজেরা যে খাবার কিনে খাবো সে টাকাও নেই আমাদের কাছে।’ বিজেএমসির নাইজেরিয়ান উচে ফেলিক্স ৬২ মিনিটে প্রথম ব্যবধান কমান (১-৫)। ৮৮ মিনিটে গোল করেন শেখ জামালের সোহেল রানা (৬-১)। আর খেলার শেষ বাঁশির আগে নাইজেরিয়ান স্যামসন ইলিয়াসু গোল দ্বিতীয় দফায় হারের ব্যবধান কমান (২-৬)। আজ ঢাকায় খেলা নেই। আগামীকাল আবাহনী ও উত্তর বারীধারা, ৭টা ৩০। প্রতি ম্যাচেই দশ হাজার টাকা বোনাস  স্পোর্টস রিপোর্টার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব এখন ম্যাচ জিতলেই খেলোয়াড়দের বোনাস দিচ্ছে। আগের দুটি ম্যাচে মোহামেডান মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েও ক্লাব সভাপতি মঞ্জুর কাদের ১০ হাজার টাকা করে বোনাস দিয়েছেন। গতকাল বিজেএমসিকে হারানোর পরও বোনাস দেয়ার কথা জানা গেছে। খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখতেই নাকি প্রতি ম্যাচে বোনাস দেয়া হচ্ছে। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৫ খেলায় ৩৭ পয়েণ্ট নিয়ে এগিয়ে রয়েছে একক ভাবে। একদিকে শেখ জামাল তার খেলোয়াড়দের মনোবল উসকে দিতে অর্থ দিচ্ছে।