সার্চ রেজাল্ট মুছে দিতে ইউরোপিয় আদালতের নির্দেশ

গুগলসহ সব সার্চ ইঞ্জিনেরই একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীর সার্চ করা তথ্য সংরক্ষণ করে এবং পরবর্তী সময়ে সেই তথ্য ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সার্চকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করে থাকে। তবে সার্চ করার সময়ে ব্যবহারকারী একান্ত ব্যক্তিগত অনেক তথ্যও সার্চ করে থাকে, যা সংরক্ষিত থাকলে তার জন্য বিব্রতকর হয়ে ওঠাও বিচিত্র নয়। ব্যক্তিগত তথ্যের এমন গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এবারে ইউরোপের শীর্ষ আদালত গুগলকে নির্দেশ দিয়েছে সার্চ রেজাল্ট মুছে দিতে। ইউরোপিয় ইউনিয়ন কোর্ট অব জাস্টিসের রায়ে বলা হয়েছে সার্চ করা তথ্য মুছে দেওয়ার জন্য যেকোনো গ্রাহকই জানাতে পারবে গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনকে। আর সেটি করলে এসব তথ্য মুছেও দিতে হবে সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে। রায়ে বলা হয়, ‘কোনো ব্যক্তির নামে কোনোকিছু সার্চ দিলে যদি সার্চ রেজাল্টে আসা ওয়েক পেজের লিংকগুলোতে ওই ব্যক্তি সম্পর্কিত তথ্য থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সার্চ রেজাল্ট থেকে ওই ভুক্তিগুলো সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করতে পারে।’ আদালতের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সিনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে গুগলের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘কেবল সার্চ ইঞ্জিনই নয়, অনলাইন প্রকাশনার ক্ষেত্রে এটি হতাশাজনক একটি সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত আমাদের বিস্মিত করেছে।’ সার্চ রেজাল্ট মুছে দেওয়ার এই মামলায় উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কোনো ব্যক্তি কোনো সময় মিথ্যা কোনো অভিযোগে মামলার মুখোমুখি হলে সেটি কোনো ওয়েবে প্রকাশ পেলে ওই ব্যক্তির নামে সার্চ করলে সেটির লিংক চলে আসে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই মামলায় সে নির্দোশ প্রমাণিত হলেও তার তথ্য ওয়েবে না থাকলে পরে সার্চ করলেও আগের মামলার তথ্যটিই আসে, পরে তার নির্দোশ প্রমাণের তথ্য আসে না। এটি ওই ব্যক্তির জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। গুগল জানিয়েছে, তারা কেবল সার্চ রেজাল্টের ইনডেক্স করে থাকে, লিংক নিয়ন্ত্রণ করে না। সেক্ষেত্রে কনটেন্টের প্রকাশক যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে সেই লিংকটি সরিয়ে ফেলা হবে, সেটিই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে বলে মত প্রকাশ করেন গুগলের হেড অব ফ্রি এক্সপেশন বিল এচিকসন।