আতঙ্কের আরেক নাম অপহরণ
প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৪, ২১:৪৩
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অপহরণভীতি। প্রকাশ্য দিবালোকে লোকজনকে তুলে নিয়ে হত্যা ও গুমের ঘটনায় শঙ্কিত দেশবাসী। ১৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক অপহরণ হওয়ার পর থেকে জোরালোভাবে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়। প্রচারমাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থার তোপের মুখে অপহরণের ৩৫ ঘণ্টা পর তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এ ঘটনার রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। এ ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হতে না হতে ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সিটি কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে ওই একই সময়ে পৃথকভাবে অপহরণ করা হয়। অপহরণের চারদিন পর অপহূত ওই ৭ জনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে একে একে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। অপহরণের পর সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত এসব ব্যক্তির পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা হয়তো কারো জানা নেই।
অপরাধীদের কাছে সব শক্তিই এখন যেন পরাস্ত। এরা হায়নার মতো তাড়া করছে মানুষকে। ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রকাশ্য দিবালোকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে লোকজনকে। প্রশাসনের নাকের ডগায়ই ঘটছে বেশিরভাগ ঘটনা। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন মহল। বিভিন্ন সূত্র মতে, সাড়ে তিন বছরে ৪ শতাধিক লোককে গুম ও অপহরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অপহরণ করা হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে গত চার মাসে। অপহূত ব্যক্তির স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। শত চেষ্টার পরও উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না অনেককে। এ পরিস্থিতি দারুণভাবে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছে অপহূতের পরিবারকে।
একের পর এক ঘটছে অপহরণের ঘটনা। রহস্যাবৃত অনেক ঘটনার জন্ম হচ্ছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; কিন্তু রাষ্ট্র কি নিরাপত্তা দিতে পারছে?
কিশোরগঞ্জ