ভুভুজেলার জায়গায় দিয়াবোলিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের কোন বিষয়টি এখনো আপনার চোখে ভাসে? কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার লজ্জাজনক পরাজয়? নাকি কুিসত ফুটবলের চূড়ান্ত প্রদর্শনী দেখানো সেই ফাইনাল? আপনি যত বড় ফুটবল ভক্তই হন না কেন, যদি শুধু একটি দৃশ্য দিয়ে আপনি ফুটবলের গত আসরটিকে ব্যাখ্যা করতে চান, তাহলে নিশ্চিতভাবে উঠে আসবে গ্যালারী ভর্তি দর্শকদের গগনবিদারী স্বরে ভুভুজেলা বাজানোর সেই দৃশ্য। এমন দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তত হন এবারও। তবে ভুভুজেলা নয়, ব্রাজিল বিশ্বকাপে শব্দঝড় তুলতে প্রস্তুত বেলজিয়ান বাশি দিয়াবোলিকা। দিয়াবোলিকার তরুণ নির্মাতার জানিয়েছেন এরই মধ্যে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহের অনুরোধ পাচ্ছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১২ জুন ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হবার আগেই অন্তত ৪০ লাখের বেশি ডায়াবোলিকা বিক্রি করতে পারবেন তারা। দিয়াবোলিকার এমন সাফল্যে অবাক এর দুই নির্মাতা ডেভিড দস সান্তোস ও ফ্যাবিও ল্যাভেলিও। দস সান্তোস বলেন, ‘আমরা কখনোই আসলে এমন সাফল্য আশা করিনি।’ রেড ডেভিলস ফুটবল টিম নামের বেলজিয়ান একটি ক্লাবের অনুসরণে নাম রাখা দিয়াবোলিকা গত বছরের শেষ দিকে প্রথম আসে বেলজিয়ামের বাজারে। এরই মধ্যে স্থানীয় বাজারে সেটি বিকিয়েছে তিন লাখেরও বেশি। বর্তমানে মাদ্রিদে মূল কারখানায় তৈরি হবার পর বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মনসে সান্তোসদের মূল প্রতিষ্ঠানে আসে দিয়াবোলিকাগুলো। সেখানেই বিশ্বব্যাপী রপ্তানির জন্য তৈরি হয় তারা। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার দিয়াবোলিকা তৈরি করছেন বলে জানান সন্তোস। ভুভুজেলার সঙ্গে ডায়াবোলিকার সাদৃশ্য যেমন আছে তেমনি কম নয় বৈসাদৃশ্যও। ভুভুজেলার সমপর্যায়ের শক্তি উত্পাদনে সক্ষম এই বাঁশি তার দক্ষিণ আফ্রিকান প্রতিপক্ষের চাইতে অনেক সহজে বহনযোগ্য। অথচ একই পরিমাণ শব্দ সৃষ্টিতে ভুভুজেলার চাইতে অনেক কম শক্তি ব্যয় করতে হবে দিয়াবোলিকার পেছনে। লম্বায় মাত্র পাঁচ ইঞ্চি বাদ্য যন্ত্রটির মূল সুবিধা অবশ্য এটা নয়। এর শব্দ ভুভুজেলার মতো অতটা রুক্ষ হবে না। ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না মানুষের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের। আর সম্প্রচারকারীরাও সরাসরি খেলা সম্প্রচারের সময় বাঁচবেন উটকো ঝামেলার হাত থেকে। এমন অভিনব বাদ্যযন্ত্র তৈরির ভাবনাটা কিভাবে মাথায় এলো এমন প্রশ্নের জবাবে সান্তোস বলেন, ‘আমার একজন বন্ধু আছে যে কিনা রিয়াল মাদ্রিদের অন্ধ ভক্ত। তার এক বন্ধু স্টেডিয়ামে ক্যানিস্টার হর্ন (বর্তমানে স্পেনে নিষিদ্ধ একটি বাদ্যযন্ত্র) নিয়ে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় সে নতুন একটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির কথা ভাবতে শুরু করে। সেভাবে পাখিরা কিভাবে শব্দ করে। পর্দায় কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় শব্দ কিন্তু অভীষ্ট শব্দটা সে কিছুতেই সৃষ্টি করতে পারছিল না। অবশেষে সে খুঁজে পায় দিয়াবোলিকার এই বিশেষ পর্দাটি।’ নতুন এই বাদ্যযন্ত্রের দামটাও থাকছে ফুটবল ভক্তদের হাতের নাগালেই। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকার রংয়ের আদলে বিভিন্ন ঢংয়ের এই বাদ্যযন্ত্রের দাম পড়ছে বাংলাদেশি টাকার প্রায় ৯০০ টাকার মতো। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এরিয়া করিন্থিয়াস, মারাকানায় আগামী ১২ জুন থেকে ঝড় তুলতে যাচ্ছে দিয়াবোলিকা।