ফ্রান্স দল ঘোষণা
প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৪, ২১:১৯
মিডফিল্ডার সামির নাসরি ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিততে সাহায্য করলেও ফ্রান্সের বিশ্বকাপগামী দলে ঠাঁই পাননি। এ নিয়ে আবার টুইটারে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশ্যাম এমনকি ফ্রান্সকে নিয়েও অস্বাভাবিক ক্ষিপ্ত হয়ে অভব্য গালি দেন তার বান্ধবী আনারা অ্যাতানেস ।
ফ্রান্স ১৫ জুন ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে প্রথম খেলায় হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে। এ গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলো সুইজারল্যান্ড ও ইকুয়েডোর।
কোচ দেশ্যাম সরাসরি ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে নয়জন খেলেন ইংল্যান্ডে। এদের মধ্যে আছেন কিউপিআরের স্ট্রাইকার লোইচ রেমি যে কিনা এ মৌসুমে টটেনহ্যামে ধারে খেলেন।
ইংলিশ লিগের অপর খেলোয়াড়রা হলেন, টটেনহ্যাম গোলরক্ষক হুগো লোরিস, নিউক্যাসলের ম্যাথু দেবুছি ও মউসা সিসোকো, ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের লেফট ব্যাক প্যাট্রিস এভরা এবং লিভারপুলের সেন্টার ব্যাক মামাদু সাখো, আর্সেনালের তিনজন লরেন্ত কোসিয়েলনি, বাকারি সাগনা ও অলিভার গেরুদ।
বাদ পড়াদের মধ্যে আছেন গায়েল ক্লিছি ও এরিক আবিদাল। তবে কোচ দেশ্যাম মূলত শৃংখলাজনিত কারণে নাসরির উপর সন্তুষ্ট নন বলেই তাকে নেননি। সেটি তিনি দল ঘোষণার সময় প্রকারান্তরে জানিয়েও দেন। ফ্রান্সকে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জেতানো দলের অন্যতম সদস্য ও বর্তমানে কোচ দেশ্যাম বলেন, ‘সে নিয়মিত একাদশে ঠাঁই না পেলে অসন্তুষ্ট হয় এবং আমি বলতে এই ব্যাপারটা দলে অনুভূত হবে। আমি সেরা দল গড়েছি, আমি সেরা ২৩ জন ফরাসি খেলোয়াড় বাছাই করেনি।’
নাসরি নিজেও অনুমান করতে পেরেছিলেন দলে যে তার ঠাঁই হচ্ছে না। ২০১২ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সময় তিন ম্যাচের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাওয়া নাসরি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দু:খজনকভাবে এটা ঘটতে যাচ্ছে না। আমি এ বছর লিগ ও কাপ জিতেছি বলেই স্রেফ সুখি। এটা যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে তো যথেষ্ট নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও বাদ পড়েছিলাম। তবে আমি এখনো জীবিত আছি এবং আগের যে কোন সময়ের চাইতে শক্তিশালী। আমি ছুটিতে থাকাকালে এটা টেলিভিশনে দেখতে যাচ্ছি এবং আমি ঠিকঠাকই থাকবো।’
তার বান্ধবী অবশ্য ব্যাপারটা এত সহজে নিতে পারেননি। তাই তিনি কোচকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গালমন্দ করে অভব্য কথাবার্তা লেখেন। দেশ্যাম এ নিয়ে কিছু না বললেও নাসরি সম্পর্কে ফ্রান্সের টিভি চ্যানেল টিএফওয়ানকে বলেন, ‘সামির ম্যানচেস্টার সিটির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে সে ফ্রান্সের হয়ে সেরকম কিছু দেখাতে পারেনি। সে সিটির নিয়মিত একাদশে থাকে তবে ফ্রান্সের ক্ষেত্রে তা নয়।’
ফ্রা ন্স দ ল
গোলরক্ষক:
হুগো লোরিস (টটেনহ্যাম হটস্পার), স্টিভ মান্দানা (মার্সেই), মিকায়েল ল্যান্দ্রু (বাস্তিয়া)।
রক্ষণভাগ:
ম্যাথু দেবুছি (নিউক্যাসল), লুকাস দিগনে (প্যারি সেন জার্মেই), প্যাট্রিস এভরা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), লরেন্ত কোসিয়েলনি (আর্সেনাল), বাকারি সাগনা (আর্সেনাল), এলিয়াকুইম মানগালা (পোর্তো), মামাদু সাখো (লিভারপুল), রাফায়েল ভারানে (রিয়াল মাদ্রিদ)।
মধ্যমাঠ:
ইয়োহান কাবায়ে ও ব্লেইসে মাতুইদি (প্যারি সেন জার্মেই), ক্লেমেন্ত গ্রেনিয়ের (লিয়), রিও মাভুবা (লিলে), পল পোগবা (য়ুভেন্তাস), মউসা সিসোকো (নিউক্যাসল), ম্যাথিউ ভালবুয়েনা (মার্সেই)।
আক্রমণভাগ:
করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ), ওলিভার জিরুদ (আর্সেনাল), আন্তোয়েনে গ্রিয়েজমান (রিয়াল সোসিয়েদাদ), লোইচ রেমি (নিউক্যাসল), ফ্রাংক রিবেরি (বায়ার্ন মিউনিখ)।