তরুণ সমাজ কি হতাশ
প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৪, ২১:৪৪
তরুণ সমাজ নষ্ট
হয়ে যাচ্ছে দেখে
আমি হতাশ
বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কোথাও কোনো আড্ডা নেই। এখন হয়তো অনেকেই জানে আড্ডার মানে কি? অনেক বন্ধু একসাথে বসলে বিভিন্ন ধরনের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জ্ঞান বিকাশ ঘটতে পারে সেটা ভুলে গিয়ে হয় সে নেটে বসে ফেসবুকে আড্ডা দিচ্ছে, না হয় গার্লফ্রেন্ড নামক এক মরীচিকার সাথে কোনো এক গাছের নিচে বসে মূল্যবান সময় ব্যয় করছে। আর এসব ফেসবুক ও গার্লফ্রেন্ড নামক মরীচিকার প্রভাবে একজন তরুণের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আজ যদি বাংলাদেশে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকতো, সিলেবাস সংস্কার করার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনগুলো যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতো তাহলে তরুণ সমাজকে উজ্জীবিত রেখে দেশের সম্পদ করে গড়ে তোলা যেত। তরুণ সমাজকে দেশের বোঝা না বানিয়ে সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর যদি না নেয়া হয়, তাহলে তরুণ সমাজ বলে কিছু থাকবে না। তরুণ সমাজ বলে কিছু না থাকলে দেশ আবার পরাধীন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
মেহেদী হাসান
ফোকলোর বিভাগ
এস এম হল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
আজকের তরুণরা
মোটেও হতাশ নয়
আজকের তরুণকে আমি কখনোই হতাশাগ্রস্ত বলতে আগ্রহী নই। কেননা, আজকের এ তরুণদের মধ্যে থেকেই বেরিয়ে আসছে নব নব উদ্ভাবন। তারা তাদের নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজ সর্বোপরি নিজের জন্য নানান ধরনের অবদান রেখে চলেছেন। এদেশের মোট জনসংখ্যার অনেক বড় একটা অংশ হলো এই তরুণ সমাজ। যাদেরকে হতাশাগ্রস্ত দেখলে জাতি সামনে অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ভবিষ্যত্ দেখতে পায়। তাই সার্বিক বিচারে তরুণ সমাজ তাদের জায়গা থেকে অনেক বেশি আশা দেখাতে পারে। যে আশার উপর ভিত্তি করেই আগামীর বাংলাদেশের ভিত রচিত হবে। যার ফলশ্রুতিতে এ দেশের অবস্থান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আজকের তরুণ সমাজ যে হতাশ নয় তা আমরা দেখতে পারি সাম্প্রতিক সময়ের কিছু তরুণের কাজের মাধ্যমে। যেমন বাংলাদেশের নবম শ্রেণির ছাত্র অর্ণব সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি আয়োজন গ্লোবাল ক্লাসরুম শীর্ষক অনুুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দিয়ে এসেছেন একজন প্রশিক্ষক হিসেবে। আবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুবাশ্বিরের তৈরী করা স্বল্প দৈর্ঘ্যর চলচ্চিত্র মনোনীত হয়েছে। এরকম আরো ভুরিভুরি উদাহরণ দেয়া যাবে। যাতে প্রতীয়মান হয় যে, আজকের তরুণরা হতাশ নয় বরং আশা রাখার মতো অবস্থানে রয়েছে।
শরিফুল ইসলাম নাসের
সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
মাস্টার্স অধ্যয়নরত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
হতাশা উত্তরণে
প্রয়োজন উদ্যোগ
আজকের তরুণ সমাজের হতাশার পেছনে নানা ধরনের ঘাত-প্রতিঘাত কাজ করছে। বেকারত্ব, মাদকের ছোবল, সামজিক সর্ম্পকের অবনতি, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন প্রভৃতি বিষয়গুলো এক্ষেত্রে অনেক বেশী দায়ী। তরুণ প্রজন্মের যৌবনের যে উচ্ছ্বাস থাকার কথা ছিল তাতে অনেকটাই স্তিমিত ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণের অভাবকে। যার মাধ্যমে আজকের সমাজ নানানভাবে প্রভাবিত হচেছ। কেননা এ তরুণ সমাজরাই আজকের ও আগামীদিনের সমাজকে গড়বার কথা। কিন্ু্ত তা না করে তাদের এ করুণ অবস্থা সত্যিই আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
আতাউর রহমান রুবেল
তৃতীয় বর্ষ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,সাভার,ঢাকা।
তরুণ সমাজ
সত্যি আজ
হতাশ নয়
সমাজের যে অংশকে ইতিহাসে কোন সময়ই অগ্রাহ্য করা যায়নি সেটি হলো আজকের তরুণ সমাজ। আমাদের আপাতঃদৃষ্টিতে এখন মনে হচেছ আজকের তরুণ সমাজ অনেক বেশি হতাশাগ্রস্ত। কিন্তু এ তরুণ সমাজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অপার সম্ভাবনা। যার মাধ্যমে এ তরুণরা পারে আগামীদিনের নেতৃত্বে আসতে। তাদের এ হতাশা কাটিয়ে যোগ্য করে তুলতে সময়োপযোগী কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
আহসান হাবীব
মাস্টার্স শিক্ষার্থী, ইংরেজী বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,সাভার,ঢাকা।