মোহামেডানকে টপকালো ব্রাদার্স

ব্রাদার্স ২ ১ সকার ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন পেশাদার লিগের প্রথম পর্বে দশ দলের মধ্যে ছিল সাত নম্বরে। সেই দলটিই এখন পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে। প্রথম পর্বে ব্রাদার্স জয় পেয়েছিল মাত্র দুটি। আর দ্বিতীয় পর্বে এসে ইতোমধ্যেই চার জয় তুলে নিয়েছে। গতকাল ব্রাদার্স ২-১ গোলে সকার ক্লাবকে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্বে টানা চতুর্থ জয়টি পায়। বদলে যাওয়া ব্রাদার্সকে নিয়ে এখন ফুটবল মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন চেহারায় ব্রাদার্স এ কোন রূপ দেখাচ্ছে। রেলিগেশন ঠেকানোই ছিল প্রথম লক্ষ্য। সেই ব্রাদার্স এখন ১৫ খেলায় সাত জয় নিয়ে ২৫ পয়েন্ট পেয়ে আরো উপরে উঠার স্বপ্ন দেখছে। স্বপ্নটা দুঃসাহিসক মনে হলেও অন্য কারো চোখ রাঙ্গানিকে ভয় পাচ্ছেন না ব্রাদার্সের ভারতীয় কোচ সৈয়দ নইম উদ্দিন। আরো কতটা উপরে উঠতে চান জানতে চাইলে ভারতের বিখ্যাত এই কোচ তার স্বভাবসুলভ আচরণে বলেন, ‘আল্লাহ মালিক যেখানে চাইবেন সেখানে থাকবো। আমি চাইলে তো হবে না। ছেলেরা কতটা ভালো খেলতে পারে। সেটারও ব্যাপার রয়েছে।’ স্বাধীনতা কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ফেনীর দল সকার ক্লাব এর আগে বিজেএমসি, আবাহনীর বিরুদ্ধে ভালো খেলেও ম্যাচ হেরেছিল। আর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। এই দলটি ভালো খেললেও জয়টা যেন হাতে এসেও ছুটে যাচ্ছে। গতকালও ভালোই খেলছিল। কিন্তু নিজেদের ডিফেন্ডারদের ভুল পাসের সুযোগে ব্রাদার্সের হাইতির ফরোয়ার্ড বল পেয়ে ছুটে গিয়ে নিচু শটে গোল করেন (১-০) ১৬ মিনিটে। স্ট্রাইকার কেস্তার আকন ম্যাচের দ্বিতীয় গোল পান ৪০ মিনিটে। ছোট বক্সে ঢুকে আচমকা পাওয়ারফুল শট করেন। সকার ক্লাবের গোলকিপার নেহাল সেটা ফিস্ট করতে গেলে বল জালে ঢুকে যায় (২-০)। গোল সংখ্যা আরো বাড়াতে পারতো ব্রাদার্সের। কিন্তু ব্রাদার্সের সিফাত, ফাঁকা নেটে গোল করতে পারেননি। গোল শোধের জন্য সকার ক্লাবের গাম্বিয়ান ফুটবলার ল্যাডিং ডারবো, কাব্বা জোবে, কোইটা লামিন নাইজেরিয়ান চার্লস চুকা প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। ব্রাদার্সের রক্ষণভাগে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছিলেন তারা। আতংকে সাইড লাইনে থাকা কোচ সৈয়দ নইম, ম্যানেজার আমের খান এবং তার সহকারীরা। যে কোনো মুহূর্তে গোল হয়ে যেতে পারে। এমন আশংকাই সত্য হলো ৬১ মিনিটে সকার ক্লাব গোল আদায় করে নিলে। ব্যবধান কমানো গোলটি করেন আলী হাসান ১-২। বিপদ বুঝতে পেরে ব্রাদার্স আক্রমণে ঝাঁপায়। আর বিপদ ঠেকাতে গিয়ে সকার ক্লাবের গোলকিপার নেহাল বক্সের বাইরে এসে হাত দিয়ে বল আটকে দেন। রেফারি তৈয়ব হাসান নেহালকে লালকার্ড দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় সকার ক্লাবের গাম্বিয়ান কোচ ওমর কে সিসে গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড কইটা লামিনকে তুলে নিয়ে উজ্জলকে নামান। দুর্বল হয়ে পড়ে সকারের আক্রমণ। ১০ জনের শেষ ২০ মিনিট ২-১ ব্যবধানই থাকলো। প্রথম পর্বে সকার ক্লাব গোল করেও ম্যাচ জিততে পারেনি, ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। গতকালের হারে সকার ক্লাব আবার রেলিগেশনের আশংকায় পড়লো। কেননা ১৪ খেলায় এক জয়ে তারা পেয়েছে কেবল ৯ পয়েন্ট। পেছনে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী, ১৫ খেলায় এক জয়ে ৮ পয়েন্ট। আগামীকালের খেলা ঃ শেখ রাসেল ঃ বিজেএমসি, ৫টা ৩০।