ম্যারাডোনার সাথে তুলনা নয়!

টানা চারবারের ফিফা-ব্যালন ডি-অর বিজয়ী তিনি। ইনজুরিতে মৌসুমের প্রায় অর্ধেকটা সময় মাঠের বাইরে না থাকলে হয়তো সর্বশেষ বর্ষসেরার খেতাবটা জুটতো তারই ঝুলিতে। বার্সেলোনাকে এখন সবাই চিনে সেই লিওনেল আন্দ্রেস মেসির নামে। অনেক প্রাপ্তির ক্যারিয়ারে মেসির জীবন বৃত্তান্তটা সাদামাটা একটা জায়গায় এসেছে। একবারও যে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ থেকে বিজয়ীর বেশে ফেরা হয়নি। এবার আরেকটি সুযোগ পেতে যাচ্ছেন মেসি। বলা হচ্ছে, আসছে জুন মাসের ২৪ তারিখ ২৭-এ পা রাখতে যাওয়া মেসির এটাই শেষ সুযোগ। এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে অবশ্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ হবার লড়াইয়ে একক ভাবে শীর্ষে চলে আসবেন ভিনগ্রহের ফুটবলার। ছাড়িয়ে যাবেন স্বদেশি ফুটবল কিংবদন্তী ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। কঠিন সেই লড়াইয়ে মেসি জয়ী হবেন কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে, তবে এই মুহূর্তে আর যাই হোক নিজেকে কোনভাবেই ম্যারাডোনার সাথে তুলনায় নিতে চান না তিনি, ‘ম্যারাডোনার সাথে তুলনা হওয়াটা একজন ফুটবলারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। কিন্তু আমার মতে এখনও আমার সাথে তার তুলনা করার সময় আসেনি।’ আর্জেন্টিনায় প্রতিভাবান কোন খেলোয়াড় আসলেই তার সাথে ম্যারাডোনার তুলনাটা একরকম প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, খুব অল্পজনই সেই প্রত্যাশার চাপটা মেটাতে পেরেছেন। তবে মেসির ব্যাপারটা ভিন্ন। বাকিদের থেকে নিজেকে আলাদা করে একের পর এক অর্জন করে চলেছেন অবিস্মরণীয় একেকটা কীর্তি। আসন্ন ব্রাজিল বিশ্বকাপ দিয়েই আরেকটি বড় অর্জনের পথে হাঁটতে চাইছেন মেসি, ‘শ্রীঘ্রই আমি নিজেকে ম্যারাডোনার কাতারে নিয়ে যেতে পারি। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত পারছি না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই নিয়ে কথা না বলাই ভাল। জাতীয় দলের হয়ে তিনি অনেক কিছু করেছেন। আমার মতে একজন ফুটবলার তখনই গ্রেট হয়ে উঠবে যখন সে বিশ্বকাপ জিততে পারবে।’ ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। সেই লড়াইয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সী ম্যারাডোনাই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে মেসির রেকর্ড অবশ্য ঈর্ষণীয়। বার্সেলোনার হয়ে ৪২৪ টি ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ৩৫৪টি গোল। কাতালান ক্লাবটির হয়ে দলটির জয় করেছেন ২১ টি শিরোপা। এবার বিশ্বকাপ জয় করলেই মেসি হয়ে যাবেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তিনি বলেন, ‘যখন মানুষ আমার খেলার প্রশংসা করে তখন সত্যি অনেক ভাল লাগে। ক্যারিয়ার শেষ করার সময় এসবই আমার কাছে প্রাপ্তি হয়ে থাকবে। আর বিশ্বকাপ জিতলে সেটা হবে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা।’ বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইটা যে মোটেই সহজ হবে না সেটাও ভাল ভাবেই বুঝতে পারছেন মেসি, ‘এই মুহূর্তে আমাদের দলটা অনেক ভাল অবস্থায় আছে। সবকিছু দেখে বেশ ভালই মনে হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বকাপ অনেক কঠিন একটা লড়াই। এখানে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।’ তবে, বিশ্বকাপ শুরু হবার এক মাসেরও কম সময় আগে মেসিকে কিছুটা হলেও নির্ভার করে দিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। গত বিশ্বকাপেই কোচ হিসেবে দলটির সঙ্গে থাকা এই কিংবদন্তী ল্যা ন্যাসিওন পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হবার জন্য মেসিকে বিশ্বকাপ জয় করার কোন প্রয়োজন নেই। সে যদি এটা করতে পারে তাহলে সেটা আর্জেন্টিনার জন্য হবে দারুণ এক ব্যাপার। কিন্তু, সেটা না হলে তার বাকি অর্জনগুলোকে ছোট করে দেখার কোন মানেই হয় না।