নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে প্রত্যয় কুসংস্কারের বেড়াজাল ছেঁড়ার

প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নারীকে জেন্ডার সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল এলজিইডি মিলনায়তনে আয়োজিত শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এলজিইডি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ বেগম সেলিনা হায়াত্ আইভি। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত আত্মনির্ভরশীল নারী, জেন্ডার কার্যক্রম বাস্তবায়নে পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল একটি সিটি কর্পোরেশন, একটি পৌরসভা ও দুটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সমাজে এখনও পশ্চাত্পদতা বিদ্যমান রয়েছে, এখনও বলা হয় মেয়েদের চতুর্থ শ্রেণির বেশি লেখাপড়ার দরকার নেই। এ রকম যারা বলেন, তাদের সংখ্যা কম নয়। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে অগ্রসরমানতাও রয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পুরুষদের পক্ষ থেকে সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি আবশ্যক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমস্ত কুসংস্কারের বেড়াজাল ছিন্ন করে আমরা নারী ও পুরুষের সমতা বিধান করতে পারবো। মনজুর হোসেন বলেন, এদেশের নারীরা আজ প্রমাণ করেছেন যে, তারা এগিয়ে এসেছেন পুরুষদের প্রায় সমকক্ষতায়। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী বান্ধব বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির মাধ্যমে নারীদেরকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। নারীদের সাফল্য অর্জনের পেছনে এলজিইডির অবদান প্রশংসনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীদের মধ্য থেকে দেশের মোট ১১০ জন সফল আত্মনির্ভরশীল নারীর সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে থেকে পল্লী উন্নয়ন, পানি সম্পদ উন্নয়ন ও নগর উন্নয়ন খাতের প্রতিটির জন্য তিন জন করে মোট নয় জন নারীকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কৃত নারীরা হলেন পল্লী উন্নয়ন খাতে প্রথম মোসাম্মাত্ আনোয়ারা বেগম (সুনামগঞ্জ), দ্বিতীয় মোসাম্মাত্ মাহিনুর বেগম (পটুয়াখালী) ও তৃতীয় শ্রীমতি সন্ধ্যারানী (লালমনিরহাট)। পানি সম্পদ উন্নয়ন খাতে প্রথম মধুরা জং (ময়মনসিংহ), দ্বিতীয় মোসাম্মাত্ জরিনা আখতার (ময়মনসিংহ) ও তৃতীয় সুদেবী মন্ডল (গোপালগঞ্জ)। নগর উন্নয়ন খাতে প্রথম বগুড়া পৌরসভার মোসাম্মাত্ রোকসানা পারভীন, দ্বিতীয় পাবনা পৌরসভার মোসাম্মাত্ সাহেরা বানু ও তৃতীয় ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ইতিরানী শীল। এছাড়া, এলজিইডির জেন্ডার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সিটি কর্পোরেশন, একটি পৌরসভা ও দুটি ইউনিয়ন পরিষদকেও একই সঙ্গে পুরস্কৃত করা হয়। প্রসঙ্গত এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুর রহমান পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন যে, প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজন সফল নারীকে এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত দুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য অতি সত্বর বিদেশে পাঠানো হবে।