মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপে তারুণ্যের সাফল্য
প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৪, ১৯:৫৫
মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপের বাংলাদেশ জাতীয় পর্বের ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ এপ্রিল। এ প্রতিযোগিতায় তিনটি ক্যাটাগরিতে ছয়টি পুরস্কারের মধ্যে দুইটি পুরস্কারই জিতে নেয় বাংলাদেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইউএসটি)। মাইক্রোসফট আয়োজিত এবারের ইমাজিন কাপে অংশগ্রহণ করেছেন বিশ্বের ১৯০টি দেশের প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থী। প্রতিযোগীদের মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপ শেষে ১১ ও ১২ এপ্রিল দ্বিতীয় পর্বে প্রতিযোগিতার জন্য মাইক্রোসফট বাংলাদেশ ৪২টি দলকে নির্বাচিত করে, যাদের ভেতর তিনটি ক্যাটাগরিতে (ওয়ার্ল্ড সিটিজেনশিপ, ইনোভেশন এবং গেমিং) ৯টি দল ২৬ এপ্রিল ফাইনালে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারী দল গেমিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এ দলের সদস্যরা হলেন মো. ইউসুফ আজাদ, মোনেসুল হক ও সৌরভ পাল। এদের তিন জনই কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের স্বপ্ন ভিন্ন মাত্রার শিক্ষণীয় গেমস তৈরি করা। তাদের তৈরি ত্রিমাত্রিক গেম ‘নট প্রিন্স চারমিং’ উইন্ডোজ ফোনে এনে দেয় সত্যি ভিন্ন এক মাত্রা। তারা দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করে বলেন যে, উইন্ডোজের জন্য সেরা গেম তৈরি করতে প্রস্তুত।
অপর দিকে তড়িত্ প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাফায়েত হোসেন স্বজন ও ফররুখ আহমেদ উজ্জ্বল এবং কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সরকার মিরাজ মাহফুজ এবং সৃজন চক্রবর্তীদের গড়া দল ‘এ ইউ এস টি গিকস’ ওয়ার্ল্ড সিটিজেনশিপ ক্যাটাগরিতে রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তাদের প্রজেক্টটি ছিল ‘সেফটি অন ক্লিক’ যা হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের একটি মিলিত রূপ। আহছানউল্লাহর এই তরুণদের স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি অফিস, শপিং মল ও বিশেষ করে জুয়েলারির দোকানগুলোতে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রদান করা এবং একটি মোবাইলের মাধ্যমে বাড়ির বা অফিসের মালিকদেরকেও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া। তারা মনে করেন যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করতে হলে সর্বপ্রথম ডিজিটাল করতে হবে এ দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা। আর এই লক্ষ্য নিয়েই তারা তৈরি করেন তাদের ‘সেফটি অন ক্লিক’। উপযুক্ত সহায়তা পেলে এখনই তাদের এই প্রোজেক্টটি প্রোডাক্ট রূপে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা।