সৃজনে পথচলা...
প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৪, ১৯:৫৫
খুব ছেলেবেলাতেই শব্দের পর শব্দ গেঁথে ছন্দ তৈরি করে ফেলতেন। এরপর বেড়ে ওঠার সাথে সাথে বেড়েছে সাহিত্যের চৌহদ্দিতে দিনমান বিচরণ। মার্কস অলরাউন্ডার যখন শুরু হয়, তরুণ এই তুর্কী পৌঁছান সেরাদের তালিকায়। নিজের লেখা গল্প নিয়ে চলতি মাসেই বের হলো সংকলন ‘সন্তান’। চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলের আলোচিত সংগঠন ‘পথিকৃত্’-এর যাত্রা শুরুও তার হাত ধরে। সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছেন তরুণ তুর্কী অনুপম দেবাশীষ রায়। তার এগিয়ে যাওয়ার গল্প জানাচ্ছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
অনুপম, রাফিদ এবং ইফতু। ‘উন্মাদ’-এর চরম ভক্ত। তিনজনেই চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। ২০০৯ সালের কথা, কি মনে করে সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেরাও তৈরি করবেন এ রকম একটি রম্য পত্রিকা। যেই ভাবা সেই কাজ। নিজেরা নিজেরাই লিখে, কার্টুন আঁকিয়ে বানিয়ে ফেললেন ‘পা লম্বা মাথা গোল’। শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয় তাদের এই পত্রিকাটি। ‘পা লম্বা মাথা গোল’-এর সফলতা তাদের সাহস যোগায় পরবর্তীতে আরও বড় কিছু করতে। ‘পথিকৃতের পথ হবে শেষ, যেদিন পথিকৃত্ গোটা দেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনজন মিলে প্রতিষ্ঠা করে ফেললেন দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বহুমুখী স্কুল ছাত্র সংগঠন পথিকৃত্ কলেজিয়েট। পথিকৃত্ উত্সব মূলত এমন একটি উত্সব যেখানে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হয়। পথিকৃত্ উত্সব কিন্তু প্রথমেই এই নামের ছিল না, ‘পাইওনিয়ারস অব কলেজিয়েট’ নামে শুরু হয় তাদের এই পথচলা। এই উত্সব তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মেধাবি এই তরুণ মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বের করলেন নিজের প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘সন্তান’। লেখকের বয়সটা নিতান্তই কম হলেও তার লেখা কাহিনীগুলো পড়ে বারবার থমকে যেতে হয়। কাহিনীর বর্ণনায় কোনো আধিক্য তো হয়ইনি, বরং মুন্সিয়ানার ছাপ রয়েছে পুরোটা জুড়ে। লেখক লিখবেন কল্পনায়, কিন্তু বাস্তবপ্রসূত কল্পনা যে কতটা সুন্দর হতে পারে তা ‘সন্তান’ গল্প সমগ্রের মাধ্যমে বোঝা যাবে। এখানে লেখক তার প্রতিদিনের উপলব্ধিটা কতটা গল্পচ্ছলেই জানিয়ে দিয়েছেন আমাদেরকে। পড়া শেষে অজস্র প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে আপনার মনে, হয়তো ক্ষণিকের জন্য অস্বস্তিতেও পড়তে পারেন। এই অস্বস্তিটাই হয়তো আমাদেরকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন অনুপম।
ছেলেবেলা থেকেই নিজেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত করেন নিজেকে। কবিতা লিখতেন অনেক। আর লেখা শেষ তো বাড়ির সবাইকে নিজেই আবৃত্তি করে শোনাতেন। মায়ের কাছে এখনও তার ছেলেবেলার লেখা কবিতাগুলো যত্ন সহকারে রাখা আছে। পারিবারিক অনুপ্রেরণাতেই মূলত এই ক্ষেত্রে নিজের এগিয়ে যাওয়া। রেল কর্মকর্তা দুলাল কুমার রায় আর রীতা রায়ের কনিষ্ঠ সন্তান অনুপম। বাবা-মা আর দুই বোন স্বাগতা আর মালোবিকার আদরে শাসনে আনন্দেই কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো।
অনুপম অবসরে লেখালেখির পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন। ‘ওদের জন্য ভালোবাসা’ শীর্ষক একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তিনি। রাজউক কলেজের এই শিক্ষার্থী এই কলেজের বিতর্ক ক্লাবের মহাসচিব এবং একই সাথে যুক্ত সাহিত্য ক্লাবের সাথেও। দীর্ঘ পাঁচ বছর ছিলেন চট্টগ্রাম পথিকৃত্ কলেজিয়েটের সভাপতি। অবসরে পোস্টার বা লোগো ডিজাইনে বসে যান এই তরুণ। অভিনয়ও করেছেন অনেক ক্ষেত্রে। কাজেই নামেই নয়, কাজেই একজন যোগ্য অলরাউন্ডারের পরিচয় দিয়েছিলেন এই তরুণ তুর্কী। সামনের দিনগুলোতে আমাদের দেশকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই, সেই যাত্রায় অনুপমেরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা।