মিল্কভিটার দুর্নীতি রোধে অসহায় প্রশাসন
প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৪, ২১:২৩
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া মিল্কভিটায় অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই অভিযোগ করে রাঙ্গা বলেছেন, জিয়ার আমলে নিয়োগ পাওয়া বিএনপি-জামায়াতের এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিকল্পিতভাবে মিল্কভিটার ক্ষতি করছেন। তারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য দুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখছেন না। যার কারণে দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, দুধের মান খারাপ হচ্ছে। অনেক সময় তারা পরিকল্পিতভাবে প্যাকেট ছিদ্র করেও দুধ নষ্ট করে দিচ্ছে। ধরা পড়লে বলছে-কারিগরি ত্রুটি। তাদের শাস্তি হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন রাঙ্গা।
কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তদন্তের মাধ্যমে মিল্কভিটার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করে তাদের ছাঁটাই করার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে অগ্রগতির বিষয়টি কমিটির পরবর্তী বৈঠকে জানানোর জন্যও মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন মিল্কভিটা দুর্নীতির আখড়া। যে পরিমাণ লোকবল রয়েছে, সে অনুযায়ী এখানে দুধ উত্পাদন হয় না। মাথাভারী লোকজন। সরকার বার বার উদ্যোগ নিয়েও এটাকে ঠিক করতে পারছে না। কারণ প্রতিষ্ঠানটির মালিক সরকার একা নয়। সরকারের বৃহত্ অংশীদার রয়েছে। মূলত ১২টি সমবায়ের সমন্বয়ে এটা গঠিত। এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারতে আরও কম লোকবল দিয়ে বেশি দুধ উত্পাদিত হচ্ছে, দামও অনেক কম। ভারতের মতো করে প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করানো যায় কিনা, তা দেখা দরকার।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা ইত্তেফাককে বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে আমিও বলেছি, অভিযোগ সত্য। এখানে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লোকবল রয়েছে। যেখানে দরকার পাঁচজন, সেখানে রয়েছে ৩০ জন। তাদের বেশিরভাগ কোনো কাজও করে না। অসাধু ও দুর্নীতিবাজ চক্র বাইরের বিভিন্ন এজেন্টের কাছে কালোবাজারির মাধ্যমে দুধ বিক্রি করে দিচ্ছে। এর সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়নের কতিপয় লোকজনও জড়িত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মিল্কভিটার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকেও (দুদক) বলেছেন। দুদককে টেলিফোনে এই অনুরোধ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বলেছি তদন্ত করে যারা দোষী তাদের চিহ্নিত করে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।
বৈঠকে যোগ দেয়া অপর এক সদস্য ইত্তেফাককে জানান, বৈঠকে উপস্থিত থাকা মিল্কভিটার চেয়ারম্যানও দুর্নীতি-অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, দুর্নীতিবাজ চক্রের কাছে তিনিও অসহায়।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মিল্কভিটার চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর কমিটির সদস্য এডভোকেট রহমত আলী (সংসদীয় কমিটির সাবেক সভাপতি) বলেছেন, আমার সময়েও অনেকগুলো বৈঠকে মিল্কভিটার অনিয়ম বহু আলোচনা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে আমরা অনেক সুপারিশ করেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এখন শক্তভাবে তদন্ত করে দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
বৈঠকে কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, ফজলে হোসেন বাদশা, মাহাবুব আরা গিনি ও রহিমা আকতার যোগ দেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও সংস্থাসমূহের কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ ভবনে চোর আটক : সংসদ ভবনে চুরি করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা পড়েছেন দুই কর্মচারী। সংসদের জরুরি মেডিক্যাল সেন্টারে চুরির সময় তাদের আটক করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এই দুইজন দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। পরে তাদের শেরেবাংলা নগর থানায় সোপর্দ করা হয়। আটককৃতরা হলেন, সংসদ সচিবালয়ের গণপূর্ত বিভাগে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত রানা ও রমেশ।
সংসদ সচিবালয়ের ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস সাদরুল আহমেদ খান সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দরজার মেটাল লক খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় এ দুজনকে আটক করা হয়। সংসদের ড্রাইভওয়েতে অবস্থিত জরুরি মেডিক্যাল সেন্টারের দরজার লক খোলার সময় কাছাকাছি দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা শব্দ শুনতে পান। পরে সেখানে গিয়ে রানা ও রমেশকে যন্ত্রপাতি দিয়ে বন্ধ দরজার লক খুলতে দেখা যায়।