তরুণ সমাজ কি হতাশ

আমি মোটেই হতাশ নই একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ হিসেবে আমি মোটেই হতাশ নই। আমার একটা বিষয় মনে হয়েছে দেশে অতীতের ষড়যন্ত্রগুলো যেমন অনেককাল পরে প্রকাশ পেয়েছে তেমনি এদেশের অনেকগুলো ক্ষেত্রে খুব অলক্ষ্যে যে বেশ কিছু উন্নয়ন ঘটে যাচ্ছে তা এদেশের মানুষ আরো কিছুকাল পরে বুঝতে পারবে। তরুণ-তরুণীরা মেধা-মননের চর্চা করছে, তথ্যপ্রযুক্তিতে দারুণ সাফল্য অর্জন করছে, শিক্ষিত ও আদর্শ চরিত্রের ছেলে-মেয়েদের রাজনৈতিক দলের পদে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রচলন শুরু হয়েছে, নতুন মন্ত্রিপরিষদে সমালোচিত নেতাদেরকে স্থান দেয়া হয়নি, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তত্পরতা দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার আশ-পাশে, আবাসিক হলে এবং বন্ধুদের মধ্যে প্রচুর অধূমপায়ী মানুষজন দেখতে পাচ্ছি, আধুনিকায়নের আওতায় আনা হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রগুলোকে। ইন্টারনেট ও বিদ্যুত্ সংযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শহর ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব কারণে আমি আশাবাদী। এইচ এম হামিদুজ্জামান শাওন মার্কেটিং বিভাগ, এমবিএ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্বারাই তরুণ সমাজের চরম হতাশা লাঘব করা সম্ভব একদিকে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য, অপরদিকে বেকারত্ব দুটোই একটি দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে লেখাপড়া শেষ করেও কর্মসংস্থানের অভাবে প্রকৃত বেকার ও ছদ্ম বেকার হয়ে বাবার ঘাড়ের বোঝা হয়ে ঘুরে বেড়ানো যেমন হতাশার—তেমনি অপহরণ, গুম ও হত্যার মত মর্মান্তিক ঘটনা দেখে একজন তরুণ কখনই হতাশ না হয়ে পারেন না। আমরা তরুণ সমাজসহ গোটা জাতি আজ আতঙ্কিত দেশের চলমান পরিস্থিতিতে। আমাদের প্রশ্ন জাগে, আর কতকাল এভাবে অপরাধীরা ঘুরে বেড়াবে? আর কত লাশ নদীতে ভাসবে? আর কতকাল আপনজন হারিয়ে বিভীষিকাময় জীবন যাপন করবো? তাই তরুণদের পক্ষ থেকে দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের কাছে আবেদন থাকবে— আপনারা তরুণদের তারুণ্যকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সার্বিক উন্নয়ন সাধন করবেন। মো. মোহাইমিনুল ইসলাম অর্থনীতি বিভাগ (৪র্থ বর্ষ),শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তরুণরা হতাশ অনেক কারণে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার মূল চালিকাশক্তি এদেশের যুবসমাজ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য তরুণ সমাজ সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না অনেকাংশেই। হতাশাকে তার একটি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের দেশের তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ হতাশ হয়ে পরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল করার পরও যখন তারা ভাল কোথাও ভর্তি হতে না পারে। নিজের উপর আস্থা কমে যায় অনেকাংশে। আর এই অনাস্থা জন্ম দেয় হতাশার। বাংলাদেশ জন্মের পর থেকে যত অর্জন হয়েছে তার প্রায় পুরোটাই এসেছে তরুণ সমাজের হাত ধরে। বিশ গণিত অলিম্পিয়াডে সৌরভ দাশ বা ধনঞ্জয় বিশ্বাসেরা যখন রানার আপ হয়ে আসে তখন আমরা এদেশের তরুণ সমাজকে হতাশ বলতে পারি না। বৃষ্টি শিকদারকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ার প্রস্তাব দেয়া হয়, সাকিব আল হাসান বা সিদ্দিকুর রহমান আমাদের মুখ উজ্জ্বল করে বিশ্বের কাছে। কেউবা জয় করে হিমালয়। আবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে করা ফাহিমদের পরিকল্পনা যখন শ্রেষ্ঠ হয় তখন আমরা বলতে পারি না এদেশের তরুণ সমাজ হতাশ। আসমা আজাদ আঁখি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের উন্নয়ন দেখে আমি হতাশ নই বছরে প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া, ছাত্র উপবৃত্তি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুম, হত্যার জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে যা সচরাচর করতে দেখা যায় না, গতকল দুপুরে সংবাদ পেলাম যে রাবি শাখা ছাত্রলীগের চার নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে শিক্ষকের সাথে অসদাচরণ করার জন্য। এ ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও উন্নয়নের পক্ষে এবং অপরাধীকে ছাড় দেয়ার পক্ষপাতি নয়। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বর্তমান সরকারের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করি যে জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিশ্রুত এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুক। রাকিব হাসান মার্কেটিং বিভাগ,এমবিএ মাদার বখ্শ হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।