তথ্য-ফাঁস নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিসিবি
সোমবার নতুন কোচের নাম ঘোষণা
প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৪, ২২:১৫
গত বেশ কিছুদিন ধরেই এটা একরকম নিশ্চিত যে, বড় কোনো ঝামেলা না হলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের নতুন কোচ হচ্ছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের শ্রীলঙ্কান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে। সাবেক এই লঙ্কান টেস্ট ক্রিকেটার কোনো কারণে রাজি না হলে কিছু আপোষ করে হলেও দায়িত্ব দেয়া হবে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মাইকেল বেভানকে।
কিন্তু এই নিশ্চিত তথ্যগুলোই প্রকাশ্যে অন্তত খুব রাখঢাক করে রাখতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাদের যুক্তি, কারো নাম প্রকাশ্যে বলে দিলে সেই সম্ভাব্য কোচের ক্ষতি হতে পারে। প্রকাশ্যে এরকম সব যুক্তি দিলেও ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ বলে কথাও বলে চলেছেন বিসিবির কোনো না কোনো পরিচালক। গতকাল বিসিবি সভার আগে-পরে সংবাদ মাধ্যমের কাছে এই ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ পরিচালককে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস এবং স্বয়ং সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
তারা বললেন, এখনও হাতুরুসিংহে বা বেভানকে চূড়ান্ত করেননি তারা। এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা আগামী সোমবার জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানালেন সভাপতি। সেই সঙ্গে জানালেন যে, বোর্ডের পরিচালকরা যাতে এমন করে ভেতরের কথা বাইরে বারবার জানিয়ে না দেন, সে জন্য তারা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বোর্ড সভাশেষে সভাপতি অবশ্য স্বীকার করে নিলেন যে, এখন তাদের আলোচনা মূলত হাতুরুসিংহে ও একজন অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে চলছে, ‘আমরা দুই-তিন জনের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা আগেও আপনাদের বলেছি, যার মধ্যে হাতুরুসিংহে ও আরেক জন আছে। তবে আমরা এখনও কাউকে ফাইনাল কিছু বলিনি। দু’জনই আসতে রাজি। তারপরও টাকা পয়সার কিছু ব্যাপার আছে। আশা করছি, আগামী সোমবারের মধ্যে আপনাদেরকে জানাতে পারবো।’
সভা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জালাল ইউনুস ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বারবার বোর্ড পরিচালকদের সূত্র থেকেই গোপনীয় ব্যাপারগুলো সংবাদ মাধ্যমে চলে আসায়। এটা যে ওই পরিচালকের অনৈতিক কাজ, সেটাই বলেন তিনি, ‘দেখেন এটা নীতিবর্হিভূত একটা কাজ। বোর্ডের গোপনীয়তা যারা বজায় রাখছে না, তারা ঠিক করছে না। আমাদের গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্বার্থের জন্য।’
জালাল ইউনুস সে সময় ইঙ্গিত দেন যে, এই তথ্য যে কোনো বোর্ড পরিচালকই ফাঁস করতে পারেন। কারণ অনুসন্ধান কমিটি তাদের সিদ্ধান্তগুলো বোর্ড সভায় জানানোর পরই প্রতিবার সেগুলো ফাঁস হচ্ছে বলে তার পর্যবেক্ষণ, ‘সমস্যা হয়ে গেছে আমরা যখন সন্ধান কমিটি এটা বোর্ডে জানাই, পরের দিনই আমি দেখেছি যে, পত্রিকায় অনেকের নাম এসেছে।’
বোর্ড সভাপতি পরে বললেন, তারা এই ফাঁস ঠেকানোর জন্য কিছু কাজ করছেন। এ ধররে বেনামি উদ্ধৃতির ভেতর ওই পরিচালক বা সংবাদ মাধ্যমের কিছু তথ্য বিকৃত করার সুযোগ থাকে বলে বলছেন পাপন। আর নিজের পরিচালকদের চ্যালেঞ্জের সুরে বললেন, ‘নিজের নাম প্রকাশ করে কথা বললে সত্যি বলা ছাড়া কোন উপায় নেই। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে তো মিথ্যাও বলতে পারেন। এ ধরনের উদ্ধৃতিতে আমরা দেখছি, ৮০ শতাংশ সত্যি। তবে ২০ শতাংশ ভুল। আর এই বিশ শতাংশই আমাদের জন্য বিপদের কারণ হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি কোন পরিচালক যদি মিডিয়াকে কিছু বলতে চায়, তাহলে তার নাম দিয়ে বলুক। আমাদের আপত্তি নেই। সত্ সাহস থাকলে নাম প্রকাশ করেই কথা বলুন।’ এই নামে-বেনামে নিয়ে অনেক কথার পাশাপাশি পাপন বললেন, তারা আসলেই কোচ নিয়োগের খুব কাছাকাছি চলে গেছেন। তবে সেটা যে হাতুরুসিংহেই, তা তিনি মানছেন না। বরং বলছেন, যারা বলছেন যে, এই শ্রীলঙ্কান নিশ্চিত হয়ে গেছেন, তারা ভুল বলছেন। কারণ নিশ্চিত হওয়ার পর্বের আলোচনা এখনও বাকি বলে তার দাবি। বরং পাপন বলছেন, দু’ জনের সঙ্গে আলোচনাই আসলে প্রায় একই পর্যায়ে আছে।