স্প্যানিশ লিগের ফয়সালা আজ

অ্যাথলেটিকোর দরকার এক পয়েন্ট, বার্সার জয় অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ আজ শনিবার রাতে যখন ন্যু ক্যাম্পে স্বাগতিক বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে; সেসময় দুটি দলের লক্ষ্যই হবে অভিন্ন, স্প্যানিশ লিগের শিরোপা জয়। কোচ দিয়েগো সিমিওনের অ্যাথলেটিকো বার্সেলোনার চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় শিরোপার জন্য তাদের দরকার কেবল এক পয়েন্ট। সে তুলনায় বর্তমান লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার দরকার পুরো তিন পয়েন্ট; যা তাদের ষষ্ঠ মৌসুমের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো ট্রফি জয়ের আনন্দে ভাসাবে। এর অন্যথা হলে ১৮ বছর পর আবার ট্রফি জিতবে অ্যাথলেটিকো। বার্সেলোনা মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতে, ‘পুরো মৌসুমটি এখন ৯০ মিনিটে এসে দাঁড়িয়েছে।’ যদিও কাতালানরা লিগের প্রথম পর্বে অ্যাথলেটিকোর মাঠে গোলশূন্য ড্র করে আসায় মুখোমুখিতার হিসেবে আছে ভাল অবস্থানে। ইনিয়েস্তা জানিয়েছেন তারা জিততে পারলে শিরোপাটি গত মাসে মৃত্যুবরণ করা তাদের সাবেক কোচ টিটো ভিলানোভাকে উত্সর্গ করবেন। চলতি মৌসুমে উভয় দল আজকের আগ পর্যন্ত যে পাঁচটি খেলায় মুখোমুখি হয়েছে তার মধ্যে চারটিই শেষ হয় ড্রয়ে। অপর খেলাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালিস্টরা মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনাকে ১-০ গোলে হারায়। সেটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগ। লা লিগার ইতিহাসে এ নিয়ে কেবল তৃতীয়বার শিরোপা লড়াই শেষ দিনে গড়ালো। আগের দুটিতেও সংশ্লিষ্ট ছিল ক্লাব দুটি। এর মধ্যে ১৯৫০-৫১ মৌসুমে অ্যাথলেটিকো শেষ রাউন্ডে সেভিয়াকে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তারও পাঁচ বছর আগে একই ধরনের লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছিল সেভিয়া। অবশ্য অ্যাথলেটিকো অধিনায়ক গাবি ফার্নান্দেজ বলেছেন, ‘আমরা অতীতের দিকে তাকাতে পারবো না, আমরা বর্তমানেই মনোনিবেশ করতে চাই। কেননা আমাদের সামনে লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ উভয়টিই জয়ের ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। পর্তুগালে লিসবনে ২৪ মে অ্যাথলেটিকো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার বাইরে তৃতীয় কারো লিগ জয়ের সর্বশেষ নজিরটি ২০০৪ সালের। সেবার ভ্যালেন্সিয়া শিরোপা জিতেছিল। আজকের লড়াইয়ে অ্যাথলেটিকোর অন্যতম প্রধান অস্ত্র ইনজুরির কবলে পড়া দিয়েগো কস্তা খেলতে পারবেন কিনা সে নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদিও কোচ সিমিওনে জানিয়েছেন, ম্যাচের শুরু থেকে কস্তা খেলবেন। এদিকে বার্সেলোনাও তাদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় কার্লেস পুয়োলকে পাচ্ছে না। কেননা কাতালান ক্লাবটিতেই ১৫ বছরের ক্যারিয়ার শেষে চলতি মৌসুম জুড়ে হাঁটুর ইনজুরির মধ্যে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অবসর নিয়ে নেন পুয়োল। ১৯৯৯ সালে অক্টোবরে অভিষেক নেয়া পুয়োল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি কোচদের সাথে কথা বলেছি এবং আমরা যেহেতু শিরোপার জন্য লড়ছি, তাই যারা শতভাগ ফিট কেবল তাদেরই খেলা উচিত।’ ফিটনেস নিয়ে সমস্যা ছিল বার্সেলোনার দুই ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে ও জোর্ডি আলভাকে নিয়ে। বিতর্ক আছে নেইমারের ফেরা নিয়েও। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ম্যাচের জন্য সবুজ সংকেত পেয়ে গেছেন তারা সবাই। যদি নেইমার খেলেন সেক্ষেত্রে এটি হবে বিশ্বকাপের আগে ক্লাবটির হয়ে তার শেষ ম্যাচ। স্বাগতিক ক্লাবটির আর্জেন্টাইন কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর জন্যও দৃশ্যত ফাইনালে পরিণত হওয়া খেলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা হার-জিত যাই হোক বার্সেলোনায় তার ভবিষ্যত্ অতটা উজ্জ্বল নয়। স্পানিশ গণমাধ্যমে বলাবলি হচ্ছে শিরোপা জিতলেও নাকি সেল্টা ভিগো কোচ ও সাবেক বার্সেলোনা ফুটবলার লুইস এনরিখে পরের মৌসুমে তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে। এই রাতে রিয়াল মাদ্রিদ নিজ মাঠে এস্পানিয়লকে আতিথ্য দিলেও এর কোন শিরোপা গুরুত্ব নেই। তাই বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিকোর পাশাপাশি নজর থাকবে অবনমনের শংকার মধ্যে থাকা আলমেরিয়া, গেটাফে, গ্রানাডা, ওসাসুনা ও রিয়াল ভ্যালাদোলিদের উপরও।—বিবিসি স্পোর্ট/হেরাল্ড চলতি মৌসুমের মুখোমুখিতা ২১ আগস্ট: অ্যাটলেটিকো ১ ১ বার্সেলোনা (স্পানিশ সুপার কাপ) ২৮ আগস্ট: বার্সেলোনা ০ ০ অ্যাটলেটিকো (স্পানিশ সুপার কাপ) ১১ জানুয়ারী: অ্যাটলেটিকো ০ ০ বার্সেলোনা (লা লিগা) ১ এপ্রিল: বার্সেলোনা ১ ১ অ্যাটলেটিকো (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) ৯ এপ্রিল: অ্যাটলেটিকো ১ ০ বার্সেলোনা (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)