মোহামেডানের কষ্টের জয়
প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৪, ২২:৩৯
মোহামেডান ১-০ চট্টগ্রাম আবাহনী
আজকের খেলা
মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রাদার্স এবং শেখ জামাল ও আবাহনী, ৫টা ৩০, ৭টা ৩০।
ভাগ্যক্রমে পেনাল্টি পেয়েছিল মোহামেডান। এমিলি শট নিলেও গোল করতে পারেননি। বল গোলকিপার নাহিদ উদ্দিনের বুক থেকে বেরিয়ে গেলে এমিলি দ্বিতীয় চেষ্টায় গোল করেন। ৪৪ মিনিটে পাওয়া এই একমাত্র গোলের উপর ভর করে মোহামেডান আবার জয়ের মুখ দেখলো। আগের ম্যাচে শেখ জামালের কাছে ৩-০ গোলে হেরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল মোহামেডান। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম আবাহনীকে কোনো রকমে হারিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে টপকে পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে উঠে আসে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দলটি।
মোহামেডানের পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলা বাতিস্তা নেই। ক’দিন আগে দেশে চলে গেছেন। স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়েছে। খবর শুনে হাসপাতালে স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য ছুটে গেছেন। ক্লাব কর্মকর্তারা বলছেন কোচ ফিরবেন। কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীকে ফেলে আসতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আশংকা থাকছেই। যে কারণে আপাতত দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ দায়িত্ব পালন করছেন। দলটাকে গুছিয়ে নিয়ে মাঠে নামিয়েছেন। কিন্তু মোহামেডান যেন মোহামেডানের মতো খেলতে পারেনি।
চট্টগ্রাম আবাহনীর ক্লান্ত ফুটবলারদের সামনে মোহামেডানকেই বেশি ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। ম্যাচের প্রথমভাগেই মোহামেডান গোলের সুযোগ নষ্ট করে। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার আগে অধিনায়ক এমিলি বল নিয়ে ঢুকতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হন। রেফারি আজাদ রহমান পেনাল্টির নির্দেশ দিলে চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করেন। কোচ নজরুল ইসলাম লেদু খেলা শেষে বললেন, ‘এটা পেনাল্টি না দিলেও পারতেন।’ পেনাল্টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সংবাদ মাধ্যমের। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবাহনীর ডিফেন্ডার অধিনায়ক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এমিলির পা থেকে বল অনেক দূরে চলে গিয়েছে। যেটা নিয়ন্ত্রণ করার মতো নয়। এটা ফিফটি ফিফটি চান্স ছিল। কিন্তু রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলেন।’ কোচ লেদু বললেন, ‘এটা পেনাল্টির মতো পেনাল্টি হয়নি। তারপরও বলবো রেফারী বিচারক। তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।’ পেনাল্টি নিয়ে এমিলি বললেন, ‘বলটা আমার সামনেই ছিল। গোলকিপার এসে পায়ের উপর পড়েছেন। তা না হলে নিশ্চিত গোল ছিল।’
এমিলি লিগে সাত গোল করলেন। এর মধ্যে তিনটি পেনাল্টি থেকে। অন্য চারটির মধ্যে একটি ছাড়া বাদবাকি গোলে নিজের কোনো কৃতিত্ব নেই। প্রায় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া জাতীয় দলের এই স্ট্রাইকার এখন গোলদাতাদের তালিকায় চার জনের নিচে। ১৬ গোল করে এগিয়ে আছেন নাইজেরিয়োন ডার্লিংটন।
চট্টগ্রাম আবাহনী গত ১৪ দিনে চারটি ম্যাচে খেলেছে ঢাকা চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ এবং ঢাকায়। এ কারণে খেলোয়াড়দেরকে একের পর এক ভ্রমণে থাকতে হয়েছে। এ কারণে ক্লান্তির ছাপটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল কাল মোহামেডানের বিরুদ্ধে ম্যাচে। কোচ নজরুল ইসলাম লেদু বলছেন,‘বিশ্রাম ছাড়া ম্যাচ খেলা যায় না। খেলোয়াড়রা বিশ্রাম পায় না। ফিকশ্চারের কারিকুরির কারণে। তার উপর কমলাপুর স্টেডিয়ামের তিন তলায় অবস্থান করে আমাদের খেলোয়াড়রা ঘুমাতেও পারে না। সেখানে একদিকে ছাদের গরম। আর অন্য দিকে রাস্তার পাশের শব্দ দূষণের কারণে ঘুম নেই। মশার উপদ্রব তো আছেই।’
ঢাকায় হতাশ হলেও চট্টগ্রামের খেলা হলে হতাশা থাকবে না বলে জানিয়েছেন কোচ লেদু। তিনি বলছেন, ‘চট্টগ্রাম আমাদের হোম ভেন্যু। সেখানে এতো সমস্যা হবে না। আমরা ভালো খেলবো এবং ঘুরে দাঁড়াবো।’ চট্টগ্রাম আবাহনী লিগের ১০ দলের মধ্যে ১০ নম্বরে আছে। ১৬ খেলায় ৮ পয়েন্ট, জয় মাত্র ১টি, প্রথম পর্বে সকার ক্লাবকে হারিয়েছিল।