রোনালদোর চোট ধাক্কায় ম্লান রিয়ালের জয়
প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৪, ২২:৩৯
রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পেয়েছে এসপানিওলের বিরুদ্ধে। যদিও নিজেদের মাঠে ৩-১ গোলের এই জয় লা লিগা শিরোপার ফলাফল নির্ধারণে রাখছে না কোন ভূমিকাই। লিগে টানা পয়েন্ট হারানোর পর এই জয় কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির মুখে যদি হাসি ফুটিয়েও থাকে, তবে সেটা ম্লান হয়ে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আরেকটি চোটের সংবাদে। ম্যাচ শুরু হবার ঠিক আগ মুহুর্তে পেশির পুরনো চোট বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর মাঠেই নামা হয়নি তার। এ বিষয়ে এখনো রিয়ালের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
লিসবনের ফাইনালে পুরোপুরি ফিট রোনালদোকে পেতে এসপানিওলের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে রোনালদোকে নামানো হবে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গিয়েছিল ম্যাচ শুরুর আগে। কিন্তু, সমর্থকদের উল্লাসে মাতিয়ে গত রাতে সতীর্থদের সঙ্গে ম্যাচের শুরুতে মাঠে নেমেছিলেন এই পর্তুগীজ তারকা। তবে খেলা শুরুর ঠিক আগ মুহুর্তে পেশিতে পুরনো চোট বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সাথে সাথেই মাঠ ছেড়ে বেড়িয়ে যান রোনালদো। তার পরিবর্তে দলে ঢোকানো হয় নিষেধাজ্ঞার কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল মিস করতে যাওয়া জাভি আলোনসোকে।
রিয়ালের জন্য এই ম্যাচ থেকে পাওয়ার কিছু না থাকলেও দারুন এক ব্যক্তিগত অর্জন অপেক্ষা করছিল রোনালদোর জন্য। বার্নাব্যুতে এই রাতে একটি গোল করতে পারলেই তৃতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুর মালিক হওয়াটা প্রায় নিশ্চিতই হয়ে যেত রোনালদোর। দারুন ছন্দে থাকা রোনালদো সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে এ মৌসুমে পেরিয়ে গেছেন পঞ্চাস গোলের মাইলফলক। গড়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড। ৩১ গোল করে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পিচিচি ট্রফিটাও নিশ্চিত প্রায়। কারণ, এখানে তার অন্য দুই প্রতিদ্বন্দি লিওনেল মেসি ও দিয়েগো কস্তার গোলসংখ্যা যথাক্রমে ২৮ ও ২৭। আর যদি ইউরোপের সবগুলো লিগ ধরা হয় তাহলে রোনালদোর সমান গোল করেছেন শুধু একজনই। লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো লুইস সুয়ারেজের গোলসংখ্যাও রোনালদোর সমান। গত রাতের দ্বিতীয় ম্যাচে কস্তা কিংবা মেসি অভাবনীয় কিছু করে না ফেললে ১৯৯০ সালের পর তৃতীয়বারের মতো পিচিচি ট্রফি ভাগাভাগিই করে নিতে হচ্ছে দুই দেশের দুই খেলোয়াড়কে।
এদিকে, গ্যারেথ বেলের ৬৪ মিনিটের গোলে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়া রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি আসে মোরাটার কাছ থেকে। ৮৯ মিনিটেও দুই গোলে এগিয়ে থাকা রিয়াল ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে একটি গোল হজম করলেও মোরাতার আরেকটি গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয় মাঠ ছাড়ে। ওয়েবসাইট।