বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পর্তুগালেরও

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের জন্য সম্ভবত ফেভারিট নয় পর্তুগাল। তবে তাদের কোচ পাওলো বেনটো মনে করেন, তাদের পুরো কার্যক্রমটিই পরিচালিত হচ্ছে সেটি লাভের জন্য এবং সতর্ক রয়েছে যেন প্রতিপক্ষ দল তাদের আটকাতে না পারে। দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো বিশ্বনন্দিত তারকা থাকা সত্ত্বেও বেনটোর এই প্রত্যয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। জি গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বে মোকাবেলা করবে পর্তুগাল। এই গ্রুপে তাদেরকে লড়তে হবে ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে অংশ নেয়া জার্মানী, ঘানা এবং যুক্তরাস্ট্রের সঙ্গে। অবশ্য ভাল পারফর্মেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে দুই বছরের চুক্তিতে থাকা ৪৪ বছর বয়সী বেনটোর মেয়াদ গত এপ্রিলে বাড়ানো হয়েছে। উয়েফা ডট কমকে তিনি বলেছেন, তার দলটি দিনে দিনে আরো শক্তিধর হয়ে ওঠছে। ১৯৬৬ সালের দলের সমকক্ষ হবার জন্য দলটি বেশ এগিয়েছে। যে দলটির দুই তারকা খেলোয়াড় ইসেবিও এবং ম্যারিও কলুনা এই বছরই পরলোক গমন করেছেন। ২০০৬ সালে দলটির সেমিফাইনালে পৌঁছানোটাও ছিল প্রশ্নবোধক। তারপরও বর্তমান দলটির সম্ভাবনা নিয়ে বেশ আশাবাদী কোচ। তিনি উয়েফা ডট কমকে বলেন, ‘৯০ মিনিটের খেলায় আমরা অনেক উন্নতি সাধন করেছি। যার ফলে আমরা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছি। ২০১২ সালের ইউরোর সেমি-ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনের কাছে পরাজিত হওয়া দলটির কোচ আরো বলেন, ‘এরপর থেকে আমরা সেরা সম্ভাবনার পথ ধরে এগিয়েছি। যে কারণে আজ আমরা ২০১৪ সালের টুর্নামেন্টে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছি। ২০০০ সালে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দলকে ইউরোর সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয়া এই মিডফিল্ডার বলেন, আগের তুলনায় ভিন্ন পন্থায় এখন পরিচালিত হচ্ছে পর্তুগাল দল। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির সময় এখন আমরা অনেক কিছুই ভিন্ন আঙ্গিকে করছি। একটি পরিচিতি নিয়েই খেলতে চায় পর্তুগাল। যা নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিবর্তনমূলক খেলা নিয়েই আমরা মাঠে নামতে চাই।’ তবে বেনটোর এই মন্তব্যের কোন বাস্তব প্রতিফলন দলটির পারফর্মেন্সে দেখা যায়নি। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের বৈতরণী পেরুতে তাদেরকে রীতিমত ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্লে-অফ ম্যাচে অংশ নিয়েই চূড়ান্ত পর্বের টিকিট লাভ করেছে পর্তুগাল। ইসরায়েল ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে তারা ড্র করেছে। ফলে রাশিয়ার পরের স্থান নিয়ে বাছাইপর্ব শেষ করে পর্তুগাল। যে কারণে প্লে-অফ ম্যাচে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্রাজিলের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে তাদের। বর্ষ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালেদার কাঁধে ভর করেই চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছতে পেরেছে পর্তুগাল। সুইডেনের বিপক্ষে হোম এন্ড এ্যাওয়ে ভিত্তিক প্লে-অফ ম্যাচে ৪-২ গোলে এগিয়ে থাকা পর্তুগালের হয়ে চার গোলের সবকটিই করেছেন ২৯ বছর বয়সী রোনালদো। সোলনায় অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন রিয়াল মাদ্রিদের ওই তারকা। দলকে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে নেয়া রোনালদোর অবশ্য খারাপ অভিজ্ঞতাও রয়েছে দলটিকে নিয়ে। ২০০৪ সালের ইউরো ফাইনালে গ্রীসের কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা খুইয়েছে তারা। অবশ্য সমর্থকদের প্রত্যাশা ক্ষীণ হওয়া সত্ত্বেও তারা সেমিফাইনাল খেলেছে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালের ইউরোতে। বেনটো বলেন, ‘আমরা জানি এবারের ফেভারিট দল হচ্ছে স্পেন, ব্রাজিল, জার্মানি এবং আর্জেন্টিনা। আর এটিই আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে। আমি বেশ আশাবাদী। যদিও আমার দৃষ্টিকোণ থেকেও বলতে পারি যে, আমরা কঠিন একটি গ্রুপে পড়েছি। তবে আমরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাব। জার্মানীর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বেশ কঠিন হবে। তবে আমি মনে করি, আমরা দারুণ একটি বিশ্বকাপ উপহার দেব। এজন্য চাপে না থাকাটা ভাল দিক।’ -বাসস/এএফপি