ইরানের পরমাণু প্রকল্প লইয়া অচলাবস্থা
প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৪, ২১:৫১
ইরানের পরমাণু প্রকল্প বিষয়ক বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে আয়োজিত চতুর্থ দফার আলোচনা কোন ধরনের উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি ব্যতিরেকেই সমাপ্ত হইয়াছে শুক্রবার। সামনের মাসগুলিতে এই বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকিবে বলিয়া জানাইয়াছে তেহরান। গত বত্সরের মাঝামাঝিতে প্রেসিডেন্ট পদে হাসান রুহানির আগমনের পর হইতে দীর্ঘকালীন সমস্যাটির সমাধানের একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাইতেছিল। এমনকি মাস কয়েক পূর্বে এই বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধান হইয়া যাইবার মত কথাবার্তা প্রচারিত হইতে শুরু করিয়াছিল। উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে পরমাণু প্রকল্পের কিছু কার্যক্রম বন্ধ করিয়াছিল ইরান; তাহার বিনিময়ে কয়েকটি কম গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও করা হইয়াছিল। কিন্তু এক্ষণে অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে যে, পরমাণু প্রকল্পের সমস্যা সমাধানপূর্বক অর্থনৈতিক অবরোধের হাত হইতে মুক্ত হইতে ইরানের আরও সময় লাগিয়া যাইবে।
আলোচনা সমাপ্ত হইবার পরে এখন অবধি উভয়পক্ষের মধ্যে তাত্পর্যপূর্ণ পার্থক্য থাকিবার তথ্য পাওয়া গিয়াছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি হইতে। উভয়পক্ষের মতামত নিকটবর্তী হইবার পূর্বে পরমাণু প্রকল্প বিষয়ক চুক্তি লইয়া এমনকি কোন ধরনের খসড়া রচনার কোন সম্ভাবনা না থাকিবার কথাও জানানো হইয়াছে। স্মর্তব্য, পরমাণু প্রকল্প লইয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহিত ইরানের বিবাদ দীর্ঘদিনের। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আমলে এই বিষয়ে উত্তাপ ছড়ানো বক্তব্যে অভ্যস্ত হইয়াছিল ইরান। নূতন প্রেসিডেন্টের আগমনের পর হইতে দেশটি সংলাপের দিকে মনোযোগী মনে হইতেছে। উল্লেখ্য, পরমাণু প্রকল্পের কারণে দীর্ঘদিন ধরিয়া সাংঘাতিক রকমের অবরোধের মধ্যে পড়িয়া আছে দেশটি। ইরান তাহার প্রকল্পকে বেসামরিক বলিয়া দাবি করিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইহাকে সামরিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলিয়াই চিহ্নিত করিয়া আসিতেছে এবং বেসামরিক প্রকল্পের আড়ালে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের চেষ্টা-চরিত্রের জন্য দেশটিকে দায়ী করিতেছে। পরমাণু জ্বালানির সামর্থ্য বৃদ্ধি, প্রকল্পের অস্বচ্ছতা এবং ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রকল্পের মধ্যে ইরানের পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের নিশানা দেখা যাইবার কথাও বলিতেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ইরান অবশ্য এইসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলিয়া দাবি করিয়া আসিতেছে এবং আন্তর্জাতিক নন-প্রলিফিকেশন ট্টিটির অধীনে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালাইবার অধিকার দাবি করিতেছে।
তবে এত দ্বন্দ্ব ও নৈরাশ্যের মধ্যেও আশার বিষয় এই যে, উভয়পক্ষই সংলাপের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিতেছে। এবং আলাপ-আলোচনা না করিয়া বসিয়া থাকিলে যে কোনপক্ষের লাভ হইবে না তাহাও উভয়পক্ষ বুঝিতে পারিতেছে বলিয়া মনে হইতেছে। প্রসঙ্গত, একটি প্রশ্ন আসিয়া যায়। ইরান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে অবরোধের যে অস্ত্র প্রয়োগ করিতেছে তাহার ফল কাহারা ভোগ করিতেছে? নিঃসন্দেহে ইরানের সাধারণ জনগণ। তাহাদের দুর্ভোগ অবসানের কথা ইরান সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভাবিতেছে কিনা তাহা স্পষ্ট নহে।