সিঁড়ির সাজগোজ

সিঁড়ির সাজটা ইন্টেরিয়র বা এক্সটেরিয়র কোনোটার মধ্যেই পড়ে না। অনেকে এমনটাই মনে করেন। তাই সিঁড়ির সাজ আমাদের কাছে খুব বেশি গুরুত্বও পায় না; কিন্তু আপনি যদি আপনার বাসার সিঁড়িটা একটু সুন্দরভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখেন তাহলে এটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগবে। ফলে যে কেউই আপনার বাসায় ঢোকার আগে আপনার রুচিশীল মনের কথা আঁচ করতে পারবে। তাই সিঁড়ির সাজগোজ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র বহু আগে থেকে বাসার সিঁড়ির আলাদা কদর রয়েছে। কারুকার্যময় নান্দনিক সিঁড়ি আপনার রুচিশীলতা প্রকাশ করে। একটি বাসার বিভিন্ন রকম সিঁড়ি হতে পারে, তবে ইদানীং ইউ শোপ, এল শোপ ও সার্কুলার সিঁড়ি একটু বেশি ব্যবহূত হচ্ছে। রাস্টিক টাইলস, মার্বেল, গ্রানাইট ইত্যাদি ব্যবহার করে সিঁড়ির ধাপগুলো নান্দনিক ও কারুকার্যময় করা যায়। এ ছাড়াও আপনি চাইলে সিঁড়ির ধাপগুলোতে বিভিন্ন রং ব্যবহার করে নানা ডিজাইন করতে পারেন। তবে সাবধানে সিঁড়ির পাশের দেয়ালগুলোতে রঙের ব্যবহার করুন। সিঁড়ির পাশে দেয়ালের রং খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হওয়াটাই ভালো। সাদা, অফ হোয়াইট, অ্যাশ, গোলাপি, পেস্ট, আকাশিসহ কুল কালারগুলো ব্যবহার করতে পারেন। হ্যান্ডেল বা রেলিং সিঁড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকাল কাঠের, স্টিলের, স্টেনলেস স্টিল, স্টিলের সঙ্গে কাচের রেলিং খুব বেশি ব্যবহূত হয়, যা বাসার আভিজাত্য, নান্দনিকতা ও গাম্ভীর্য অনেক বাড়িয়ে দেয়। সিঁড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ল্যান্ডিং স্পেসটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিঁড়ির সাজে নান্দনিক ভাব ফুটিয়ে তুলতে ল্যান্ডিং স্পেস গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ল্যান্ডিং স্পেসের সাজের জন্য টেরাকোটা কিংবা পোড়ামাটির ফলকের বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। এটি ব্যবহারের ফলে যে সৌন্দর্য বা আভিজাত্যের সৃষ্টি হয় তা অন্য কোনো উপকরণ দিয়ে সম্ভব হয় না। টেরাকোটা ছাড়াও আপনি এখানে কাঠ, বিভিন্ন ধরনের টাইলস ব্যবহার করে ভিন্নতা ফুটিয়ে তুলতে পারেন। আপনি চাইলে একটু দামি রাস্টিক টাইলস, সেন্ডস্টোনও ব্যবহার করতে পারেন। সিঁড়ির প্রত্যেকটি ধাপে ছোট ছোট মাটির পটারি, টব বা পিতলের কলসি ব্যবহার করুন আর তাতে দিয়ে দিন শুকনো ফুলের স্টিক। দোতালা বাড়ির সিঁড়ি দোতলা বাড়ির অন্যতম অংশ হচ্ছে এর সিঁড়ি। সিঁড়ির সাজ যত সুন্দর হবে, ঘরের আভিজাত্য ততটাই ফুটে উঠবে। সিঁড়ি সাজাতে গিয়ে এর নিচের অংশটুকু কীভাবে সাজাবেন তা অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না। তাই কিছু উপায়—  প্রথমেই ঠিক করে নিন সিঁড়ির নিচের অংশটুকু কী কাজে ব্যবহার করতে চান। তারপর সে অনুযায়ী সাজিয়ে নিন এ অংশটুকু।  ঘরে আলাদা করে লাইব্রেরি না থাকলে এখানে তাক বানিয়ে তাতে বই রেখে দিন। একপাশে শতরঞ্জি বিছিয়ে তাতে কয়েকটি কুশন দিয়ে বই পড়ার চমত্কার ব্যবস্থা হতে পারে।  ঘরে সবুজের সান্নিধ্য পেতে বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্লান্ট রাখতে পারেন। রড আয়রনের শেলফের ওপর মাটি, সিরামিক অথবা প্লাস্টিকের নকশা করা টবে ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির গাছ রাখুন। সঙ্গে ফুলদানিতে কৃত্রিম ফুল আর ল্যাম্প শেডও রাখতে পারেন। আংটা দিয়ে সিঁড়ির রেলিংয়েও ঝুলিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন ইনডোর প্লান্ট।  ঘরে আলাদা করে স্টোর রুম না থাকলে সিঁড়ির নিচের অংশে স্টোরেজ ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জায়গা অনুযায়ী কাঠ বা বোর্ডের তাক বানিয়ে স্টোরেজ বানিয়ে নিন। স্টোরেজের দরজায় আয়না ব্যবহার করতে পারেন।  সিঁড়ির নিচে ডিভান রাখলে ডিভানের নিচের অংশে জুতার র্যাক অথবা ম্যাগাজিন স্টোরেজ তৈরি করা যায়।