শীর্ষস্থান হারালেও আনন্দের কমতি নেই
প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৪, ২২:০৮
২০১৩ সাল। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি ছিল দেশ সেরা। ২০১৪ সালে এসে গৌরব ধরে রাখতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। সেরাদের সেরা হওয়ার সুনাম থেকে পিছিয়ে পারলেও বেশিদূর পেছনে ঠেলে নিয়ে যেতে পারেনি ঐতিহ্যবাহী মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে। এক ধাপ নেমে এ বছর এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। তবে সাফল্যের দৌড়ে এ পিছিয়ে পড়া কৃতী শিক্ষার্থীদের আনন্দের জোয়ারে এতটুকুও ভাটার টান পড়েনি।
এক ধাপ পিছিয়ে সাফল্যের স্থান থেকে দূরে সরে গেছে প্রতিষ্ঠানটি এমনটি মানতে নারাজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে পিছিয়ে যাওয়ার একটিই মাত্র কারণ। আর সেটা হল প্রতিষ্ঠানের বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী থাকায় জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি একটু পিছিয়ে যায়। আর এ কারণেই একধাপ পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম জানান, এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট বেড়েছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও বেড়েছে। শতভাগ পাস করেছে। ফলে সাফল্যের স্থান থেকে পিছিয়ে গেছি সেটা বলা যাবে না। এবারের ফলাফলে সেরা প্রতিষ্ঠানটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে ৫১৫ জন পরীক্ষা দিয়েছে আর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪০৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। তারও যে পয়েন্ট পেয়েছে আমারও একই পয়েন্ট পেয়েছি। তবে জিপিএ হিসেবে আমরা একটু পিছিয়ে পড়েছি। যেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি সেখানে জিপিএ কম পাওয়াটা স্বাভাবিক বলে মনে করেছেন তিনি।
অধ্যক্ষ আরো বলেন, সবসময় প্রতিযোগিতা থাকবে। প্রতিযোগিতায় কোন স্কুল প্রথম, কোনটা দ্বিতীয় হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবছর আমরা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের সার্বিক প্রচেষ্টায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে শতভাগ পাসের সঙ্গে শতভাগ জিপিএ-৫ পেলে আরো ভালো লাগতো।
কিছু শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ না পওয়া সম্পর্কে শাহান আরা বেগম বলেন, সবাই সমান মেধাবী হয় না। তারপরও বর্তমানে মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত বছরের মত এ বছরও নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি, শিক্ষকদের প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ইত্যাদি সবকিছুই ঠিক ছিলো বলে দাবি করেছেন অধ্যক্ষ।
আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই পরিশ্রমী। লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয় না। আর ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই। শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। অভিভাকদের সাথে প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়া আদায়ে খুবই দায়িত্বশীল। অভিভাবকরাও যথেষ্ট সচেতন বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক।
কঠোর পরিশ্রম অর্জিত এ সাফল্যের আনন্দ চেপে রাখা যায় না বলে মন্তব্য করেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থী অনিক, তপন ও সাফা। এদের মধ্যে অনিক জানান, বুয়েটে পড়া বড় বোনের একান্ত নজরদারির কারণেই তার ভাগ্যের শিঁকে ছিঁড়েছে। সে নিজেও বুয়েটে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন।
নিজের সাফল্যে বাবা-মায়ের মন কাড়তে পারিনি তপন। সববিষয়ে জিপিএ থেকে পিছিয়ে সে। তপনের বাবা ছেলের এমন কলের কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের কোন গাফলতি দেখছি না। তাছাড়া পারিবারিক কোন গাফলতিও ছিলো না। তবে পরীক্ষার্থীর আধিক সার্বিক পিছিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য রয়েছে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পর্ষদ। ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন এই পর্ষদের সভাপতি। পর্ষদের দিক-নির্দেশনাতেই চলে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষকরা কাজ করতে গিয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন। কোন ধরনের চাপ তাদের উপর দেয়া হয় না। এই প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব নেই। ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষক নিয়োগে থাকে স্বচ্ছতা। কোন ছাত্র বা ছাত্রী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্লাসে উপস্থিত না হলে মোবাইল ফোন বার্তায় জানিয়ে দেয়া হয় অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীরা কোন অজুহাতেই ক্লাস ফাঁকি দিতে পারে না।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৪০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৮ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। উত্তীর্ণ হয়েছে শতভাগ পরীক্ষার্থীই। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ১৬৩ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৫৫ জন। আর ব্যবসায়ে শিক্ষা থেকে ২৪২ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পায় ২০৩ জন। গত বছর স্কুলটি থেকে অংশ নেয়া ১ হাজার ১৯৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৯ জনই জিপিএ-৫ পায়।