শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবকের মিলিত চেষ্টায় ভাল ফল

‘আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শাখাগুলোর মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করতে চেয়েছি। বিভিন্ন শাখায় গিয়ে বলেছি, অন্যদের চেয়ে ভালো করতে হবে। এভাবে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে আমাদের প্রত্যেক শাখা ভালো করেছে। তবে সবচেয়ে ভালো করেছে আজিমপুর শাখা। আর এতেই আমাদের ফলাফল ভালো হয়ে গেছে।’ ভালো ফলাফলের রহস্য নিয়ে এমনটাই বলছিলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগম। এবছর এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে তৃতীয় স্থানে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। যদিও গতবছর মেধা তালিকায় ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। তবে ফলাফলে সন্তুষ্ট প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া তামান্না তাহেরের মা রাফিজা তাহের। কথা হয় এই অভিভাবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরীক্ষা দিয়েছে আমার মেয়ে। তবে আমার নিজের পরীক্ষার মতোই টেনশন হতো। মেয়ে ভালো ফল করেছে। ভালো লাগছে। আমার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আমি মনে করি, শিক্ষার পরিবেশ এবং দক্ষ শিক্ষকদের কারণেই ভিকারুননিসা ভালো করেছে। মজিবর রহমান নামের একজন অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ভালো ফলাফলে আমরা খুশি। আমার মেয়ে পড়াশোনা করেছে নিয়মিত। আর শিক্ষকরাও সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যথায় ভালো ফলাফল করা হয়ত কষ্টকর হতো। শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই। জান্নাতুল মিথিলা। বিজ্ঞানের ছাত্রী তিনি। জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কথা প্রসঙ্গে এই ছাত্রী বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের যত্ন নিয়ে পড়ান। তাদের সহায়তা আর আমাদের পরিশ্রমের ফসল ভালো ফল। এ দুয়ের সমন্বয় না হলে ভালো ফল করা কষ্টসাধ্য। আমাদের শিক্ষকরা অনেক বেশি আন্তরিক। তারা আমাদের নিজেদের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন। আমাদের পড়াশোনার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেন। আফরিন জাহান। বাণিজ্যের এ ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ভালো ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, মা-বাবার উত্সাহ আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমরা ভালো করেছি। সামনের সব পাবলিক পরীক্ষায় আরো ভালো করতে চাই। জিপিএ-৫ পাওয়া ফারজানা আক্তার এবং হাফসা হাসিম বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশসেরা। আমরা ভালো ফল করেছি। আগামীতে এ ধারা বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি। ফলাফলের হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভালো করা আজিমপুর শাখার একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। আমাদের ভালো করার অন্যতম কারণ, আমরা ছাত্রীদের ভালোভাবে পড়াই। তাদের যত্ন নেই। তাদের প্রতিযোগিতার জন্য গড়ে তুলি। ভালো ফল আমাদের প্রত্যাশিত। ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, বর্তমানে অভিভাবকরা খুবই সচেতন। সবসময় তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া মেধাবীরাই এখানে পড়ার সুযোগ পায়। সেরা শিক্ষকদেরই নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। আর প্রশংসনীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নিবিড় তত্ত্বাবধান। আমি মনে করি, যত্নসহকারে পাঠদান শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সহায়ক হয়েছে। এবছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ১৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। জিপিএ-৫ পায় ১ হাজার ১২৪ জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ২২ জন শিক্ষার্থীর ১১ জন জিপি-৫ পেয়েছে। আর বাণিজ্য বিভাগে ২৪৪ জনের মধ্যে ১৯৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।