এই ইতালিতেই আস্থা বুফনের

ব্রাজিলের পর বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে সফলতম দল তারাই। তবে বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স আর দলে তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বিচারে গত কয়েকটি বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে ইতালির ভাল কিছু করার খুব কম সম্ভাবনাই দেখছেন সমালোচকদের অনেকে। তবে, দলের অধিনায়ক এবং গত প্রায় এক দশক ধরেই বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসাবে বিবেচিত হওয়া জিয়ানলুইজি বুফনের ধারণাটা অন্যরকম। বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষমতা তার দলের আছে বলেই মনে করছেন তিনি। আট বছর আগে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতার পর গত বিশ্বকাপে যেন মুদ্রার উল্টোপিঠটাই দেখেছিল ইতালি। শিরোপা জয়ী এই দলকে বিদায় নিতে হয় প্রথম রাউন্ড থেকেই। নতুন কোচ সিজার প্রাণদেল্লির অধীনে এরপর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে দলটি। শেষ পর্যন্ত ভালভাবেই বাছাইপর্বের বাধা টপকাতে পারলেও বিশ্বকাপে কঠিন একটা গ্রুপই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। কারণ, তুলনামূলক বিচারে দুর্বল কোস্টারিকার পাশাপাশি শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে তাদের লড়তে হবে উরুগুয়ে এবং ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধেও। তবে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য বুফন মনে করছেন নক আউট পর্যায় তো বটেই, টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষমতা আছে তার দলের, ‘বড় কিছুর দিকে নজর দিতে যে, কৌশলগত ও মানসিক শক্তি লাগে, আমাদের সেটা আছে। একটা নিরেট, গোছানো দল কখনোই বাজে ভাবে একটা ম্যাচ হারতে পারে না। তবে এটাও সত্যি, সবাইকে হারানোই সবার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, গ্রুপটাই এমন যে মাঠে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা কইবে না।’ সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে জুভেন্তাসকে টানা তৃতীয়বারের মতো স্কুডেটো জিততে সাহায্য করা ৩৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক কথা বলেছেন তার ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়েও। ২০১০ সালে পিঠে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে আবার নিজের সেরা ফর্মে ফিরেছেন বলেই বিশ্বাস তার। তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরেই আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছি। আর এটা আমার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যারা সন্দেহ করছেন তাদের জন্য উত্তর হলো আমি পুরোপুরি সেরে উঠেছি। এই ৩৬ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছি আমি। এটা আসলেই দারুণ একটা বিষয়।’ এদিকে আগামী বছরেই জুভদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বুফনের। তবে সাবেক পার্মা তারকা বললেন অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা তুরিনেই কাটিয়ে দিতে চান তিনি, ‘আমি তুরিনে সুখী আছি। আর চেয়ারম্যান আন্দ্রিয়া অ্যাগনেলির সঙ্গে আমার সম্পর্কটাও চমত্কার। তিনি এরই মধ্যে আমার সিদ্ধান্তের পেছনের যৌক্তিকতাগুলো বুঝতে শুরু করেছেন। কোন সন্দেহ নেই সবকিছু ঠিক হতে বেশি সময় লাগবে না।’