ফুটবল দিয়েই চাপ জয়

বহুল ব্যবহারে যতই ক্লিশে হোক না কেন, ‘নতুন ম্যারাডোনা’ কিংবা ‘নতুন পেলে’ শব্দগুলো কারও নামের পাশে চলে আসা মানেই ভয়াবহ এক চাপ। আর বিশ্বকাপ যখন সেই লাতিন আমেরিকাতেই তাহলে নতুন পেলে কিংবা নতুন ম্যারাডোনাদের উপর চাপটা হয়ে যায় আকাশসমান। নেইমারও মানছেন সেই চাপের কথা। চাপমুক্ত থাকতেই কি না নিজের সাথে পেলের তুলনা যেতে চাইছেন না স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার এই স্ট্রাইকার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, ‘পেলের সাথে আমার তুলনা করা মানে হল আমার উপর বাড়তি একটা চাপ চলে আসা। পাশাপাশি এটা একধরনের আনন্দদায়ক অনুভূতিও বটে। কিন্তু, উনি হলেন ফুটবলের রাজা। তার তুলনায় আমি স্রেফ বাচ্চা একটা ছেলে যে কি না ফুটবল খেলার চেষ্টা করছে।’ নেইমার ও পেলে দু’জনের উত্থানই ঘটেছে ব্রাজিলিয়ান ঘরোয়া লিগের ক্লাব স্যান্তোস থেকে। স্যান্তোস হয়ে সেই নেইমার এখন বার্সেলোনায়। কিন্তু আসল পার্থক্যটা বোঝা যায় বিশ্বকাপ দিয়ে। পেলে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছেন তিনটি বিশ্বকাপ। আর নেইমার এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন। সেটাও কি একটা বাড়তি চাপ? না, নেইমার এক নিমিষেই উড়িয়ে দিলেন চাপকে, ‘জীবনে আপনার চাপ থাকবেই। আর একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সবসময় চাপের মধ্যেই থাকতে হয়। এখানে চাপটা বেশি কারণ, আপনি অনেক মানুষের আদর্শ হয়ে মাঠে নামেন। জাতীয় দলে আপনি পুরো দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে সেই চাপ তো থাকবে। তবে, চাপ নিয়ে আমি একদমই মাথা ঘামাচ্ছি না।’ আর প্রথমবার খেলতে নেমেই দেশকে বিশ্বকাপ এনে দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন নেইমার। স্বপ্ন সত্যি হলে ২০০২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ উঠবে সেলেচাওদের হাতে। ২২ বছর বয়সী নেইমারের ভাষায়, ‘যখন আমি খেলা শুরু করেছি তখন থেকেই চাপ আমার নিত্য সঙ্গী। তবে, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারাটা চাপের চেয়েও অনেক বেশি আনন্দের। ফুটবলটা ব্রাজিলিয়ানদের হূদয়ের সাথে গেেঁথ গেছে। আশা করি দেশের প্রত্যাশার চাপটা পূরণ করতে পারবো। ফুটবল দিয়েই চাপটা জয় করতে হবে।’ ২০১০ বিশ্বকাপের সময় বয়স ছিল মাত্র ১৮। খুব অনভিজ্ঞ বলেই সেবার বিশ্বকাপ খেলা হয়নি খুদে এই তারকার। এবার দেশের মাটিতেই অভিষেক। ক’দিন আগে একটা বিজ্ঞাপনচিত্রে রোনালদো ও ওয়েন রুনির সাথে গলা মিলিয়ে বলেছিলেন, ‘রিস্ক এভরিথিং।’ বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়তো নিজের কথারই বাস্তব প্রমাণ দিতে হতে পারে নেইমারকে!