মেধার সঙ্গে মানবতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হোক
প্রকাশ : ২০ মে ২০১৪, ২২:২২
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া এবং রাজশাহীতে এক সাংবাদিক ২দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিত্সা না পেয়ে হাসপাতাল ত্যাগ—এ দুটি বিষয়ই অমানবিক। ডাক্তারি পড়ার জন্য মেধা অবশ্যই দরকার। সঙ্গে মানবতাও থাকতে হবে। যাদের শুধুই মেধা আছে মানবতা নেই তাদের ডাক্তারি পড়ার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তারা অন্য কোথাও লেখাপড়া করুক। বিভিন্নভাবে ইন্টারভিউ নিয়ে মেধার সঙ্গে মানবতা আছে কিনা বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তারি পেশাটি মানবিক ও সেবামূলক একটি কাজ।
ডাক্তারদের আচরণ যদি মানবিক না হয়, তাহলে তাঁদের শুধু ডাক্তার বলা যাবে না। তাদের নামের আগে বা পিছে নেতিবাচক বিশেষণ যুক্ত করতে হবে। গরিব মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় ছাত্ররা ডাক্তারি পড়ে। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন হয়। সে ডাক্তাররা যদি গরিব মানুষকে চিকিত্সা না দেন তাহলে এ গরিব মানুষগুলো যাবে কোথায়? সরকারের উচিত ডাক্তারদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা। দরকার না হলে কেউ হাসপাতালে যান না। অসুস্থ হলে কেউ যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, অবস্থা গুরুতর হলে জেলা সদর হাসপাতালে, আরো গুরুতর হলে নিকটবর্তী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। খুবই গুরুতর হলে আসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। একজন রোগীকে যখন স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন তখন স্বজনদের চোখে থাকে বিষণ্নতার ছাপ। তখন এসে যদি দেখতে পান মেডিক্যাল কলেজের গেটে তাল ঝুলছে—তখন সে দুঃখ কোথায় রাখবে স্বজনরা। যাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী তাঁদের উচিত স্পর্শকাতর জায়গাগুলোয় গিয়ে সংযত আচরণ করা। যাতে তাঁদের জন্য অন্যরা কখনো ক্ষতির শিকার না হন। সব জায়গায় ছাত্রনেতার পরিচয়ে সন্ত্রাসীপনা করার অধিকার কারো নেই। সম্প্রতি ঢাকা মেডিক্যালে যে ঘটনা ঘটলো সেটা দেখে হূদয়বান লোকের হূদয় কেঁদে না উঠে পারে না। তুচ্ছ ঘটনায় মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হলো। ৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় দূর থেকে আসা রোগীদের কী কষ্টটাই না হয়েছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।
ঢাকা