বদলে দেবেন বদলে যাওয়া মেসি!

রোসারিওতে এখন দারুণ ঠান্ডা। এই প্রবল ঠান্ডার মধ্যে ঘন কুয়াশা ভেদ করে ভোর সাড়ে চারটায় বিমানবন্দরে পৌঁছালেন তিনি। প্রকৃতির এই প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে এক ঝাঁক সাংবাদিক ততোক্ষণে পৌঁছে গেছেন বিমানবন্দরে। যদিও তারা জানেন, বাকি সবদিনের মতো আজও তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে গাড়িতে উঠে পড়বেন। কিন্তু বদলে গেলেন যেন তিনি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি নিজেই এগিয়ে এলেন সাংবাদিকদের ভিড়ের দিকে। চিরচেনা সেই নিষ্পাপ হাসিটা উপহার দিয়ে বললেন, ‘আমি জানি, আপনারা কী জানতে চান। আমি কথা দিচ্ছি, এবার সব বদলে যাবে। নতুন আর্জেন্টিনাকে দেখবেন আপনারা।’ বুঝতেই পারছেন, নতুন আর্জেন্টিনাকে দেখানোর এই যোগ্যতা থাকা মানুষটি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। মেসির ভেতর যে আর্জেন্টিনার বছরের পর বছরের জমা দুঃখ ঘোচানোর ক্ষমতা আছে, তাতে কারো সন্দেহ নেই। সন্দেহ নেই যে, বার্সেলোনার মেসির খানিকটাকে পেলেও আর্জেন্টিনা হয়তো সোনার হরিণ বিশ্বকাপটা ছুঁয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে সেই ‘দেখানোর’ কথাটা মেসি কখনোই এ রকম বলেছেন বলে মনে হয় না। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বার্সেলোনা থেকে রোসারিওতে উড়ে যাওয়ার পর নিজেই এই বদলে যাওয়া সুরে কথা বললেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়। শুধু মেসির কণ্ঠ যে বদলে গেছে, তা নয়। এই আক্রমণভাগের জাদুকর বলছেন, এবার আসলে অনেক কিছুই বদলে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। অপেক্ষায় আছেন, নিজের বার্স ও আর্জেন্টিনার ভূমিকায় যে উত্থান-পতন হয়, সেটাকে আমূল বদলে ফেলার। অপেক্ষায় আছেন আর্জেন্টিনার ভাগ্য বদলে ফেলার। সাধারণত যেটা হয়—বার্সেলোনা থেকে অসাধারণ একটা মৌসুম কাটিয়ে দেশে ফেরেন মেসি। পরপরই আর্জেন্টিনার আরেকটি ছোট-বড় হতাশার সঙ্গী হন। এবার এরই মধ্যে প্রথম অংশটা বদলে গেছে। মেসি বলছেন, বাকিটাও উল্টে যাবে,‘সাধারণত আমি বার্সেলোনায় দারুণ খেলে এখানে আসি। এবার আর্জেন্টিনার হয়ে সেই দারুণ খেলাটা খেলে ফিরবো। বার্সেলোনায় আসলেই এটা আমার খারাপ একটা মৌসুম গেছে। আমার জীবনটাকেই এবার ভালো করে ফেলার সুযোগ জাতীয় দলের হয়ে। আমি নিশ্চিত সেটা করতে পারবো।’ এই আত্মবিশ্বাসের ব্যাখ্যাও আছে মেসির আছে। বার্সেলোনার হয়ে একটার পর একটা হতাশা তাকে খুব ক্লান্ত করেছে, শরীরে শক্তি শুষে নিয়েছে। এই সময়ে আর্জেন্টিনা দলে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গ তার মনটাকে বদলে দিয়ে মাঠে সেরা ফর্মে নিয়ে আসবে বলেই তার বিশ্বাস, ‘আমি জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলেই অনেক কিছু বদলে যাবে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে আড্ডা হবে। ফলে সুস্থ মাথায় সেরা ফুটবলটা খেলতে পারবো বলেই বিশ্বাস করি।’ আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ক্যাম্পিং। বিশ্বকাপের আগে আগে, ৪ জুন ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে এবং ৭ জুন স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আর এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে চান মেসি। মেসি অবশ্য আরেকটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন। যে বার্সেলোনা তার জীবন-মরণ, সেই দল নিয়ে আর খুব বেশি আবেগ যে নেই, সেটা পরিষ্কার করে দিলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা নিয়েই ভাবছি। বার্সেলোনা এই মুহূর্তে মাথায় রাখতে চাচ্ছি না। আর যদি তেমন পরিস্থিতি হয়, কোনো ক্লাব বদলাতেই আমার আপত্তি নেই। ক্লাব তো জাতীয় দল নয়।’ মেসি আসলেই বদলে গেছেন!