বিশ্বকাপের নতুন ৭

স্পোর্টস ডেস্ক:সময়টা কমে আসছে। সন্নিকটে ফুটবল বিশ্বকাপ। উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় সমগ্র পৃথিবী ক্রীড়াবিশ্বের অন্যতম বড় এই উত্সবটি বরণ করে নেয়ার প্রহর গুনছে। কারা হবে নতুন বিশ্বসেরা? জ্বলে উঠবেন কোন্ তারকা?— চলছে এমন অনেক হিসাব-নিকাশ। সবকিছুর উত্তর পাওয়া যাবে আগামী ১২ জুন থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে। এর বাইরে এখনই জানার মত বিষয় হল এই বিশ্বকাপে ব্যবহূত হতে যাচ্ছে নতুন সাতটি প্রযুক্তি— ‘ড্রাই-ফিট’ প্রযুক্তি ১৬ জুন, তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ। জার্মানী ও পর্তুগাল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ঘামতে ঘামতে মাঠে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কপাল বেয়ে চুলের জল গড়িয়ে পড়ছে। —সমর্থকরা তো দূরের কথা স্বয়ং রোনালদোও এই দৃশ্য সহ্য করতে পারবেন না। রোনালদোর এই দু:স্বপ্ন মুছে ফেলতেই ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাইকি নিয়ে এসেছে ‘ড্রাই-ফিট’ প্রযুক্তি। পর্তুগালের নতুন অ্যাওয়ে জার্সি এই প্রযুক্তিতে নির্মিত। এই জার্সি শরীরের ঘাম শুষে নেবে এবং এর মধ্যে থাকা অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র চামড়ায় বাতাস প্রবাহ নিশ্চিত করবে। ০০০ ‘গোল-লাইন’ প্রযুক্তি ২০১৩-১৪ মৌসুমের আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যে গোল-লাইন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয় সেটা চলতো হক-আই পদ্ধতিতে। উইম্বলডন কিংবা ক্রিকেটেও এটা ব্যবহার করা হয়। বিশ্বকাপে ফিফা চতুর্মাত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে যাচ্ছে। প্রতিটি গোলপোস্ট বরাবর উঁচু থেকে তাক করা থাকবে সাতটি করে ক্যামেরা। প্রতি সেকেন্ডে এই ক্যামেরাগুলো একটি মুহূর্তকে ৫০০টি ফ্রেমে ভাগ করে দেখাতে সক্ষম। ০০০ ‘প্রো কমব্যাট রিকভারি হাইপার-টাইট’ প্রযুক্তি প্রতি ম্যাচেই ফুটবলারদের পেশীতে টান পড়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে দুই ম্যাচের মাঝের দিনে তাদের সেরে উঠতে বেশকিছু সময় লাগতে পারে। এই সমস্যা সমাধান করতে বিশ্বকাপে নাইকি নিয়ে এসেছে প্রো কমব্যাট রিকভারি হাইপার-টাইট প্রযুক্তি। এটা হল বিশেষ এক ধরনের মোজা যার মাধ্যমে অনেক কম সময়ে পেশীর টান সারে। ০০০ ‘আল্ট্রা এইচডি’ সাধারণত একে বলা হয়ে থাকে চতুর্মাত্রিক। বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও এই প্রযুক্তি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে না পারলেও এই বিশ্বকাপেই দর্শন মিলবে তার। সনি বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচ—ফাইনাল, একটি কোয়ার্টার ফাইনাল ও শেষ ষোলর একটি ম্যাচ ধারণ করার দায়িত্ব পেয়েছে। টুর্নামেন্টের পর এই ভিডিওগুলো বাজারে আসবে। ০০০ ‘ম্যাজিক ভ্যানিশিং ফোম’ আসন্ন বিশ্বকাপে রেফারিদের মাঠের মধ্যে একধরনের ফোমের ক্যান নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে। না, মাঠের মধ্যে কেউ ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করবেন না। এর কাজ মূলত ফ্রি-কিক নেয়ার স্থান চিহ্নিত করা। এর আগে এ ধরনের প্রযুক্তি ক্লাব বিশ্বকাপে, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে, দক্ষিণ আমেরিকার ঘরোয়া লিগগুলোতে ব্যবহূত হয়েছে। ০০০ চতুর চশমা নতুন এই ধরনের চশমার সাথে অবশ্য খেলাধুলার বিশেষ কোন সম্পর্ক নেই। ব্রাজিলে চলমান সহিংসতা ঠেকাতে বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ার পুলিশরা ব্যবহার করবে বিশেষ এই চশমাটি। এর মাধ্যমে একজন পুলিশ কাউকে সহজেই সন্দেহভাজন হিসাবে অনুমান করতে পারবেন। এই চশমাতে এক ধরনের ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে যার মধ্যে প্রতি সেকেন্ডে ৪০০ জন মানুষের চেহারা ধারণ করা সম্ভব। ০০ ড্রোন ব্রাজিল বিশ্বকাপ একযোগে দেখবেন প্রায় ৭০ কোটি মানুষ। কিন্তু জুলাই ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সবাইতো আর বাড়িতে বসে খেলা দেখবেন না। তাই গোটা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৯০০টি ড্রোন ধার নিয়েছে ব্রাজিল। এটা ভেন্যু শহরের আকাশে অনেক উপর দিয়ে উড়ে যাবে। ড্রোন এমন একটা প্রযুক্তিতে এটা বানানো হয় যে, এটা কোন চালক ছাড়াই আকাশে উড়তে সক্ষম।