চিকেন পক্স একটি বিপজ্জনক স্বাস্থ্য তথ্য
প্রকাশ : ২১ মে ২০১৪, ২২:৩০
চিকেন পক্স বা জলবসন্তের মৌসুম শুরু হয় ফেব্রুয়ারি থেকে এবং জুন-জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত এটা অব্যাহত থাকে। অবশ্য এর আগে-পরেও হতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে দু’বার চিকেন পক্স সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছি। এটাতে কোনো উপকার হয়নি তা বলবো না। তবে গত মঙ্গলবার ২০ মে’র একটি ঘটনা। আমার চেম্বারে মধ্যবয়সী এক ভদ্রমহিলা আসলেন। বোরকা পরা। পরিচয় দিলেন ঢাকার বাইরে একটা প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চিকেন পক্সে আক্রান্ত। পুরো মুখে ক্ষত চিহ্ন। ঘা এখনও শুকায়নি। এসেছেন দাগের চিকিত্সা নিতে। আমি বিনীতভাবে বললাম, এ অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হওয়া মোটেই উচিত হয়নি। কারণ চিকেন পক্সের ক্ষত যখন শুকাতে শুরু করে তখনই এটা ছড়াতে শুরু করে। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই রোগটি। ভদ্র মহিলা বললেন, স্যার স্কুলে শিক্ষকতা করি, তাই বাসায় বসে থাকি কি করে। এর পরের প্রশ্নটির উত্তর যা শিক্ষিকা দিলেন তাতে আমি রীতিমত উদ্বিগ্ন। অর্থাত্ তিনি চিকেন পক্সে আক্রান্ত অবস্থায় স্কুলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাদান করেছেন। আর এই সরলপ্রাণ শিক্ষিকার মাধ্যমে কতজন শিশু-কিশোরের মধ্যে মারাত্মক ছোঁয়াচে চিকেন পক্সের জীবাণু সংক্রমিত হয়েছে তা বলা যাবে না।
তবে মারাত্মক ছোঁয়াচে চিকেন পক্সের রোগীদের অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা নিতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল, চুলকানির জন্য এন্টি-হিস্টামিন এবং ইনফেকশন রোধের জন্য এন্টিবায়োটিক সেবন করা যেতে পারে। আর একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা এবং অন্তত ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। আর মনে রাখতে হবে, আক্রান্ত ব্যক্তির আসবাবপত্র, প্লেট, গ্লাস সব আলাদা রাখতে হবে। চিকেন পক্সের ক্ষত সম্পূর্ণ শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বাইরে বেরোনো যাবে না। অন্তত অন্যদের মধ্যে যাতে ভাইরাসটি না ছড়ায় তা দেখার দায়িত্ব রোগীরও কম নয়।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ