বিশ্বকাপ জার্মানিকে জিততেই হবে
প্রকাশ : ২২ মে ২০১৪, ২২:১৬
মাইকেল বালাক
সাঁইত্রিশ বছর বয়স; সব ঠিক থাকলে এখনো হয়তো ক্লাব ফুটবল খেলতেন; কিন্তু ইনজুরি যেভাবে পিছু নিয়েছিল, তাতে আগে-ভাগেই ফুটবলটা ছেড়ে দিতে হয়েছে। ইনজুরির জন্যই ২০১০ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি। এর আগে দলকে ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ও ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছিলেন সাবেক জার্মান অধিনায়ক মাইকেল বালাক।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক এই দলটির ওপর এবারের প্রত্যাশা, তাদের সম্ভাবনা নিয়ে বালাক কথা বলেছেন জার্মান দৈনিক ‘দ্য এক্সপ্রেস’-এর সঙ্গে:
মিস্টার বালাক, জোয়াখিম লো কী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারবেন?
সেটাই তার লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার আসলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিকল্প নেই। সে এই বিশ্বকাপ জিততে পারলো কি না, এ দিয়েই তাকে বিচার করা হবে। জার্মানিতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাশা আছে। এই প্রত্যাশা মোটেও অযৌক্তিক নয়। কারণ, এই দলটার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা আছে।
জোয়াখিম লোর চুক্তি ২০১৬ সাল পর্যন্ত। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, বিশ্বকাপে ফল যাই হোক, তিনি মেয়াদ শেষ করে যেতে চান। আপনার কী মনে হয়, বিশ্বকাপ না জিততে পারলে সেটা বাস্তব হবে?
এই চুক্তিটা বাড়ানো হয়েছিল, বিশ্বকাপের মধ্যে তার যাতে মনোসংযোগে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য। বিশ্বকাপের মধ্যেই চুক্তি শেষ হয়ে গেলে নানারকম বিরক্তিকর প্রশ্ন উঠতো। ফলে এটা ফেডারেশনের একটা ভালো সিদ্ধান্ত ছিল; কিন্তু আমার মনে হয়, লোর নিজেকে এতো নিশ্চিত ধরে নেয়া ঠিক হবে না। তাকে ফলাফল আনতে হবে।
আর যদি সে বিশ্বকাপ জিতে ফেলে?
(হাসি) তারপরও তাকে চাকরি ছেড়েই দিতে হবে মনে হয়। কারণ, বিশ্বকাপ জেতার পর আর কী উন্নতি করার থাকে!
ম্যানুয়েল নয়্যার ইনজ্যুরড, অধিনায়ক ফিলিপ লামও তাই। জার্মানি কি শুরুতেই একটু ব্যাকফুটে চলে গেল?
না। আমার মনে আছে- ২০০২ বিশ্বকাপে আমি মেটাটারসাল ইনজুরি নিয়ে গিয়েছিলাম; কিন্তু দল অসাধারণ ফুটবল খেলেছিল। ফলে আমরা ফাইনালে উঠতে পেরেছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফাইনালটা অবশ্য হেরে গিয়েছিলাম। ফলে কখনো কখনো দলের তারকাদের ইনজুরি বাকিদের থেকে বাড়তি পারফরম্যান্স বের করে আনতে পারে। আর আমি ওদের যতটুকু চিনি, বিশ্বকাপে পুরো শক্তি নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য লাম ও নয়্যার জীবন দিয়ে দেবে।
যদি কোনো কারণে নয়্যার খেলতে না পারে, কী হবে বলে মনে হয়?
এটা অনেক বড় একটা ধাক্কা হবে। ও এখন বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক। ওর বিকল্প পাওয়া কঠিন, ও একাই খেলার ভাগ্য ঠিক করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। নিতান্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওকে না পাওয়া গেলে রোমান ওইডেনফেলার অবশ্য ভালো বিকল্প। ওকে আমি যতদূর দেখেছি, ভালো লেগেছে।
লামের কী সেন্টার মিডফিল্ডে খেলা উচিত?
না। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে আমাদের ভালো অবস্থাই আছে। যদিও লাম এটা পছন্দ করবে না, তারপরও আমি মনে করি তার ডিফেন্সের বাম পাশেই খেলা উচিত। ওটাই আমাদের দুর্বল জায়গা। এই জায়গায় লাম সেরাটা খেলতে পারবে।
জার্মান দলটা কী আসলেই আপনার সময়ের মতো ভালো অবস্থায় আছে?
খেলার ধরন বদলে গেছে। এখন দলে টেকনিক্যাল দক্ষতাসম্পন্ন অনেক খেলোয়াড় আছে—গোটসে, রেউস, ওজিল। এদের মানও অনেক ভালো। তবে কী হয়, টানটান ম্যাচগুলোতে আপনার জেতার জন্য আলাদা একটা মানসিকতা লাগে; যেটার অভাব আমরা ইউরোপে ইতালির বিপক্ষে দেখেছি। এখন তো এদের অভিজ্ঞতাও হয়েছে। ফলে এখন তাদের বলতে হবে—এবার আমরা জিততেই যাচ্ছি।
বলা হয়, এরকম ম্যাচে, বড় ম্যাচে মেসুত ওজিল একটু লুকিয়ে থাকেন...
দেখুন, মেসুতের মধ্যে বিশ্বের যে কোনো দলে খেলার ক্ষমতা আছে; কিন্তু আপনি জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, হয়তো অনেক দলেরই একাদশেও সুযোগ পাবে না। ওর ওই ক্ষুধাটা সবাইকে বুঝিয়ে দিতে হবে। খেলা দিয়েই বোঝাতে হবে, আমার সামনে ছোট-বড় কেউ বাধা নয়। কোচকে বোঝাতে হবে, আমি খেলতে চাই, আমি জিততে চাই, আমি মাঠে লড়তে চাই।
শোয়েনস্টেইগারকে নিয়েও সমস্যা আছে। সে সব সময়ই ভুল পথে থাকলো। তাকে কী দলের বাইরে রেখে যাওয়া উচিত?
কখনোই না। বাস্তিয়ান ৯০ ভাগ ফিট থাকলেও তাকে খেলাতে হবে। এমন কিছু খেলোয়াড় থাকে, যে আপনার কথা শুনবে না; কিন্তু আপনি তাকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন না—বাস্তিয়ান তেমন খেলোয়াড়। ওর মধ্যে সেই ক্যারিশমা আছে, মাঠ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়ার ক্ষমতা আছে; বাস্তিয়ান একজন লিডার। তবে ওর ভালো লাগলে তবেই ভালো খেলবে।
কী বোঝাতে চাইলেন?
মানে ওর কোনো সমস্যা থাকলে ও নিজেই খেলতে চাইবে না। ও পেশাদার মানুষ। আর লো বছরের পর বছর ধরে বাস্তিয়ানকে চেনে। ও বুঝবে, কী করতে হবে।
এবার বিশ্বকাপে জার্মানদের সেরা তারকা কে হবে?
মারিও গোটসে। এখন পর্যন্ত আমার মনে হয়, এই প্রজন্মে ও আমাদের সেরা প্রাপ্তি। বিশ্বকাপে আমাদের সবচেয়ে বড় তারকা হতে পারে। শুধু ছন্দ খুঁজে পেতে ওর একটু সমস্যা হয়। সেটা ব্রাজিলে পাবে বলে আশা করি।