আরো পেছালো আবাহনী
প্রকাশ : ২২ মে ২০১৪, ২২:১৮
বাংলাদেশের রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু এএফসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলা পরিচালনা করেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার দক্ষতা নিয়ে প্রশংসা শোনা যায়। অথচ এই রেফারি ঘরের মাঠে খেলা চালাতে গিয়ে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন। আবাহনী শেখ রাসেলের গোলশূন্য ম্যাচে দুই দলই দুষলেন তাকে। দর্শকও ছাড় দিল না। দুই দলের কোচের একই কথা। ম্যাচটা নষ্ট করেছেন রেফারি।
শেখ রাসেলের অভিযোগ হচ্ছে ম্যাচের ১৮ মিনিটে ফাউলকে কেন্দ্র করে হাইতির প্যাসেকেল মিলিয়েনকে লালকার্ড দেন রেফারি। কিন্তু এটি লালকার্ড হওয়ার মতো ফাউল ছিল না। প্যাসকেলের লম্বা চুল ধরে পেছন থেকে টান দেন আবাহনীর ডিফেন্ডার মোফাজ্জাল হোসেন সৈকত। তাতে ক্ষিপ্ত হন প্যাসকেল। অপরদিকে সহকারি রেফারি নুরুজ্জামানের সাথে কথা বলে লালকার্ড দেন। বাদানুবাদ হয় রেফারি এবং শেখ রাসেলের খেলোয়াড়দের মধ্যে। সহকারি রেফারির দিকে ছুটে যান শেখ রাসেলের অধিনায়ক বিপ্লব এবং তার খেলোয়াড়রা। লালকার্ড জটিলতায় খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ৯ মিনিট।
সুযোগ পেয়েও গোল করে ম্যাচ জিততে পারলো না আবাহনী। শেখ রাসেলের ১০ জনের বিরুদ্ধে ৮০ মিনিট ফুটবল খেললেও ফলাফল গোল শূন্যই থাকলো। আবাহনী দুষলো রেফারিকে। আবাহনীর ইরানী কোচ আলী আকবর দাবী করেন রেফারি খেলাটা নষ্ট করেছে বলে, ‘গোলের সুযোগগুলো পেলেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে থামিয়ে দিয়েছেন।’ আবাহনী এই ড্রয়ে পয়েন্ট টেবিলে আরো পিছিয়ে গেলো। শীর্ষে থাকা শেখ জামালের পয়েন্ট ৩৮। আবাহনী পর পর দুটি ড্র করে পিছিয়ে গেলো। ১৭ খেলায় ৩৩ পয়েন্ট আবাহনীর। আগের ম্যাচে আবাহনী গোল শূন্য ড্র করেছিল শেখ জামালের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচেও শেখ জামালের খেলোয়াড় লালকার্ড পেয়ে মাঠ থেকে উঠে গিয়েছিল। ১০ জনের শেখ জামালের বিরুদ্ধে আবাহনী জয়ের সুযোগ নিতে পারেনি। কাল একই ঘটনা ঘটল। আবাহনী পিছিয়ে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মিডফিল্ডার প্রাণতোষ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো পুষিয়ে নিতে। আসলে আমরা স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছি না।’
লালকার্ডের আগে খেলার শুরুটা ভালোই হয়েছিল। উত্তাপ দেখা যাচ্ছিল। লালকার্ডের পর শেখ রাসেলের খেলোয়াড়রাও আবাহনীর হালকা আঘাতের সুযোগে মাটিতে পড়ে রেফারিকে বোকা বানাতে চেয়েছিলেন। যদি রেফারি আবাহনীকেও লালকার্ড দেয় সেই আশায়। কিন্তু তৈয়ব হাসান দ্বিতীয়বার ফাঁদে পা দেননি।
শেখ রাসেল শ্রীলঙ্কায় ভালো খেললেও ঢাকায় এসে সুবিধা করতে পারছে না। তার কারণ জানতে চাইলে কোচ দ্রাগান দুকানোভিচ বললেন, ‘আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা শ্রীলঙ্কা জয় করে এসে মনে করছেন অনেক কিছু করে ফেলেছি। তাছাড়া আমাদের দলে কিছু ইনজুরি রয়েছে। খেলছি তের-চৌদ্দজন নিয়ে।’
ইউরোপীয় এই কোচ খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে যাওয়ার সময় আবাহনী গ্যালারির দর্শকরা তাকে উত্তেজিত করে। কোচও দর্শকদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলে গোলকিপার বিপ্লব তাকে সরিয়ে নিয়ে যান।