‘খাদ্যে ভেজাল রোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ’
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৪, ২১:৪৩
খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ প্রতিরোধে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী ও তরুণরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ আহবান জানানো হয়। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশা ও বয়সের নাগরিকদের উদ্যোগে ও অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, বাজারে এখন বিশুদ্ধ খাবার নেই বললেই চলে। বাজারে খাদ্যের অভাব না থাকলেও, ভেজালমুক্ত খাবারের তীব্র সংকট। ভেজাল খাবার খেয়ে সব শ্রেণির মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এমনিতেই দেশে নাগরিক সুবিধা কম। এর উপর বিশুদ্ধ খাবারের তীব্র সংকট আমাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। ভেজাল প্রতিরোধ করতেই হবে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা তারেক আলী বলেন, সকলের সচেতনতাই ভেজাল খাবার বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ হতে পারে। কৃষক এবং বিক্রেতা পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করতে পারলে ভেজালের ঝুঁকি অনেকটাই দূর হয়ে যায়। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে উদ্যোগী ও আন্তরিক হতে হবে। সকলকে নিজেদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিতেই আমরা সড়কে দাঁড়িয়েছি।
গৃহিনী শাম্মি আকতার বলেন, ভেজাল খাদ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ফরমালিন ও কেমিক্যালযুক্ত খাবার খেয়ে আমাদের অসুখ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক কেউই পুষ্টি পাচ্ছে না বরং বিষ খাচ্ছে।
শিক্ষার্থী নাহার আমিন বলেন, উন্নত বাংলাদেশের জন্য সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ দরকার। ভেজাল খাবার খেয়ে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই যে কোনো উপায়ে ভেজাল প্রতিরোধ করতেই হবে।
মানববন্ধনের উদ্যোক্তারা জানান, এ কর্মসূচি সচেতন নাগরিকদের একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। দেশে আশঙ্কাজনক হারে খাদ্যে ভেজাল ও দূষিত খাবারের প্রকোপ বাড়ায় আমরা সোচ্চার। ভেজাল ফল, সবজি, মাছ-মাংস, পোল্ট্রি, মশলা যেন বাজারে বিক্রি না হয় তা ধীরে ধীরে নিশ্চিত করতে হবে। ভোক্তা ও আমদানিকারদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
উদ্যোক্তারা জানান, ভেজাল বিরোধী এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা সরকারের কাছে একটি দাবিনামা পেশ করবেন।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন আজরা সেলিম, নওশীন খায়ের, মানিজা হোসেন, জিসান খান, মারুফ আলম, পাভেল মাহমুদ ও ধ্রুব।